fakhrulll

বাসে আগুন লাগিয়েছে সরকার : ফখরুল

ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপ-নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের উপর ভোট কারচুপি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার হরণের চিত্র আড়াল করার লক্ষ্যে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিভিন্ন জায়গায় বাসে আগুন লাগিয়েছে সরকার।

বিএনপির দফতরের চলতি দায়িত্বে থাকা দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্সের সাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার সাথে লক্ষ্য করছি যে, আজ জাতীয় সংসদ ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে উপ-নির্বাচনের দিনে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ করে বিভিন্ন গণপরিবহনে আগুন দেয়া হয়েছে। এধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক।

বিএনপি মনে করে, ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপ-নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ন্যাক্কারজনক ভোট ডাকাতি, জালিয়াতি, অনিয়ম, কারচুপি, সন্ত্রাস, বিরোধী দল তথা বিএনপি’র প্রার্থীদের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেয়া ও যারা প্রবেশ করেছিল ভোট শুরু হওয়া মাত্রই মারধর করে বের করে দেয়া, আওয়ামী লীগ কর্তৃক বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দ্বারা ভোটকেন্দ্র দখল ও অবরোধ করে সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা, জনগণের ভোটের অধিকার হরণের চিত্র আড়াল করার লক্ষ্যে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের দ্বারা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে গণপরিবহনে অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে।

এসময় সরকার এসব দুস্কর্মের মাধ্যমে পূর্বের মতোই বিএনপিকে হেয় প্রতিপন্ন করা ও এর দায়-দায়িত্ব বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ষড়যন্ত্রমূলকভাবে চাপিয়ে মিথ্যা ও গায়েবী মামলা দায়ের করে হয়রানী করতে চায় বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সুস্পষ্ট ভাষায় বলতে চায়, এধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে বিএনপি কখনোই জড়িত নয়। বিএনপি ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসের রাজনীতিতে নয়, বরং জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে রাজনীতি করে। এসময় সরকারের এই হীন ষড়যন্ত্র এবং মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত না হতে এবং সরকারকে এই হীন রাজনীতির পথ পরিহার করে স্বচ্ছ রাজনৈতিক ধারায় ফিরে আসার আহবান জানান তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করেছি যে, আজ দুপুরে ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে উপ-নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আহুত প্রেসব্রিফিং শেষে কার্যালয় ত্যাগ করার সময় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুকসহ কমপক্ষে ১২ জন নেতাকর্মীসহ অন্যান্যদের গ্রেফতার করে। এমনকি এখন পর্যন্ত বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের চতুর্দিকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘেরাও করে কার্যতঃ অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

কার্যালয় থেকে যারাই বের হচ্ছেন কিংবা প্রবেশ করছেন সবাইকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় এক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এ সময় তিনি গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের রাজনৈতিক কার্যক্রমের স্বার্থে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে দেয়ার আহবান জানান।

Check Also

bnp-flag

নতুন সংকটে বিএনপি

দীর্ঘদিন ক্ষমতায় বাইরে থাকার ফলে দলীয় কোন্দল ও উপনির্বাচন-স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভরাড়ুবি এবং সাংগঠনিক দুর্বলতাসহ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin