khaleda_05

খোলস ছাড়ছেন বেগম খালেদা জিয়া

২৫ মার্চ কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। বিএনপির নেতারা এতদিন যে বলেছিলেন যে, তিনি অসম্ভব অসুস্থ, তিনি মৃত্যু পথযাত্রী, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে যতটা অসুস্থ খালেদাকে বলা হয়েছিল, ততটা অসুস্থ তিনি নন। কারাগার থেকে মুক্তির ৭দিনের মাথায় বেগম খালেদা জিয়া খোলস থেকে বেরিয়ে এসেছেন।

ইতিমধ্যে তিনি তার চিকিৎসকদের করোনা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলেছেন। তার নির্দেশেই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন এবং সমালোচনা করেছেন। যখন করোনা মোকাবেলায় সকলের একত্রিত হওয়া প্রয়োজন, সেসময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই ধরনের সংবাদ সম্মেলন হতাশাজনক এবং এটি জাতিকে স্তম্ভিত করেছে।

জানা গেছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশেই মির্জা ফখরুল এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করে সরকারকে আক্রমণ করেছে। করোনার মধ্যেই বেগম জিয়া তার নিজের খোলস ছেড়ে বের হচ্ছেন এবং করোনা পরিস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন।

বেগম খালেদা জিয়াকে গত ২৫ মার্চ ফৌজাদারি কার্যবিধির ৪০১ এর ১ ধারা অনুযায়ী ৬ মাসের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়। এসময়ে তার দণ্ড স্থগিত রয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী এসময়ে খালেদা জিয়া চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন, দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। তার ভাই শামীম ইস্কান্দারের জিম্মায় এই মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়। এর আগে তার ভাই শামীম ইস্কান্দার বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেন।

অথচ খালেদা জিয়ার মুক্তির পর কোথায় চিকিৎসক, কোথায় তার উন্নত চিকিৎসা? এগুলো কিছুরই হদিস নেই। উল্টো তিনি এখন বসে বসে রাজনৈতিক ছক আঁকছেন। সরকারকে কীভাবে বিপর্যস্ত করা যায়, নতুন করে কীভাবে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু করা যায়, সেই প্রক্রিয়া করছেন তিনি।

জানা গেছে যে, বেগম খালেদা জিয়া নিয়মিতভাবে তার চিকিৎসকদের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন উস্কে দেওয়ার জন্য নানারকম পরামর্শ দিচ্ছেন। বিএনপির একটি দায়িত্বশীল বলছে, খালেদা জিয়া মনে করছে যে করোনা নিয়ে দেশে একটি অর্থনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি হতে পারে, অসহায় দরিদ্রদের মাঝে এক ধরনের হতাশা এবং অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। সাধারণ মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক সংকটের জন্য সরকারের প্রতি এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। এগুলোকেই কাজে লাগাতে চাইছেন বেগম জিয়া।

অনেকেই মনে করেছিলেন যে, বেগম খালেদা জিয়া হয়ত জেল থেকে বেরিয়ে নতুন জীবন শুরু করবেন, কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়াবেন না। কিন্তু তার সাম্প্রতিক তৎপরতায় দেখা গেছে যে তিনি আবার সরকারের বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন সূচনা করার প্রক্রিয়া তৈরি করছেন। অবশ্য আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ মনে করছেন যে, বেগম জিয়ার এখন আর আগের শক্তি নেই।

আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল সূত্র বলেছে, যে দল গত ২ মাসে তার নেতাকে মুক্ত করতে পারে না, সেই দল আন্দোলন করবে- সেটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। বিএনপি বিরোধীদল হিসেবে সীমাহীন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারা তাদের নিজের নেত্রীকে মুক্ত করতে পারেনি। কাজেই বিএনপি যে নতুন করে আন্দোলন করতে পারবে না, সেটা মোটামুটি নিশ্চিত।

তাছাড়া আওয়ামী লীগের একজন নেতা মনে করছেন যে, যখন করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে সকল দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা প্রয়োজন, তখন বেগম জিয়ার এই ষড়যন্ত্র প্রমাণ করে যে তিনি সবসময় ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেছেন। শেখ হাসিনার যে ক্ষমা, উদারতা, সেই উদারতার পরিবর্তে বিশ্বাসঘাতকতার রাজনীতির নতুন প্রকাশ ঘটাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। 

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.