ershadh_khaleda

জাপা-বিএনপি জোট: বিএনপি রংপুর সিটি মেয়র জাপাকে ছেড়ে দিচ্ছে?

রংপুর সিটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ওয়াকওভার দিচ্ছে বিএনপি। গত দুই দিনে এই গুঞ্জন দাঁড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। আগামী নির্বাচনে সমঝোতার প্রথম শর্ত পূরণের জন্যই বিএনপির এমন ছাড় বলে মনে করা হচ্ছে।

একাধিক সূত্র বলছে, এরশাদসহ জাপা নেতাদের সঙ্গে আড়ালে সমঝোতা হয়েছে বিএনপির। জাতীয় নির্বাচনে জাপাকে জোটে চায় তারা। তবে এজন্য রংপুর সিটি নির্বাচনে বিশেষ সুবিধা দাবি করেছে জাপা।

রংপুর সিটি নির্বাচনকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে নিয়েছে এরশাদ। যেকোনো মূল্যে জাপার প্রার্থীর জয় চান তিনি। আর তাই পরবর্তী যেকোনো স্যাক্রিফাইসে আপাতত তাঁর আপত্তি নেই। এটাকেই টোপ হিসেবে নিয়েছে বিএনপি।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটে থাকবে এই আশায় রংপুর সিটি জাপাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

অবশ্য বিএনপির এমন সিদ্ধান্তের প্রতিফলন এরই মধ্যে দেখা যাচ্ছে রসিক নির্বাচনের মাঠে। বিএনপির প্রার্থী কাওসার জামান বাবলার পক্ষে প্রচারণার কথা ছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের। গত শনিবারই তাঁদের রংপুর যাওয়ার কথা ছিল। তবে এখনো মাঠে দেখা যায়নি তাঁদের।

বিএনপি ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রসিক নির্বাচনে দলের প্রচারণা হবে লো প্রোফাইল। আর শেষ মুহূর্তের সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না, এমন অভিযোগে সরে দাঁড়াতে পারেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী বাবলা। আর এমনটি ঘটলে রসিক নির্বাচনে জাপার জয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাবে।

তবে এখানে বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন অন্য বিষয়ে, এরশাদের জাপার ভরসায় রংপুর সিটি ছেড়ে দিলেও জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির আশা কি পূর্ণ হবে?

যে এরশাদের ওপর বিএনপি ভরসা রাখছে, তিনি কি ভরসাযোগ্য? গত দুবারের জাতীয় নির্বাচন থেকে বিএনপির কি কোনো শিক্ষাই নিতে পারেনি?

shompadok. com

ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে বিএনপির বিক্ষোভ

হোল্ডিং ট্যাক্স, গ্যাস, বিদ্যুৎ, চাল, ডাল, পেঁয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপির নেতাকর্মীরা। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের একাধিক থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাধা দিয়ে ঢাকা দক্ষিণ বিএনপি নেতা নূর মোহাম্মদ, হুমায়ুন, সোনা মিয়াসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। লালবাগ থানার বিএনপি নেতা রাসেলসহ পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

ধানমন্ডি থানার থানার একটি বিক্ষোভ মিছিল ধানমন্ডি ১৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শুরু হয়ে মধুবাজার গিয়ে শেষ হয়। মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিএনপি নেতা শাহাদৎ হোসেন সৈকত, লুৎফর রহমান, হানিফ হাওলাদার, শামীম, আবুল প্রমুখ। গ্রিন রোডে কলাবাগান থানার বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন মহানগর বিএনপির সহসভাপতি সিরাজুল ইসলাম, স্থানীয় বিএনপি নেতা মুনীর হোসেন কামাল, শাহ আলম সৈকত প্রমুখ।

ডেমরা থানার একটি বিক্ষোভ মিছিল স্টাফ কোয়াটার থেকে শুরু হয়ে মীরপাড়া সিএনজি পাম্পে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন মোফাজ্জল হোসেন, হাসেম আক্তার, সুফিয়ান প্রমুখ। মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নানের নেতৃত্বে শাহবাগ থানার একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর মুক্তাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে জিরো পয়েন্ট এলে পুলিশী বাধার মুখে শেষ হয়।

মিছিলে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন রফিকুল ইসলাম স্বপন, আবু সুফিয়ান, তোহিদুল ইসলাম বাবু, সাইফুল ইসলাম সাইফুল, রাইসুল ইসলাম চন্দন, সামসুদ্দিন ভূঁইয়া, হযরত আলী প্রমুখ।

শাহবাগ থানা বিএনপির ২০নং ওয়ার্ড একটি বিক্ষোভ মিছিল মহানগর বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা মেডিক্যালের সামনে থেকে শুরু হয়ে দোয়েল চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

মিছিলে অংশ নেন জাহিদ হোসেন নোয়াব, মোরশেদ আলম, হারুনুর রশীদ, গোলাম সরোয়ার অপু, মাইজ উদ্দিন মাইজু, বিল্পব উল হক বিল্পব, খন্দকার মাহমুদ হোসেন, আনোয়ার হোসেন, ইউসুফ আলী ফরাজী পিন্টু, মোঃ বাবুল, তুষার, রকিব, শহীদুল ইসলাম, নওয়াব আলী, সাজু প্রমুখ।

মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে সুত্রাপুর থানার একটি মিছিল রায় সাহেব বাজার মোড় থেকে শুরু হয়ে ন্যাশনাল হাসপাতালের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণ করেন আক্তার হোসেন, মহসীন কাল্লু, রেজাউল ইমন, তানভীর খান, কাজী কাইউম, অ্যাডভোকেট ফয়েজ, সবুজ, শাকিল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

লক্ষ্মীবাজার এলাকায় সুত্রাপুর থানার অন্য একটি বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন মজিবর রহমান আনু, নুরুল ইসলাম সেন্টু, দোলেয়ার হোসেন মোল্লা, ফরিদ মিয়া, সাব্বির উদ্দীন প্রমুখ। ওয়ারী থানার একটি বিক্ষোভ মিছিল র‌্যাংকিন স্ট্রিট থেকে শুরু করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিসিসি রোডে শেষ হয়। ইব্রাহীম মোল্লার নেতৃত্বে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এতে অংশ নেন।

খিদমাহ হাসপাতালের সামনে থেকে খিলগাঁও থানার একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পল্লীমা সংসদে গিয়ে শেষ হয়। মহানগর বিএনপি নেতা ইউনুস মৃধার নেতৃত্বে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মিছিলে অংশ নেন। মহানগর বিএনপির সহসভাপতি মোশারফ হোসেন খোকনের নেতৃত্বে লালবাগ থানার একটি বিক্ষোভ মিছিল চকবাজার মোড় থেকে শুরু হয়ে কিছুদুর অগ্রসর হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এখানে বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হুমায়ুন, সোনামিয়াসহ ৫/৬ জন আহত হয়। পুলিশ বিএনপি কর্মী রাসেলসহ চারজনকে আটক করে। যাত্রাবাড়ী থানার মিছিল শহীদ ফারুক সড়ক থেকে শুরু করে কিছুদূর অগ্রসর হলে পুলিশী বাধার মুখে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্বে দেন মিজানুর রহমান ভান্ডারী, আনোয়ার সর্দার, ইসহাক, তালুকদার আশরাফ উদ্দীন খান প্রমুখ।

মহানগর বিএনপির সহসভাপতি মীর হোসেন মীরুর নেতৃত্বে কদমতলী থানার মিছিল জুরাইন রেলগেট থেকে শুরু করে ধোলাইপাড় মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে বিএনপি নেতা জুম্মন মিয়া, বাদল রানা প্রমুখ অংশ নেন। বংশাল থানা বিএনপির একটি মিছিল আল রাজ্জাক হোটেলের সামনে থেকে শুরু হয়ে সুরিটোলা স্কুলে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিএনপি নেতা নজিবুল্লাহ, মঈন, শহীদুল প্রমুখ।

কোতয়ালি থানার একটি বিক্ষোভ মিছিল ওয়াজঘাট থেকে শুরু হয়ে পাটুয়াটুলী গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশ নেন মোশারফ হোসেন রিপন, মোল্লা সাইফুল, হিরু, সিরাজ প্রমুখ। কামরাঙ্গীর চরে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন আওলাদ হোসেন, পারভেজ মিয়া প্রমুখ। শ্যামপুর থানার বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন আব্দুল মান্নান, মোঃ সালাউদ্দিন রতন, শামীম আহম্মেদ, আশরাফুল ইসলাম লিটন প্রমুখ।

এদিকে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির আলোকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে বেশ কয়েকটি থানায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। বাড্ডা লিংক রোডে বাড্ডা থানার বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন বিএনপি নেতা এজিএম শামসুল হক, মোঃ আবুল হোসেন, মাফুজুর রহমান, তহিরুল ইসলাম তুহিন প্রমুখ।

পল্লবী থানার মিছিলে নেতৃত্ব দেন মোঃ সাজ্জাদ ও বুলবুল মল্লিক। বসুন্ধরা ৩০০ ফিট এলাকায় খিলক্ষেত থানা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন মোঃ আক্তার হোসেন। শেরেবাংলা নগর থানা বিএনপির মিছিলে অংশ নেন সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, শাহ আলম, তোফায়েল আহম্মেদ প্রমুখ।

মিছিলটি স্কয়ার হাসপাতালের সামনে থেকে শুরু হয়ে সমরিতা হাসপাতালের সামনে গিয়ে পুলিশি বাঁধায় পণ্ড হয়ে যায়। এছাড়াও মোহাম্মদপুর, উত্তরখান, বিমানবন্দর, তেজগাঁও, উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, শাহআলী, মিরপুর, রূপনগর, দারুস সালাম, ভাষানটেক, দক্ষিণখান, তুরাগ, রামপুরা থানা বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে বলে জানিয়েছে মহানগর উত্তর বিএনপির দফতর।

dailynayadiganta

Check Also

‘হাজী’ পরিবারের বিস্ময়কর উত্থান

পিতার দুই সংসারের দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান তিনি। অভাব-অনটনে বেড়ে ওঠা। অর্থভাবে লেখাপড়া করতে পারেননি। কিশোর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin