নয়া রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে মাশরাফি

দেশকে অনেক সাফল্যই এনে দিয়েছেন তিনি। গড়েছেন অনেক মাইলফলক। এবার আরেকটি অর্জনের সামনে মাশরাফি বিন মর্তুজা।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয় থেকে এক কদম দূরে দাঁড়িয়ে মাশরাফি বিন মর্তুজা। মঙ্গলবার ত্রিদেশীয় সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে জয় পেলেই বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি জয় পাওয়া অধিনায়ক হিসেবে রেকর্ড গড়বেন মাশরাফি।

ওয়ানডে ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে বর্তমানে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড রয়েছে সাবেক দলপতি হাবিবুল বাশার ও মাশরাফি। বাশার ৬৯ ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে ২৯টি ম্যাচে দলকে জিতিয়েছেন। অপরদিকে, ৫২টি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়ে টাইগারদের ২৯টি জয়ের স্বাদ দিয়েছেন মাশরাফি। বাশারের নেতৃত্বে ৪০টি ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। তবে মাশরাফির নেতৃত্বে ২১টি ম্যাচ হারে বাংলাদেশ।

বাশার-মাশরাফির পর বাংলাদেশকে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৩টি ওয়ানডেতে জয়ের স্বাদ দিয়েছেন ৫০টি ম্যাচে নেতৃত্ব দেয়া সাকিব আল হাসান।

জিম্বাবুয়েকে ২১৭ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ
তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের ব্যাটে শুরুটা ভালোই হয়েছিল বাংলাদেশের। কিন্তু পরবর্তী ব্যাটসম্যানরা লম্বা ইনিংস খেলতে পারলেন না। হঠাৎ ছন্দপতনে নির্ধারিত ৫০ ওভারে নয় উইকেট হারিয়ে ২১৬ রান সংগ্রহ করলো বাংলাদেশ। সুতরাং, জিততে হলে জিম্বাবুয়েকে করতে হবে ২১৭ রান।

দলের পক্ষে তামিম ইকবাল করলেন ৭৬ রান। সাকিব আল হাসান করলেন ৫১ রান। বাকিদের মধ্যে দুই অঙ্কের ঘরে রান করলেন মুশফিকুর রহিম (১৮), সানজামুল ইসলাম (১৯) ও মোস্তাফিজুর রহমান (১৮)। ইনিংস শেষে রুবেল হোসেন অপরাজিত থাকেন ৮ রান করেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে গ্রায়েম ক্রেমার ৪টি, কাইল জারভিস ৩টি, সিকান্দার রাজা ১টি ও টেন্ডাই সাতারা ১টি করে উইকেট নেন। আজ চারটি উইকেট নেয়ার মাধ্যমে ওয়ানডে ক্রিকেটে ১০০টি উইকেটের মালিক হয়েছেন গ্রায়েম ক্রেমার।

ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ছয় রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে কাইল জারভিসের বলে এলবিডব্লিউ হন এনামুল হক বিজয়। তিনি করেন এক রান। এরপর তামিম ইকবালের সঙ্গে ১০৬ রানের পার্টনারশিপ গড়ে সাজঘরে ফিরে যান সাকিব আল হাসান। তিনি করেন ৫১ রান। ওয়ানডে ক্রিকেটে এটি তার ব্যক্তিগত ৩৭তম অর্ধশত। ইনিংসের ২৮তম ওভারে সিকান্দার রাজার বলে স্ট্যাম্পিং হন সাকিব।

গত ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করলেও আজ ভালো করতে পারেননি মুশফিকুর রহিম। ১৮ রান করে সাজঘরে ফিরে যান তিনি। ইনিংসের ৩৫তম ওভারে গ্রায়েম ক্রেমারের বলে মুজারাবানির হাতে ধরা পড়েন মুশফিক।

৩৭তম ওভারে গ্রায়েম ক্রেমারের বলে এলবিডব্লিউ হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এরপর ৩৯তম ওভারে গ্রায়েম ক্রেমারের বলে স্ট্যাম্পিং হন তামিম ইকবাল। তিনি করেন ৭৬ রান। এই ইনিংসের মাধ্যমে তামিম ইকবাল আজ অনন্য দুইটি মাইলফলক স্পর্শ করেন এই টাইগার ওপেনার। একটি হচ্ছে ওয়ানডেতে একই ভেন্যুতে বেশি রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যানের দিক থেকে বিশ্বে তামিম ইকবালই সেরা। অন্যটি হচ্ছে প্রথম বাংলাদেশি হিসাবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ছয় হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করলেন তিনি।

দলের বিপদে হাল ধরতে পারেননি সাব্বির রহমান। ৪০তম ওভারে কাইল জারভিসের বলে ক্রেইগ আরভিনের হাতে ক্যাচ হন তিনি। ৪৩তম ওভারে কাইল জারভিসের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ হন নাসির হোসেন। ৪৩তম ওভারে গ্রায়েম ক্রেমারের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ হন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ৪৯তম ওভারে টেন্ডাই সাতারার বলে মুজারাবানির হাতে ক্যাচ হন সানজামুল ইসলাম।

সিরিজে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে বড় জয় পেয়ে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ফাইনাল নিশ্চিত করে রেখেছে। জিম্বাবুয়ে যদি আজ জয় পায় তাহলে তারা ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হতে পারে। আগামী ২৫ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ রয়েছে। বাংলাদেশ যদি আজ ও বৃহস্পতিবার হেরে যায় তাহলে জিম্বাবুয়ে ও নেট রান রেটের ভিত্তিতে যারা পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে থাকবে ফাইনালে তারাই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.