bangladesh-vs-srilanka-live-streaming

Bangladesh vs Srilanka Live | Ban vs Sl Live | GTV Live | 1st Test Live

হার এড়াতে লড়ছে বাংলাদেশ

পঞ্চম দিনে ব্যাট করা সাধারণত ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন হয়ে যায়। এরই মধ্যে আগের দিন শেষ সেশনে তিন উইকেট হারিয়ে অনেকটা চাপে টাইগাররা। তবে এর মধ্যে আশার আলো মুমিনুল হক। তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান লিটন দাস। দুইজনের ব্যাটে একশ পাড় করেছে বাংলাদেশ দল।

নিচের ভিডিওতে ক্লিক করে খেলা দেখুন সরাসরি ↓

পঞ্চম দিনে ব্যাট করা সাধারণত ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন হয়ে যায়। এরই মধ্যে আগের দিন শেষ সেশনে তিন উইকেট হারিয়ে অনেকটা চাপে টাইগাররা। তবে এর মধ্যে আশার আলো মুমিনুল হক। তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান লিটন দাস। দুইজনের ব্যাটে একশ পাড় করেছে বাংলাদেশ দল।

এর আগে চতুর্থ দিনে ২০০ রান পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নেমে ইমরুল আর তামিমের সাবধানি সূচনাটা অনেকেরই হয়তো ভালো লেগে থাকবে। কিন্তু টেস্টে ধৈয্যের পরিচয় তো সহসা আউট হওয়ার মধ্যে নয় কিংবা বিপজ্জনক শট খেলার মধ্যেও নয়।

এই চিন্তাটা উদয় হচ্ছে না বলেই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা বারবার আত্মাহুতি দিয়ে যাচ্ছেন। যেখানে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ট্র্যাক রেকর্ড খুব একটা ভালো নেই, সেখানে কেন বিপজ্জনক শট খেলে উইকেট হারিয়ে আসবে? ইমরুল কায়েস আর তামিম ইকবাল তো সে কাজই করলেন।

চট্টগ্রামের উইকেট যে পুরোপুরি ব্যাটিং বান্ধব সেটা তো লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা প্রমাণ করেই ছেড়েছেন। সেখানে তামিম আর ইমরুলের সাবধানি শুরু এবং রান করাতে অবাক করার কিছুই নেই। কিন্তু হঠাৎই ধৈয্যহারা হয়ে পড়লেন ইমরুল কায়েস। দিলরুয়ান পেরেরার বলে স্কোয়ার লেগে শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিলেন ইমরুল। সেখানে দাঁড়ানো দিনেশ চান্ডিমালের হাতে অতি সহজেই তালুবন্দী হয়ে যায় বলটি। ১৯ রান করে ফিরে যান ইমরুল।

মুমিনুল হককে আরও ধৈয্যশীল এবং সাবধানি মনে হচ্ছিল তামিম ইকবালকে। এ দু’জনের জুটি চেষ্টা করছিল প্রাথমিক বিপর্যয়টা কাটিয়ে উঠতে। তবে লঙ্কান স্পিনারদের বলে বেশ সতর্কতার সঙ্গে খেলতেও হচ্ছিল বাংলাদেশকে। তবে, ইনিংসের ২২তম ওভারে লক্ষ্মণ সান্দাকানের অফ স্ট্যাম্পে থাকা বলটিকে পুশ করতে চেয়েছিলেন তামিম। অন্য যে কোনো স্পিনারের চেয়ে সান্দাকানের বলের গতি একটু বেশি এবং স্কিডও করে ভালো। ফলে, টাইমিংটা ঠিক মতো হলো না। ফল, ব্যাটের উপরের কানায় লেগে বল গিয়ে জমা পড়লো উইকেটরক্ষকের হাতে।

২৭তম ওভারের ৫ম বলে রঙ্গনা হেরাথের ঘূর্ণির কবলে পড়েন মুশফিকুর রহীম। হেরাথের বলটি একেবারে পুরোপুরি ডিফেন্সিভ খেলেছিলেন মুশফিকুর রহীম। কিন্তু ভাগ্য তার এতটাই খারাপ, বল ব্যাটে লেগে তার ক্যাডসের উপরের অংশে লেগে চলে যায় ক্রিজ ঘেঁষে সিলি পয়েন্টে দাঁড়ানো কুশল মেন্ডিসের হাতে। আম্পায়াররা প্রথমে সন্দিহান ছিলেন আউট হয়েছে কি না তা নিয়ে। তবে, থার্ড আম্পায়ারের সহযোগিতা নেয়ার পর দেখা গেলো আউট হয়ে গেলেন মুশফিক। এরপরই দিনের খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৫১৩ রান। মুমিনুল ১৭৬, মুশফিক ৯২ এবং মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ছিলেন ৮৩ রানে। জবাব দিতে নেমে শ্রীলঙ্কা ৯ উইকেটে ৭১৩ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। ১৯৬ রান করেন কুশল মেন্ডিস, ১৭৩ রান করেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা এবং ১০৯ রান করেন রোশেনা সিলভা।

দলের স্কোরটা আরও বড় হলে এবং তাতে আরও বড় অবদান রাখতে পারলে ভালো লাগতো মুমিনুলের। তিনি বলেন, ‘আরও বেশি না, হয়তো দলের জন্য আরও কিছুটা অবদান রাখতে পারলে ভালো লাগত। এই আর কী। যতটুকু করতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আরও একটা সেশন খেলতে পারলে ভালো লাগত, আলটিমেটলি এটা তো দলের জন্য খেলা।’

ডাবল সেঞ্চুরিটা করার জন্য বাড়তি কোনো চেষ্টা ছিল কি না। এ প্রশ্নের জবাবে মুমিনুল বলেন, ‘না, ওইরকম কোনো চিন্তা ভাবনা ছিল না। আগে যেসব টেস্ট খেলেছি, ৬০-৭০-৮০ করেছি আউট হয়েছি বার বার। আমার নিজের কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল আমি বড় স্কোর করব। দলের সবাই সমর্থন দিয়েছে, আপনারাও সমর্থন দিয়েছেন।’

তবে ডাবল সেঞ্চুরি না হওয়াটাকে দুর্ভাগ্যও বলতে নারাজ মুমিনুল। তিনি বলেন, ‘না, তা বলব না। এরকম বলব না। হয়তো এমন বল হতেই পারে, আমি একটু বেশি ক্যাজুয়াল ছিলাম। আমার কাছে এটাই মনে হয়।’

যদি ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারতেন, তাহলে বাংলাদেশের রান ৬০০ প্লাস হয়ে যেতো বলে মনে করেন মুমিনুল। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমার আউটই ঝামেলা ছিল। এসব উইকেটে আপনি যখন ১৭০ করবেন সবাই মনে করবে আপনি আরও এক দুই সেশন ব্যাট করবেন। আমি যদি এক সেশন ব্যাট করে লাঞ্চ করতে যেতে পারতাম তাহলে ৬০০+ হয়ে যেত।’

নিচের ভিডিওতে ক্লিক করে খেলা দেখুন সরাসরি ↓

নিজের ইনিংস নিয়ে কতট সন্তুষ্ট মুমিনুল? তিনি বলেন, ‘অবশ্যই সন্তুষ্ট। আপনি যখনই একটা বড় ইনিংস খেলবেন…, আমি যদি বলি আমি সন্তুষ্ট না তাহলে ভুল বলা হবে। আমি যতটুকু খেলেছি আমার কাছে ভালো লেগেছে। যতটুকু হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ, হয়তো আরেকটা সেশন খেলতে পারলে ভালো লাগত।’

মুমিনুল মনে করেন, যদি আর একটা সেশন খেলা যেতো, তাহলে নিশ্চিত ২০০ হয়ে যেতো। তবুও তিনি ব্যাটিংয়ে সেশন বাই সেশন ফোকাস করতে চান। মুমিনুল বলেন, ‘দেখেন, দেড়শ থেকে দুইশ করতে গেলে সেশন বাই সেশন খেলা লাগে। আগে যে ভুলটা হয়েছে আমার মনে হয়েছে আমি হয়তো নিজের জন্য খেলেছি। বিশেষ করে ৭০-৮০ তে যাওয়ার পর। ওই জিনিসটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেছি। এখন সেশন বাই সেশন ফোকাস করেছি। তাহলেই অটোমেটিক আপনার দেড়শ হবে। আজকে আমি প্রথম সেশনটা যদি খেলতে পারতাম তাহলে হয়তো ২০০ হয়ে যেত। আমি সেশনের দিকেই ফোকাস করেছি।’

উইকেটে কেমন স্পিন হচ্ছে? আগামীকাল কেমন হবে? এমন কিছু জানতে চাইলে মুমিনুল বলেন, ‘এখন একটু স্পিন হচ্ছে। লাস্ট স্পেল তাইজুল ভালো করেছে, নয়ন ভাইও ভালো বল করছে। আমার মনে হয় কালকে বেশি স্পিন ধরবে।’

ব্যাট হাতেই হাথুরুকে সমুচিত জবাব মুমিনুলের

চা বিরতির মিনিট ১৪ আগের কথা। হঠাৎ চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অন্যরকম প্রাণ চাঞ্চল্য। লঙ্কান স্লো লেফট আর্ম চায়নাম্যান বোলার লক্ষ্মণ সান্দাকানের বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে সোজা তুলে দিলেন মুমিনুল হক। বোলারের মাথার ওপর দিয়ে বল চলে গেল লংঅনের ওপারে।

তাতেই ৯৩ থেকে ৯‘তে পৌছে পৌছে যাওয়া। এমন অবস্থায় অনেকেই একটু সময় নেন। ধের্য্য ধরে অপেক্ষায় থাকেন আলগা ডেলিভারির; কিন্তু মুমিনুল তা করলেন না। ঠিক পরের বলেই কভার ও এক্সট্টা কভারের মধ্য দিয়ে সজোরে হাঁকিয়েই প্রান্ত বদলের উদ্দেশ্যে দৌড় শুরু করলেন। বল এক্সট্টা কভার দিয়ে সীমানার ওপারে যেতেই উল্লাসে ফেটে পড়লেন মুমিনুল।

ব্যক্তি জীবনে একদমই শান্তশিষ্ট মুমিনুলের হাঁটা-চলা। অভিব্যক্তির মাঝেও কেমন যেন একটা ধীর-স্থিরভাব। সাফল্যে উদ্বেলিত হন না। আবার ব্যর্থতায়ও থাকেন ভাবলেশহীন। ব্যাট হাতে পঞ্চাশ কিংবা শতরান পুরণের পরও তার অভিব্যক্তি ওরকমই থাকে।

আনন্দ-উল্লাস করেন না বললেই চলে; কিন্তু আজ এক অন্যরকম অভিব্যক্তি-শতরান পুরণের সঙ্গে সঙ্গে এক হাতে ব্যাট ধরে অন্য হাত ঝাঁকি দিয়ে বারবার উল্লাসে মেতে উঠলেন। দর্শক অভিবাদনের জবাব দিলেন ব্যাট তুলে ধরে।

নিজ ড্রেসিং রুমের দিকে ব্যাট ছুড়ে মারার ভঙ্গি করলেন অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি সময় ধরে। ব্যাটটা আর কোন দিকে তাক না করেও আরও খানিক্ষণ ঝাঁকুনি দিলেন। টিভির পর্দায় দেখা মিললো সম্পূর্ণ এক ভিন্ন মুমিনুলের। শক্ত চোয়াল আর মুখায়বে অন্যরকম দৃঢ়তা।

বার বার মনে হলো কাকে যেন বলতে চাইলেন, ‘দেখো, আমার সামর্থ্য আছে কি না? আমি পারি কি না? আমি পারি। পেরেছি। দেখেছো? মুমিনুলের ওই ইস্পাত কঠিন অভিব্যক্তি আর অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি উচ্ছাস-উল্লাস আর আনন্দ কী তাহলে প্রতিপক্ষের ড্রেসিং রুমে বসা চন্ডিকা হাথুরুসিংহের উদ্দেশ্যে?

এই প্রশ্ন সবার। মুমিনুল এমন আবেগপ্রবণ হতেই পারেন। তার উল্লাসের ধরণটা ভিন্ন হতেই পারে। রুঢ় হলেও কঠিন সত্য- বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান মুমিনুল সাবেক কোচ হাথুরুসিংহের প্রীতিভাজন ছিলেন না।

নিচের ভিডিওতে ক্লিক করে খেলা দেখুন সরাসরি ↓

এ দেশের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল উইলোবজ হওয়া সত্ত্বেও হাথুরু কেন যেন মুুমিনুলকে সেভাবে পছন্দ করতেন না। শুধু মুমিনুলের কথা বলা কেন, সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম আর নতুন টেস্ট ক্যাপ্টেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও হাথুরুর বিমাতাসূলভ আচরণের শিকার হয়েছেন।

বিশেষ করে হাথুরুসিংহের ইচ্ছে ও কারসাজিতে গত বছর মার্চে দেশের হয়ে শততম টেস্ট খেলা হয়নি মুমিনুল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। মুমিনুল অফস্পিনের বিপক্ষে ভাল খেলতে পারেন না। শ্রীলঙ্কার লাইন-আপে বাঁ-হাতি রঙ্গনা হেরাথের সাথে ডানহাতি অফব্রেক বোলার থাকবে, পেস বোলিংয়ের বিপক্ষেও নাকি তার সমস্যা হয়। শর্ট বলতে পারেন না- এমন ধোয়া তুলে মুমিনুলের মত টেস্ট স্পেশালিস্টকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়ার একটা প্রেক্ষাপট তৈরি করে ফেলেছিলেন হাথুরু।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শততম টেস্টই শুধু নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও সুযোগ পাননি মুমিনুল। সাবেক কোচের রোষানলে পড়েই টেস্ট দল থেকে অবস্থান হারিয়েছিলেন এ বাঁ-হাতি।

মাহমুদউল্লাহও হাথুরুর অবহেলার শিকার। তাকেও কলম্বোয় গত বছর ১০০ নম্বর টেস্টে খুব কায়দা করে বাদ দিয়েছিলেন হাথুরু। মোট কথা, তাদের সাথে হাথুরুর আচরণ ছিল সৎ মায়ের মত।

বোঝাই গেছে তিনি মুমিনুলকে সেভাবে পছন্দ করতেন না। তাদের বাইরে রেখে দল সাজানোর চিন্তা ছিল মাথায়। কখনো কোন ঠুনকো ও ছোট-খাট অজুহাত পেলে একে ওকে দলের বাইরেও ঠেলে দিতে কার্পণ্য করেননি হাথুরু।

তবে এখন পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহ-মুমিনুলের কেউ সরাসরি হাথুরুর উদ্দেশ্য করে কিংবা ইঙ্গিতেও কিছু বলেননি। মোটকথা, মুমিনুল, মাহমুদউল্লাহ আর মুশফিকের আচরণ ও কথা শুনে মনে হয়নি তারা চন্ডিকা হাথুরুসিংহের ওপর ক্ষুব্ধ। তার বিপক্ষে সোচ্চার। তাকে দেখিয়ে দিতেও মুখিয়ে আছেন।

বরং সবাই কম বেশি সহিষ্ণু আচরণ করেছেন। যতটা সম্ভব ভক্তি, শ্রদ্ধা ও সম্মান নিয়েই কথা বলেছেন। মুখে কোন তীর্যক মন্তব্য না করলেও ভিতরে ভিতরে মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহীম আর মুমিনুল হক যে তেতে ছিলেন, তার জ্বলন্ত প্রমাণ মুমিনুলের এমন আবেগময় উচ্ছাস, উল্লাস।

সাবেক কোচের অবহেলা, অনাদরের সমুচিত জবাব দেয়া ছাড়াও আজ শতরানের পর মুমিনুলের আবেগ-উচ্ছাস বেশি থাকার একটা যৌক্তিক কারণও আছে। রান খরায় না ভুগলেও মাঝে চার বছর শতরানের দেখা মেলেনি। সর্বশেষ তিন অংকে পা রেখেছিলেন প্রায় চার বছর আগে ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর।

কাকতালীয়ভাবে শেষ শতরানটাও এই চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৭১ মিনটে ১৮৯ বলে ১৩ বাউন্ডারিতে ১৩১ রানে ছিলেন নটআউট। তারপর ২৩ ইনিংসে (একবার ব্যাট করেননি) সেঞ্চুরি ছিল না। এর মধ্যে পাঁচবার পঞ্চাশ থেকে আশির ঘরে (৮০, ৬৮, ৬৬, ৬৪ ও ৭৭) পা রাখলেও শতরান করতে পারেননি। সেঞ্চুরি অধরাই ছিল। অবশেষে আজ দুষ্প্রাপ্য হয়ে দাঁড়ানো সেই শতরানের দেখা মিললো তার ব্যাটে।

মাহমুদউল্লাহর হাফ সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের দিকে বাংলাদেশ

দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ফিরে গেলেন তিন ব্যাটসম্যান মুমিনুল, মোসাদ্দেক ও মিরাজ। তবে দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন মাহমুদউল্লাহ। সানজামুলকে সঙ্গে তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের পনেরতম হাফ সেঞ্চুরি। সানজামুলও ভালোভাবে সঙ্গ দিচ্ছে টাইগার এই অধিনায়ক। আর এ দুইজনের ব্যাটেই বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

নিচের ভিডিওতে ক্লিক করে খেলা দেখুন সরাসরি ↓

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেট হারিয়ে ৪৬৮ রান। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৫০ আর সানজামুল ২৩ রান নিয়ে ব্যাট করছেন।

দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি আগের দিন ব্যাট হাতে আলো ছড়ানো মুমিনুলও। মুশফিক-সাকিব-তামিমের পর দেশের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরির করা সুযোগ ছিল তার। তবে শুরুতেই বিদায় নেন বাঁহাতি এই টেস্ট স্পেশালিষ্ট ব্যাটসম্যান। বাঁহাতি স্পিনার হেরাথের লেগ স্টাম্পের বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দেন মুমিনুল। আগের দিনের ১৭৫ রানের সঙ্গে ১ যোগ করে সাজঘরে ফিরে যান টাইগার এই তারকা।

মুমিনুলের বিদায়ের পর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারলেন না চোখে সমস্যা কাটিয়ে অনেকদিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা মোসাদ্দেক। ব্যক্তিগত ৮ রানে হেরাথের বলে সান্দাকানকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা এই ব্যাটসম্যান।

শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেটে নেমে ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট করতে থাকে মিরাজ। ঝুঁকি নিয়ে তিন রান নিতে গেলে তার চড়া মাশুল দিতে হল মিরাজকে। হেরাথের স্পিন করে বেরিয়ে যাওয়া বল মাহমুদউল্লাহ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে পাঠান সীমানার কাছাকাছি। সহজেই দুটি রান নিলেও তৃতীয় রান নেওয়ার পথে ক্রিজে পৌঁছতে ঝাঁপিয়েছিলেন মিরাজ। কিন্তু লাহিরু কুমারার থ্রো পেয়ে নিরোশান ডিকভেলা বেলস ফেলে দেওয়ার সময় একটু দূরেই ছিলেন তিনি।

এর আগে টসে জিতে প্রথম দিন ব্যাট করতে নেমে শুরুটা বেশ ভালো করে বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল আর ইমরুল কায়েস উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৭২ রান। দিলরুয়ান পেরেরার দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে তামিম বোল্ড হন ৫২ করে।

এরপর ৪০ রানে ভুল এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়েছেন ইমরুল কায়েস। লক্ষ্ণ সান্দিকানের বলে আম্পায়ার আঙুল তুলে দিলে রিভিউ নেয়ার সাহস করেনি বাংলাদেশ। অথচ টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল স্ট্যাম্পের অনেক ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছিল।

ইমরুল ফেরার পর বড় জুটি গড়েছেন মুমিনুল হক আর মুশফিকুর রহীম। ৯২ রান করে সুরাঙ্গা লাকমলের শিকার হন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। তাদের জুটিটি ছিল ২৩৬ রানের। তবে এ জুটি ভাঙার পরই কিছুটা বিপদে পড়েছে টাইগাররা। দ্রুত বিদায় নেন লিটন দাস। তবে দিনের বাকি সময় মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে ভালোভাবেই পাড় করে মুমিনুল। তাতেই চট্টগ্রাম টেস্টে প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৩৭৪ রান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.