hamla_juboleg

হামলা করল যুবলীগ-ছাত্রলীগ, আটক যুবদল-ছাত্রদল নেতাকর্মী

বরিশালে গৌরনদী উপজেলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এতে যুবদল ও ছাত্রদলের ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে যুবদল ও ছাত্রদলের ৬১ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান জানান, তারেক রহমানের জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বিকেলে উপজেলা যুবদল নেতা মোল্লা মাহফুজের উত্তর পালরদী এলাকার বাড়িতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এর কিছুক্ষণ পর অনুষ্ঠানে লাঠিসোটা ও ধারাল অস্ত্র নিয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৩ শতাধিক নেতাকর্মী অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এতে যুবদল ও ছাত্রদলের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

এ সময় যুবদল নেতা মোল্লা মাহফুজের বাড়ির মালামাল ভাঙচুর ও তছনছ করা হয়। এ হামলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চালালেও ওই বাড়ি থেকে উল্টো যুবদল ও ছাত্রদলের ৬১ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

গৌরনদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থল থেকে যুবদল ও ছাত্রদলের ৬১ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। আটকদের ব্যাপারে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সামনে দু’টি পথ খোলা রয়েছে: মওদুদ

প্রধানমন্ত্রীর সামনে দু’টি পথ খোলা রয়েছে জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, একটি হচ্ছে সম্মানজনক বিদায় আরেকটি হচ্ছে একেবারে অসম্মানজনক, অপমানিত বিদায়। প্রধানমন্ত্রীকেই পছন্দ করতে হবে কোন মাধ্যমে তিনি ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে চান।

সোমবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনুর মুক্তির দাবিতে এই সভার আয়োজন করে বৃহত্তর নোয়াখালীে জেলা জাতীয়তাবাদী যুব ফোরাম।

তিনি বলেন, সম্মান নিয়ে বিদায় নিতে হলে প্রধানমন্ত্রীকে সমঝোতায় আসতে হবে। অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। আর যদি সমঝোতায় না আসেন তাহলে যার কপালে যা আমাদের কিছু করার নেই।

সরকার যদি সমঝোতায় না আসে তাহলে রাজপথের কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়ে মওদুদ বলেন, সরকার যদি সমঝোতায় না আসে তাহলে রাজপথের আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আমরা জানি কিভাবে আন্দোলন করে দাবি আদায় করতে হয়। প্রত্যাশা করি সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর শুভবুদ্ধির উদয় হবে।

বিএনপির এই নীতি নির্ধারক বলেন, অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছি। গত দুই বছর কোনো কর্মসূচি দেই নাই। তারপরও সরকার পরিবর্তনে জনগণের মাঝে বিরাট আগ্রহ দেখতে পাচ্ছি। পরিবর্তন হবেই। জেল-জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন দিয়ে বিএনপিকে দাবিয়ে রাখা যাবে না।

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিনেও একটি মামলার চার্জশিটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করার সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকারের কতটা আক্রোশের মুখে পড়লে জন্মদিনেও তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়। দু’দিন পর দিলে কি হতো?

তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা তাদেরকে (সরকার) প্রকম্পিত করে। তাই তারা এই ধরনের ব্যবস্থা নেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই বলেও মন্তব্য করেন মওদুদ আহমেদ।

প্রতিবাদ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুইয়া, শাহজাদা মিয়া, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মানিক, বৃহত্তর নোয়াখালীে জেলা জাতীয়তাবাদী যুব ফোরামের আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রমুখ।

উৎসঃ   পূর্বপশ্চিম

‘ভুলের’ পুনরাবৃত্তি করবে না বিএনপি, আশা কাদেরের

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিয়ে ভুলে করেছিল দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আশা করি বিএনপির ওই ভুলের আর পুনরাবৃত্তি করবে না।

বিএনপি নির্বাচনে আসুক এটা আওয়ামী লীগ চায় জানিয়ে কাদের বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে চাই বিএনপি নির্বাচনে আসুক। আওয়ামী লীগ একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন চায়। আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার নির্বাচন চাই না।’

সোমবার ফেনীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। নির্মাণাধীন ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি আগামীতেও অংশ নেবে না এমন খবর গণমাধ্যমে এসেছে। তাছাড়া বিচারাধীন মামলায় দণ্ডিত হলে বিএনপি নির্বাচনে নাও আসতে পারে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপির এই মনোভাবের কড়া সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন। সেই মামলার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। শেষ পর্যন্ত একটা রায় হবে। সেই রায়ে বেগম জিয়া দণ্ডিত হবেন, না খালাস পাবেন তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। যদি তিনি দণ্ডিত হনও তবুও রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যেতে পারবেন। রায় কী হবে তা নিয়ে বিএনপি নেতারা আগাম কথা বলছেন কেন।’

নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সর্ববৃহৎ ফ্লাইওভার চলাচলের জন্য বিজয়ের মাসেই খুলে দেয়া হবে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মিতব্য ফ্লাইওভারটি প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদের ছয় মাস আগে কাজ শেষ হচ্ছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের আগে এ প্রজেক্টের সমাপ্তি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’

মন্ত্রী জানান, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফ্লাইওভারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। ফেনী এসে উদ্বোধন করার ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ফ্লাইওভার প্রকল্প পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল একেএম রেজাউল মজিদ, উপ-পরিচালক লে. কর্নেল মাশফিকুল আলম, লে. কর্নেল শাহরিয়ার, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশনের প্রকল্প কর্মকর্তা মেজর ফয়সাল আহমেদ, ফেনী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ করিম, ফেনী পৌরসভার প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকাটাইমস

 

Check Also

খালেদা জিয়ার বিরক্তি, অভিমান, অনাগ্রহ

বিএনপি নেতাদের উপর বেগম জিয়া বিরক্ত। ছেলের উপর তার একরাশ অভিমান আর রাজনীতির উপর তার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin