ershadh_khaleda

জাপাকে কাছে পেতে চায় বিএনপি

রংপুর সিটি নির্বাচনের মাধ্যমেই জাতীয় পর্টিকে কাছে পেতে চায় বিএনপি। এজন্যই দুই দলের মধ্যে যোগাযোগও শুরু হয়েছে। দুদলের নেতারাই বলেছেন।, ‘আগামী নির্বাচনে বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির ঐক্য হবে গণতন্ত্রের জন্য এক ঐতিহাসিক সন্ধি।’ যদিও বিএনপির শীর্ষ নেতারা এখনো জাতীয় পার্টি বিশেষ করে এরশাদের ভূমিকা নিয়ে সন্দিহান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য স্বীকার করেছেন, ‘এরশাদ খুবই আনপ্রেডিক্টেবল।’ কখন কোন দিকে ছোটেন বলা মুশকিল।’ জাতীয় নির্বাচনে ঐক্য হোক আর না হোক, রংপুর সিটিতে জাতীয় পার্টিকে জিতিয়ে বিএনপি আওয়ামী লীগের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে দিতে চায়।

আগামী ২১ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি তাঁদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে। বর্তমান মেয়র শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। দলের ভেতর অন্ত:কলহ মেটাতেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রংপুর সিটিতে বিজয়ের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগ তাঁর নির্বাচনী মিশন শুরু করতে চায়।

রংপুর জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এরশাদের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়লেও, রংপুর জাপা এখনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, রসিকের মেয়র প্রার্থী হিসেবে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নাম ঘোষণা করেছেন। কিন্তু এরশাদের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছেন তাঁর ভাতিজা কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ। তবে জাতীয় পার্টির নেতা জিএম কাদের বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন, ‘মনোনয়ন নিয়ে এই মতদ্বৈততা শিগগিরই কেটে যাবে, আর শেষ পর্যন্ত একক প্রার্থীই ‘লাঙ্গল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।‘

বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। বিএনপি কাওসার হাসান বাবলাকে মনোনয়ন দিতে পারে। তবে, প্রার্থী মনোনয়ন দিলেও, রসিক নির্বাচনে বিএনপির মূল লক্ষ্য আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করা। এজন্য বিএনপি শেষ পর্যন্ত প্রার্থী নাও দিতে পারে। বিভিন্ন অভিযোগ করে প্রার্থিতা সরিয়ে নিতে পারে। জাতীয় পার্টির সঙ্গে রসিক নির্বাচন নিয়ে সমঝোতার চেষ্টাও চলছে। এ কারণেই ১৯ নভেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রংপুর সফর বাতিল করা হয়। বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪ সালে বিএনপি জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন বর্জনের পথে নিয়ে এসেছিল। জাতীয় পার্টি যদি ওই নির্বাচন পুরোপুরি বর্জন করতো তাহলে আওয়ামী লীগ সংসদই গঠন করতে পারতো না বলেই বিএনপি নেতারা মনে করেন। জাতীয় পার্টির একটি অংশ যেমন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ, তেমনি অন্য একটি অংশ বিএনপির সঙ্গে নিবিড়। জাতীয় পার্টির কো-চেয়ার জিএম কাদের বিএনপির সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। নির্বাচন অথবা আন্দোলনে জাতীয় পার্টিকে পেলেই বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত বলে মনে করছেন বিএনপির নেতারা।

সংসদের বাইরে থাকা জাতীয় পার্টির নেতারাও আওয়ামী লীগের সঙ্গে আর না থাকার পক্ষে। এই অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জিএম কাদের। এরশাদের নির্দেশেই জিএম কাদের বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করছেন বলে জানা গেছে। তবে, বিএনপি এরশাদকেই বিশ্বাস করতে পারছে না। ২০১৪ সালে নির্বাচনের বিরোধীতা করলেও শেষ পর্যন্ত এরশাদ শুধু সংসদ সদস্যই হননি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও হয়েছেন। এরশাদ বিএনপির সঙ্গে যাবেন, না আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকবেন- সেটা এরশাদ ছাড়া জাতীয় পার্টির কেউ বলতে পারেন না। এরশাদ শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন, বাজার যেদিকে ভারী পাবেন, সেদিকেই ঝাঁপ দেবেন। এর আগে প্রধান দুই দলই এরশাদকে চাইবে।

বাংলা ইনসাইডার

জামায়াতের সাথে বিএনপির জোট অটুট আছে : মির্জা ফখরুল

জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়নি জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতের সাথে আমাদের জোট অটুট রয়েছে। এখনও জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়নি। তাই আগামী নির্বাচনে তারা আমাদের সাথে থেকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।

রোববার লালমনিরহাট যাওয়ার আগে বেলা পৌনে দশটায় নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় আগামী নির্বাচনে জামায়াত বিএনপির সাথে জোট থাকা না থাকা নিয়ে প্রশ্ন করলে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, সরকার চক্রান্ত করে রংপুরের গঙ্গাচড়ার ঠাকুরপাড়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় সরকার ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে ।

তিনি বলেন, তারা বিএনপির নেতাকর্মীরদের নাম জড়িয়ে নিজেদের দোষ ঢাকার চেষ্টা করছে।

বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, আজকে রংপুরের গঙ্গাচড়ার ঠাকুরপাড়া গ্রামের আমারও যাওয়ার কথা ছিল। কিন্ত সেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ সেখানে যাচ্ছেন। তাই সেখানে এক সাথে দু’টি দলের প্রোগ্রাম করা সমচীন নয়, এ বিষয়টিকে আমরা গুরুত্ব দেই। আজ আমার একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে লালমনিরহাটে, মিটিং শেষ করে আবার ঢাকায় ফিরতে হবে। আগামীকাল আমি রংপুরের গঙ্গাচড়ার ঠাকুরপাড়া গ্রামে পরিদর্শনে আসব।

উল্লেখ্য, আজ রংপুরের গঙ্গাচড়ার ঠাকুরপাড়া গ্রাম পরিদর্শনে ঢাকা থেকে ৮টা ৪৫ মিনিটে ইউএস বাংলা বিমানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমান বন্দরে আসার কথা ছিল। কিন্তু সকাল সাড়ে ৯টায় ইউএস বাংলা বিমান সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ হলে সেই বিমান থেকে শুধু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নামেন।
insaf24

ফখরুলকে ওবায়দুল কাদের বলেন, “ভাই, কেমন আছেন?

সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পেয়ে কুশল বিনিময় করলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

নিয়মিত তাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে রাজনীতির মাঠ সরগরম থাকলেও রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার বাইরে দুজনের এই সাক্ষাতে সৌহার্দ্যের বহিঃপ্রকাশই ঘটেছে।

রংপুরে হিন্দু বসতিতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে সকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন ওবায়দুল কাদের। লালমনিরহাটে একটি দলীয় সভায় অংশ নিতে ওই ফ্লাইটেই যাওয়ার কথা ছিল মির্জা ফখরুলের।

এ খবর জানতে পেরে সকালেই ওবায়দুল কাদের ঢাকা বিমানবন্দরে তার জন্য অপেক্ষা করেন বলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের সফরসঙ্গী বিপ্লব বড়ুয়া জানান।

তবে বিএনপি মহাসচিব ফ্লাইট পাল্টে নভোএয়ারের যাত্রী হওয়ায় সকালে দুজনের দেখা হয়নি।

পরে সন্ধ্যায় তাদের দেখা হয় ঢাকা ফেরার পথে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ডোমেস্টিক লাউঞ্জে বসে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব। ভিআইপি লাউঞ্জ দিয়ে ঢোকার পর ওবায়দুল কাদের বিএনপি মহাসচিবকে দেখে তার কাছে এসে বলেন, “ভাই, কেমন আছেন?”

জবাবে স্মিত হেসে ফখরুল বলেন, “ভালো আছি, আপনি কেমন আছেন ভাই?”

হাত মেলান দুই নেতা। মিনিট দুয়েক কুশল বিনিময় হয় তাদের।

এরপর ওবায়দুল কাদের বলেন, “যাই বিমান রেডি হয়ে আছে।”

“ধন্যবাদ,” বলে তাকে বিদায় জানান ফখরুল।

ওবায়দুল কাদের যাত্রা করার ১০ মিনিট পর ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে ফখরুলের উড়োজাহাজ।

ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর এই প্রথম তার সঙ্গে মুখোমুখি হলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

ঢাকা ফেরার পর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কী কথা হয়েছে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “কুশল বিনিময় হয়েছে। ঢাকা ফেরার পথে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের লাউঞ্জে। এর বেশি কিছু না।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ফেরার পথে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নিজে ফখরুল সাহেবের কক্ষে গিয়ে কুশল বিনিময় করেন।

“এসময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমাদের রাজনীতির পথ আলাদা হতে পারে কিন্তু সৌজন্য তো রয়েছে, দেখা- সাক্ষাৎ তো হতে পারে। আমি আপনার অপেক্ষায় ছিলাম।

“ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনি পারফেক্ট জেন্টলম্যানের কাজ করেছেন।”

বিডিনিউজ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত আমির খসরু

‘ইতিহাস বিকৃতি’ নিয়ে নাগরিক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ঠিক বলেছেন, ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না। আমি উনার সাথে সম্পূর্ণভাবে একমত।’

রবিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘অবরুদ্ধ গণতন্ত্র, বিপন্ন দেশ: তোমার অপেক্ষায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভাটির আয়োজন করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন।

শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে নাগরিক কমিটি আয়োজিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে আর যেন ইতিহাস বিকৃতির সুযোগ না পায় সেজন্য বাংলাদেশের মানুষকে জাগ্রত হতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে আমির খসরু বলেন, ‘তাহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত যে প্রেক্ষাপট সেটা মুছে ফেলা যাবে না। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধর ঘোষণা যে দিয়েছেন সেটা মুছে ফেলা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের পরে বাংলাদেশে বহুদলীয় শাসন বাদ দিয়ে যে একদলীয় শাসন বাকশাল গঠন করা হয়েছিল সেটাও মুছে ফেলা যাবে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নষ্ট করে সব গণমাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল সেটাও মুছে ফেলা যাবে না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছেন সেটাও মুছে ফেলা যাবে না। সংবাদ পত্র, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দিয়েছেন সেটাও মুছে ফেলা যাবে না।’

খসরু বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন সেটাও মুছে ফেলা যাবে না। এরপর বাংলাদেশের জনগণ এক সাথে হয়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা করেছে সেটাও মুছে ফেলা যাবে না। সেটাকে বাতিল করে আজকে অগণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা দখল করে বসে আছে সেটাও মুছে ফেলা যাবে না। গুম খুনের রাজনীতি চলছে, মানুষর ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে সেটাও মুছে ফেলা যাবে না।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘যখনই নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বলে হয় তখনই সংবিধানের দোহাই দেয়া হয়, যে এটাতো সংবিধানে নেই। আইনে নেই এটা করা যাবে না। তাহলে আমাকে বলতে হয় আইনে তো বাকশাল ছিল না। সেনাবাহিনী আইনশৃংখলা বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল সেটাও আপনারা বাতিল করে দিয়েছেন। সংবিধানের এক তৃতীয় অংশ সংশোধন করা যাবে না সেই ব্যবস্থা আপনারা করেছেন। যা পৃথিবীর কোথাও নেই। সংবিধান তো মানুষের জন্য, মানুষ তো সংবিধানের জন্য নয়। তাই মানুষের জন্য যতবার প্রয়োজন ততবারই সংবিধান সংশোধন করতে হবে।’

আয়োজক সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার এর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

ঢাকাটাইমস

সংবিধানে প্রধান বিচারপতির পদ একদিনের জন্যও শূন্য থাকার সুযোগ নেই: মওদুদ

সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির পদ একদিনের জন্যও শুন্য থাকার সুযোগ নাই, বিচারপতিদের উপর চাপ বজায় রাখার জন্যই প্রধান বিচারপতি নিয়োগে বিলম্ব করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।

রবিবার বিকেলে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ মুখে যা বলে তা বিশ্বাস করে না, তারা মুখে বলে এক কথা আর কাজে আরেক। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়া যদি সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেন, তাহলে শেখ হাসিনা কেন পারবেন না। খালেদা জিয়া যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, শেখ হাসিনার তা করা উচিত হবে।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের তো বর্তমান সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি। তারা চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতে পারেন।’

মওদুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি এতোই জনপ্রিয় হয়, মানুষ আবারো তাদেরকে ভোট দিতে অপেক্ষা করছে, তাহলে একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। যাতে আমার ভোট আমি দিবো, যাকে খুশি তাকে দিবো এ অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারেন। তাহলে আমি অভিনন্দন জানাবো যদি আওয়ামী লীগ সংবিধান সংশোধন করে আবার নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনে। দেশের মানুষও আওয়ামী লীগকে স্মরণ করবে।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের ৯০ দিন আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে সরকার শুধু রুটিন ওয়ার্ক করবে- এটা আমরা বিশ্বাস করি না। কারণ আওয়ামী লীগ মুখে যা বলে তা বিশ্বাস করে না। এছাড়া বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দল আরেক রাজনৈতিক দলকে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগ যেমন বিএনপিকে ৯৬ সালে বিশ্বাস করেনি। তখন তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করেছিল।

দেশে আর কোনো একদলীয় নির্বাচন হতে দেয়া হবে না মন্তব্য করে মওদুদ আহমদ বলেন, আগামী নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। সেই নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। খালেদা জিয়া হবেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান সরকার যেসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড করছে দেশের মানুষ এর জবাব দেবে আগামী নির্বাচনে।

তিনি বলেন, আমরা এখনো অপেক্ষা করছি সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক সভ্যতা ও গণতন্ত্র ফিরে আসুক। যাতে করে দেশের মানুষ তার গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পায়।

আওয়ামী লীগ কোনো দিনই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না মন্তব্য করে মওদুদ বলেন, তারা মুখে বলে এক কথা আর কাজ করে ভিন্ন। তারাই অতীতে রক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়েছে। তাদের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় দেশে দুর্ভিক্ষও হয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় আজো আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনায় এসে দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিচ্ছে।

দেশের রাজনীতিবিদদের এখন কোনো আদর্শ নেই দাবি করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘রাজনীতিতে বিশ্বাস নেই। সরকার বিশ্বাস করে না বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে আর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বিশ্বাস করে না সরকারকে। তাই একে অপরের প্রতি সেই বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে হবে। রাজনৈতিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্যথায় যে যত কথাই বলুক না কেন, শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন শুধুমাত্র নামে প্রধানমন্ত্রী থাকবেন তাও চলবে না।’

মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, মজলুম ভাসানী ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেননি, তিনি রাজনীতি করেছেন নির্যাতিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায়। তিনি আন্দোলন করেছেন যে সরকার সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করেছে তার বিরুদ্ধে।

ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন- বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন, জাতীয় পার্টি(কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, কৃষকদল নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট প্রমুখ।

উৎসঃ   আরটিএনএন

Check Also

হাজী সেলিমের হাতে জিম্মি লালবাগ?

গতকাল রাতে হাজী সেলিমের পুত্রের হাতে একজন নৌ-বাহিনী কর্মকর্তার লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনার পর মুখ খুলেছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin