hathuru

লোভনীয় চাকরিটা কেন ছাড়লেন হাথুরু? জানলে অবাক হবেন

প্রতিটি মানুষের নিজস্ব চাওয়া পাওয়া থাকে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের উত্থানে অবশ্যই হাথুরুর অবদান অনস্বীকার্য। কোচ হিসেবে যদিও তার একচ্চত্র আধিপত্য ছিল তারপরেও এতটা খারাপ ছিলনা। তার বিরুদ্ধে কঠিন কোন অভিযোগ ও নেই। আর একটা দল পরিচালনা করার ক্ষেত্রে অনেক ক্ষেত্রে কঠোর না হয়েও পারা যায় না।

হঠাৎ করেই কি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন হাতুরু সিংহে? তেমন টা নয়। দীর্ঘদিনের একটা স্বপ্ন হয়ত তার মধ্যে কাজ করছে যে নিজের দেশে ক্রিকেটের নাজুক অবস্থার হাল ধরবেন। সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন লঙ্কান দলের বর্তমান খুব নাজুক। সামনেই বিশ্বকাপ। তাই হয়ত সে কথা বিবেচনা করেই তার নিজ দেশের কথা মাথায় রেখে টা্‌ইগার দল ছেড়ে যাচ্ছেন হাথুরু।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ২০১৪ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর তার তত্ত্বাবধানে দেশে-বিদেশে বেশ ভালো খেলছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। গত বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিসহ বেশ কয়েকটি সিরিজে টাইগারদের স্মরণীয় সাফল্য আসে তার কোচিংয়ে। ফলে আগামী ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ পর‌্যন্ত তাকে চুক্তিবদ্ধ করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

কিন্তু হঠাৎ করেই সব এলোমেলো হয়ে যায়। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের পরই বিসিবির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে।

অজ্ঞাত কারণে এত দিন বিষয়টা গোপন রেখেছিল বিসিবি। বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব ছেড়ে শ্রীলঙ্কার হেড কোচ হচ্ছেন হাথুরুসিংহে- বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কান মিডিয়াতে খবরটা প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গন ও মিডিয়ায় হইচই পড়ে যায়।

মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই বছর আগে কেন পদত্যাগ করলেন হাথুরু? চারদিকে চলছে নানা বিশ্লেষণ। মাসে প্রায় ২৬ হাজার ডলার বেতন, আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা তো আছেই। সঙ্গে দলের বিষয়ে বিপুল ক্ষমতা। বিশ্বের চতুর্থ ধনী ক্রিকেট কোচ তিনি। তারপরও লোভনীয় চাকরিটা কেন ছেড়ে দিলেন হাথুরু?

অনেক দিন ধরে অত্যন্ত বাজে সময় যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের অনেকেই এর আগে মত দিয়েছেন, নড়বড়ে দলটাকে আবার একাট্টা করতে পারেন হাথুরুসিংহে। ফলে তাকে পেতে মরিয়া ছিল তারা। হাথুরুর ওপর দলের দায়িত্ব দিয়ে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত নির্ভার থাকতে চায় লঙ্কান বোর্ড। সে দেশের গণমাধ্যমেও এ ধরনের খবর প্রকাশিত হয়েছে এর আগে। ধারণা করা হচ্ছে, মূলত শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের প্রস্তাবই হাথুরুর বিসিবির চাকরি ছাড়তে বড় ভূমিকা রেখেছে।

নিজ দেশ থেকে প্রস্তাব পেয়ে গত বছর একবার বাংলাদেশের চাকরি ছাড়তে চেয়েছিলেন হাথুরুসিংহে। কিন্তু বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বুঝিয়ে-সুজিয়ে রেখে দিয়েছিলেন তাকে। সেবার হাথুরু শ্রীলঙ্কান বোর্ডকে আপাতত ‘না’ করে দিয়ে সঙ্গে আশ্বাসও রেখেছিলেন, বাংলাদেশ থেকে কোনোভাবে ছুটতে পারলেই দায়িত্ব নেবেন নিজ দেশের ক্রিকেট দলের। আর এ কারণে শ্রীলঙ্কান দলের বর্তমান কোচ পিক পোথার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে না গিয়ে মাসিক বেতনের ভিত্তিতে তাকে নিয়োগ দেয় লঙ্কান বোর্ড। পোথার মাসিক বেতন ১২ হাজার ডলারের মতো। আর বিসিবি থেকে হাথুরু বেতন পান প্রায় ২৬ হাজার ডলার।

শ্রীলঙ্কান বোর্ডের আর্থিক অবস্থা বিসিবির মতো এতটা ভালো না হলেও তারা সম্মত হয় হাথুরু বাংলাদেশে যে বেতন পান সেই পরিমাণ বেতনই দেয়া হবে তাকে। এরপর থেকেই হাথুরুর মন উড়ু উড়ু। বাংলাদেশে মন বসছিল না তার।

সাম্প্রতিক সময়ে দল ও খেলা নিয়ে তার অনেক সিদ্ধান্ত সমা্লোচনার মুখে পড়ে। সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার ও দ্বন্দ্বের কথাও দেশের গণমাধ্যমে আসে। সৌম্য সরকারের মতো তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গেও বাজে সম্পর্ক হয়ে ওঠে কোচের। সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি সব কটি সিরিজ খুব বাজেভাবে হারে বাংলাদেশ দল।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে দলের সঙ্গে আর ঢাকায় ফেরেননি হাথুরু। চলে যান নিজের আবাস অস্ট্রেলিয়ায়। এটা ঠিক যে ফিরলে কড়া জবাবদিহির মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল হাথুরুর। তার একচ্ছত্র ক্ষমতা হারানোর গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছিল।

এর মধ্যেই বিসিবি অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত হাথুরুর সঙ্গে একটা সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে গেছে পদত্যাগপত্রের কথা গোপন রেখে। কিন্তু ইতিমধ্যে নানা নেতিবাচক কাজের কারণে কোণঠাসা হাথুরুর সামনে যে শ্রীলঙ্কান বোর্ডের লোভনীয় প্রস্তাব। ভালো বেতনে নিজ দেশের প্রধান কোচ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা কার না থাকে।

সূত্র: cricketnewsnow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.