‘আমাদের সমর্থকদের ভয় দেখানো হচ্ছে’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে তাঁর দলের সমর্থকদের ভয় দেখানো হচ্ছে। রংপুরে আজ সোমবার দুপুরে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ চালাতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির মহাসচিব আজ দুপুরে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামেন। রংপুর সিটিতে ঢোকার পর দলীয় প্রার্থী কাওসার জামানের পক্ষে একাধিক পথসভায় অংশ নেন তিনি। বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়। এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। বৃহত্তর বিরোধী দল নির্বাচনে আসুক—এই সরকার তা চায় না। তাঁরা চায় একক রাজত্ব কায়েম করতে।’

সমর্থকদের ভয় দেখানোর অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘রংপুর সিটির নির্বাচনে আমাদের দলের সমর্থকদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। যতই হুমকি দেওয়া হোক, দলের নেতা-কর্মীরা মাঠ ছেড়ে যাবে না। আমরা দেখতে চাই, সরকার এই নির্বাচনে কী করে। এর ওপর আমাদের দলের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালান। শহরের সিও বাজার, মেডিকেল মোড়, কাচারি বাজার, সিটি বাজার, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, প্রেসক্লাব এলাকা, গ্রাউন্ড হোটেল মোড়সহ মোট আট কিলোমিটার এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালান। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় ও রংপুর মহানগর কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আগামী বৃহস্পতিবার রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে। এখন চলছে নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়। স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি গণসংযোগে নেমে পড়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও। ভোট গ্রহণ শুরুর ৩২ ঘণ্টা আগে প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাবে।

তুর্কি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খালেদার বৈঠক মঙ্গলবার সন্ধ্যায়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে দুই দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় আসছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।

চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান সোমবার সন্ধ্যায় এ তথ্য জানিয়েছেন। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও কূটনৈতিক টিমের কয়েকজন নেতা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

সফরে রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন তুর্কি প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে তুর্কি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেন্টার থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯ থেকে ২০ ডিসেম্বর তুর্কি প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সফরে প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বাংলাদেশের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের একাধিক বৈঠকে অংশ নিবেন বলে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, তার সফরে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে যে সম্পর্ক রয়েছে তা ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হবে। এছাড়াও, আঞ্চলিক বিষয়, বিশেষত রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে মত বিনিময় করা হবে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় তার সরকারি বৈঠকের পর কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাবেন তিনি।

গত ২৫ আগস্ট মায়ানমারের সামরিক বাহিনী ও বৌদ্ধ জঙ্গিদের পৈশাচিক নির্যাতন আর গণহত্যার মুখে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে ইলদিরিম যেখানে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। একই সঙ্গে তিনি কক্সবাজারের নিয়োজিত মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেয়া আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার পাশাপাশি তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা (টিআইকেএ), তুর্কি দুর্যোগ এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএফএডি) এবং তুর্কি রেলিজিয়াস অধিদপ্তরের কার্যক্রম ঘুরে দেখবেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে বেশ কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১১ সদস্য নিহত হয়। এরপর সন্ত্রাস দমনের নামে রাখাইনে অভিযান শুরু করে মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। প্রাণ বাঁচাতে ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে।

কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, রাখাইনে ১০০ কিলোমিটার এলাকা আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে।

৯২ শতাংশ রোহিঙ্গাই বলেছে, সেনা অভিযানের সময় তারা চরম নিপীড়নের শিকার হয়েছে অথবা অন্যকে নিপীড়িত হতে দেখেছে। হত্যা, ধর্ষণ আর অগ্নিসংযোগ ছাড়াও রাখাইনের রোহিঙ্গা গ্রামগুলোয় অভিযানের সময় ডাকাতি ও লুটতরাজের ঘটনাও ঘটেছে।

এ ছাড়া গ্রেপ্তার আর ধরপাকড় তো নিয়মিত ঘটনা ছিল। কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই পুলিশ আর সেনারা যাকে খুশি তাকে ধরে নিয়ে যেত। এভাবে নিখোঁজ হওয়া অনেকেই এখনো পরিবারের কাছে ফিরে আসেনি বলে জানায় রোহিঙ্গারা। এসব ছাড়াও কারফিউ এবং চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ তো ছিলই।

rtnn

Check Also

জাতীয় সরকার নিয়ে হঠাৎ আলোচনা কেন?

প্রথমে জাতীয় সরকারের প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেছিলেন গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin