বাংলাদেশ অধিনায়কের হ্যাটট্রিকের হ্যাটট্রিক

মেয়েদের লিগে টানা তিন ম্যাচে হ্যাটট্রিক করলেন জাতীয় দল ও বসুন্ধরা কিংসের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন।

ঘরোয়া ফুটবলে সাবিনা মুড়িমুড়কির মতো গোল করেন। বিষয়টা যেন রীতিতে পরিণত হয়ে গেছে। ২০১২ সালে প্রথম মেয়েদের লিগে শেখ জামাল ধানমন্ডির জার্সিতে ২৭ গোল করে হয়েছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে সেবার বা এর আগে কখনোই যে কাজটি করতে পারেননি বাংলাদেশের মেয়েদের জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক, এবার সে অর্জনটিই করেছেন সাবিনা।

প্রথমবারের মতো টানা তিন ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন ‘গোলমেশিন’ খ্যাত এই স্ট্রাইকার। আজ তাঁর হ্যাটট্রিকের কল্যাণেই নাসরিন স্পোর্টসকে ৯-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বসুন্ধরা কিংস।

এর আগে আনোয়ারা স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ১২-০ ও সিলেটের স্পার্টান গ্যালাকটিকো এফসির বিপক্ষে ১৩-০ গোলে বসুন্ধরার দুই জয়ের ম্যাচেও হ্যাটট্রিক করেছিলেন বসুন্ধরার এই অধিনায়ক। অর্থাৎ টানা তিন ম্যাচে সাবিনার পা থেকে এসেছে ৯ গোল।

আজ দলের হয়ে তৃতীয়, চতুর্থ ও আট নম্বর গোলটি করেছেন তিনি। প্রথম দুটি গোল ছিল দারুণ। ৪৩ মিনিটে প্রথম গোলটি ফ্রি-কিক থেকে। বাঁ প্রান্তে টাচলাইনের পাশ থেকে ফ্রি-কিক নিয়ে সরাসরি পাঠিয়ে দিয়েছেন জালে।

অবশ্য তাতে নাসরিন স্পোর্টসের গোলকিপার ইয়াসমিন আক্তারের দায়ও কম নয়। বলের ফ্লাইট মিস করেন এই গোলকিপার। ৫ মিনিট পর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সাবিনার দ্বিতীয় গোলটির সময়ে অবশ্য চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না ইয়াসমিনের। বক্সের বাইরে থেকে সাবিনার ডান পায়ের জোরালো শট দূরের পোস্ট দিয়ে জালে। ৮৮ মিনিটে সাবিনার হ্যাটট্রিক পূর্ণ করা গোলটি তুলনায় সাদামাটা।

বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবলে অনেক প্রথমের সঙ্গে জড়িয়ে সাবিনার নাম। বাংলাদেশের প্রথম নারী ফুটবলার হিসেবে বিদেশে পেশাদার লিগ খেলেছেন। মালদ্বীপেই খেলেছেন তিনবার। ভারতের মেয়েদের লিগের দল সেথু এফসির হয়ে খেলেছেন। সেবার লিগে ৭ ম্যাচে ১১ গোল করে সেথু এফসি, এর মধ্যে ৬ গোলই সাবিনার। ঘরোয়া লিগে এর আগে অনেক হ্যাটট্রিক-ডাবল হ্যাটট্রিকও আছে সাবিনার। তবে এবার টানা তিন ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার আনন্দটাই সাবিনার কাছে আলাদা, ‘এর আগে তো অনেক হ্যাটট্রিক আছে। তবে এবারই প্রথম টানা তিন ম্যাচে হ্যাটট্রিক করলাম। এটা অবশ্যই অন্যরকম কিছু।’ প্রথমবারের লিগের ২৭ গোলকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

অধিনায়কের হ্যাটট্রিকের দিনে জোড়া গোল করেছেন ফরোয়ার্ড তহুরা খাতুন (৪১ ও ৫৭ মিনিট) ও কৃষ্ণা রানী সরকার ( ৫১ ও ৯৩ মিনিট)। একটি করে গোল করেছেন সানজিদা আক্তার (৮৩ মিনিট) ও আঁখি খাতুন (৪ মিনিট)। অর্থাৎ প্রথমার্ধে ৪ গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে বসুন্ধরা করেছে আরও ৫ গোল!

তবে ম্যাচটি একপেশে হবে এমনটা কারও ভাবনায় ছিল না। প্রথম ম্যাচে সিলেটের স্পার্টান গ্যালাকটিকোকে ১২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল নাসরিন স্পোর্টস। দ্বিতীয় ম্যাচেও পেয়েছিল ২-০ গোলের জয়। দলটিতে প্রায় ১২ জন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ক্যাম্পে থাকা ফুটবলার আছেন। অধিনায়ক রাজিয়া খাতুন ও ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমা জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য। অথচ আজ বসুন্ধরার সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে তাদের নিয়ে গড়া দল।

এত বড় ব্যবধানে হারবে, এটা ভাবনায় ছিল না দলটির কোচ মনির হোসেনেরও, ‘আমি ধরেই নিয়েছিলাম আমরা হারব। তবে এত বড় ব্যবধানে হারব, এটা ভাবিনি। আসলে আমাদের গোলকিপার নার্ভাস হয়ে পড়েছিল।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.