dr_kamal

ড. কামাল হোসেন: কাপুরুষ নাকি খলনায়ক?

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যাদেরকে নিজ হাতে গড়ে তুলেছিলেন তাঁর মধ্যে অন্যতম ড. কামাল হোসেন। মাত্র ৩২ বছর বয়সে ড. কামাল হোসেনকে আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন। এরপর বঙ্গবন্ধু তাঁকে দিয়েছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। কিন্তু জাতির পিতা হত্যাকাণ্ডের পর ড. কামাল হোসেনের কাছ থেকে যেমন ভূমিকা প্রত্যাশিত ছিল সেই ভূমিকা তিনি পালন করেননি।

কেন তিনি পালন করেননি সেটা যেমন প্রশ্ন, তেমনি প্রশ্ন ৭৫ এর পর ১৯৮১ থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার কাজে বাঁধা দেওয়াই ছিল ড. কামাল হোসেনের প্রধান কাজ। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনকে প্রতিকূল করার এজেন্ডা বাস্তবায়নে ড. কামাল হোসেন যেন ব্যস্ত ছিলেন। কেন তিনি এরকম কর্মকাণ্ডগুলো করেছেন- এটা রাজনৈতিক গবেষণার বিষয়।

ড. কামাল হোসেন কথায় কথায় জাতির পিতার কথা বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা বলেন। এটা কি কেবলই একটি মুখোশ? নাকি বাস্তবে তিনি বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করেন, বঙ্গবন্ধুতে বিশ্বাস করেন? ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যখন জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তখন ড. কামাল হোসেন ছিলেন বিদেশে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানাও তখন ব্রাসেলসে অবস্থান করছিলেন। যখন বাংলাদেশে ক্যু হয়েছে, বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হয়েছেন- এই খবরগুলো শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা জানতে পারলে তখন স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা মুষড়ে পড়ে, তাঁরা নিকটজনের সহযোগিতা চান, দলের অন্যান্য যারা আছেন তাঁরা যেন এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে রুখে দাঁড়ায় সেরকম একটি প্রত্যাশা বুকে ধারণ করেছিলেন।

এই প্রত্যাশা থেকেই ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে তাঁরা যোগাযোগ করেছিলেন। ড. কামাল হোসেনকে তাঁরা অনুরোধ করেছিলেন এই হত্যার প্রতিবাদ করতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই খুনী সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে। কিন্তু ড. কামাল হোসেন সেই সময় শেখ হাসিনা এবং তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানার এই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন এবং এক নিরব মৌনতা অবলম্বন করেছিলেন।

কেন ড. কামাল হোসেন সেদিন এই ভূমিকা পালন করেছিলেন তা এখনো রহস্যময়। ড. কামাল হোসেনও এই প্রশ্নের উত্তর কখনো দেননি, এই ধরণের প্রশ্ন করা হলে তিনি সবসময় তা এড়িয়ে গেছেন।

প্রশ্ন হলো যে, ড. কামাল হোসেন কি কাপুরুষ ছিলেন? এইজন্যে তিনি সেইসময় খুনী মোস্তাকের ধৃষ্টতা এবং অসাংবিধানিক ক্ষমতা দখলের প্রতিবাদ করেননি? নাকি তিনি আসলে খলনায়ক ছিলেন, তিনি আসলে খুনীদের প্রচ্ছন্ন সমর্থন দিতেই নিরব ছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তর বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য জরুরী।

ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে এই প্রশ্ন ওঠার প্রধান কারণ হলো পরবর্তীতে ড. কামাল হোসেনের ভূমিকা। ১৯৮১ সালে ১৭ মে দেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। এরপর তাঁকে ঘরে-বাইরে এক প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। তিনি একদিকে যেমন স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের সংগ্রামের জন্যে জনগণকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করেন, অন্যদিকে দলের ভেতর ষড়যন্ত্রকারী এবং নানা মত-পথের প্রতিবন্ধকতা তাঁকে মোকাবেলা করতে হয়েছে।

এই সময় সবথেকে বড় প্রতিকূলতা দলের ভেতর তৈরি হয়েছিল তা হলো ড. কামাল হোসেন। ড. কামাল হোসেনরা সেই সময় পদে পদে শেখ হাসিনার কাজে বাঁধা দেওয়া, পদে পদে শেখ হাসিনার নীতি কৌশলকে চ্যালেঞ্জ করার নীতি গ্রহণ করেছিল। যদিও ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে শেখ হাসিনা ড. কামাল হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন।

কিন্তু চাচার প্রতি যে আস্থা শেখ হাসিনা রেখেছিলেন, সেই আস্থার প্রতিদান কখনো দিতে পারেননি ড. কামাল হোসেন। বরং সবসময় তিনি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ড. কামাল হোসেন আসলেই কি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক? নাকি একজন মুখোশধারী খলনায়ক নাকি কাপুরুষ? ইতিহাস অনুসন্ধানে এই প্রশ্নের উত্তরও অত্যন্ত জরুরী।

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.