রিজভী পছন্দ খালেদার, তারেকের খসরু -

রিজভী পছন্দ খালেদার, তারেকের খসরু

আগামী পহেলা সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পরপরই বিএনপিতে বেশকিছু পরিবর্তন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার সাথে সাথে বিএনপির নেতৃত্বে একটি বড় ধরনের রদবদল নিয়ে ইতোমধ্যেই আলাপ-আলোচনা চলছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির চারটি শূন্য পদে যেমন নতুন নিয়োগ দেওয়া হবে, তেমনি মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্বকালও শেষ হয়ে যেতে পারে। কারণ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেই এখন শারীরিক অসুস্থতাসহ নানা বাস্তবতার কারণে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চাইছেন। এরকম বাস্তবতায় নতুন মহাসচিব কে হবেন এই নিয়ে বিএনপির মধ্যে নানারকম আলাপ-আলোচনা চলছে।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়া মহাসচিব হিসেবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে পছন্দ করছেন এবং তিনি বিএনপির একাধিক নেতার কাছে তাঁর এই অভিপ্রায়ের কথা খোলাখুলিভাবে বলেছেন। বেগম খালেদা জিয়া মনে করেন যে, রিজভী দুঃসময়ের সাথী, কোন প্রকার আপোসকামীতার মধ্যে থাকেন না এবং দলের নীতি আর আদর্শের প্রশ্নে অটল।

বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকা অবস্থায় বিএনপি নেতাদের সম্পর্কে যেসব তথ্য পেয়েছেন তাঁতে তিনি একমাত্র রিজভী ছাড়া কারো উপর আস্থা রাখতে পারছেন না। বেগম জিয়া সম্প্রতি বিএনপির একজন নেতাকে বলেছেন যে, সবাই সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে চলছে, একমাত্র রিজভী ছাড়া।

বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়া গ্রেপ্তারের পর রিজভী যেভাবে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন এবং এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে যেভাবে তিনি স্বেচ্ছায় দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করেছেন তাতে বেগম খালেদা জিয়া ‘মুগ্ধ’ বলে জানিয়েছে একাধিক মহল। এখনো তিনি বিভিন্ন সময়ে রিজভীর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং রিজভীর উপর বেগম খালেদা জিয়ার সন্তুষ্টির দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে করোনার সময়ে যখন অধিকাংশ নেতা ঘরে বসেছিল তখন রুহুল কবির রিজভী একাই বিএনপির পক্ষ থেকে ত্রাণ তৎপরতা করেছেন এবং বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেরিয়েছেন।

বিএনপির অধিকাংশ নেতারাই রাজনীতি এখন পার্ট টাইম হয়ে গেছেন বলে মনে করেন বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে একমাত্র রুহুল কবির রিজভী দলের জন্যে সবসময় কাজ করছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এই জন্যে এখন সংগঠন গোছাতে এরকম ত্যাগী আর আদর্শবান নেতা দরকার বলে মনে করেন বেগম খালেদা জিয়া। আর এই কারণেই বেগম খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পর মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবির রিজভীকে পেতে আগ্রহী।

কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া আগ্রহী হলেও তারেক জিয়া এই ব্যাপারে মোটেও উৎসাহী নন বলেই বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন। বরং তারেক জিয়া রিজভীকে একজন ‘ব্রেইনলেস নেতা’ বলে মনে করেন এবং তাঁর সঙ্গে মাঠের কোন সম্পর্ক নেই, আর নির্বাচনী রাজনীতিতে রিজভী গুরুত্বহীণ- এরকম ধারণা পোষণ করেন তারেক জিয়া।

আর এই কারণেই রিজভীর মতো নেতারা দলের মহাসচিব হলে এই দল জনপ্রিয় দল হতে পারবে না বলে তারেক জিয়ার অভিমত। মহাসচিব হিসেবে তারেক জিয়ার পছন্দ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। এর আগে চট্টগ্রাম থেকে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করার ক্ষেত্রেও তারেক জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

চট্টগ্রামে বিএনপির মূল নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমানকে বাদ দিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে স্থায়ী কমিটিতে নেওয়া ছিল একটি বিষ্ময়কর ঘটনা এবং এটা তারেক জিয়াই এটা করেছিলেন। এখন তিনি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকেই মহাসচিব করতে চান।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে মহাসচিব করার ক্ষেত্রে তারেক জিয়ার মূল বক্তব্য হলো, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অবস্থান ভালো, নম্র-বিনয়ী মানুষ হিসেবে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং মার্জিত রুচিশীল হিসেবে দলের নেতাকর্মীদের কাছেও তিনি আস্থাভাজন। আর তাছাড়া আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিত্তশালী এবং তারেক জিয়া সবসময় একজন বিত্তশালীকে দলের মহাসচিব হিসেবে পেতে চান, যিনি সবসময় দলের জন্যে খরচ করতে পারবে।

তবে মা-ছেলের এই দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত নতুন মহাসচিব আসবেন নাকি অসুস্থ মির্জা ফখরুলকেই রেখে দেওয়া হবে সেটাই দেখার বিষয়। 

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.