উল্টো ধমক খেয়ে ‘ফিরোজা’ থেকে বের হলেন ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে আজ শুরু থেকেই বেশ রাগান্বিত দেখা যাচ্ছিল। বিএসএমএমই-তে তিনি নেতাকর্মীদের প্রথমে সরে যেতে বলেন। কিন্তু তারা সরে না গেলে রীতিমতো তেড়ে যান। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তিনি বের করে দেন। অনেককে এ সময় ধাক্কা দিতেও দেখা যায়।

খালেদা জিয়া হসপিটাল থেকে বের হয়ে ‘ফিরোজা’য় ফেরার মিনিট ২০ আগে ফখরুল ফিরেছিলেন। কিন্তু তিনি বাড়িতে খুব বেশি সময় থাকতে পারেননি। খন্দকার মোশাররফ আগেই অবস্থান করছিলেন বাড়িতে। কিন্তু খালেদা জিয়া প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে বের হতে দেখা যায় ফখরুলকে। এ সময় বাড়িতে ছিল শুধু খালেদা জিয়ার ৫ সদস্যের চিকিৎসক টিম ও পরিবারের লোকজন।

‘ফিরোজা’ থেকে বের হওয়ার সময় মির্জা ফখরুলকে বেশ রাগান্বিত দেখা যায়। এ সময় নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে ধরে। তিনি সবাইকে হাত দিয়ে সরিয়ে দেন রাগান্বিত হয়ে। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, চলে যাচ্ছি ধাক্কাবেন না। মির্জা ফখরুল বলেন, তাহলে যান। এখনো আছেন কিসের জন্য। নিষেধ করলে তো শোনেননা।

প্রসঙ্গত, দুই বছরেরও বেশি সময়, সুনির্দিষ্টভাবে বললে দুই বছর এক মাস ১৭ দিন পর নিজ বাসভবন ‘ফিরোজা’য় পা রাখলেন খালেদা জিয়া। দীর্ঘ সাত বছর যে ভবনটি থেকেই বিরোধী দলের রাজনীতির কলকাঠি নেড়েছেন, কারাবন্দি থাকায় দুই বছরেরও বেশি সময় সেই বাড়ি থেকেই দূরে থাকতে হয়েছিল তাকে। সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের মুক্তি পেয়ে সেই ‘ফিরোজা’তেই প্রত্যাবর্তন করলেন তিনি।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে গুলশান ২-এর ৭৯ নম্বর রোডের এনইডি-১ নম্বর বাড়ি ‘ফিরোজা’র পথে রওনা দেন খালেদা জিয়া। ঠিক এক ঘণ্টা পর বিকেল সোয়া ৫টায় সেখানে পৌঁছেছেন তিনি। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, যার জিম্মাতেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাকে।  তার প্রাইভেট কারে চড়েই নিজ বাসভবনে যাচ্ছেন তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে। গত বছরের এপ্রিল থেকে কারাবন্দি খালেদা এই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।

শামীম ইস্কান্দার ছাড়াও খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া ডা. হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত মেডিকেল টিমের সদস্যরাও ছিলেন। সবাইকে নিয়ে যখন খালেদা জিয়া ‘ফিরোজা’য় পা রাখেন, সেখানে এক আবেগঘন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এছাড়া খালেদা জিয়ার গাড়ির সঙ্গে হাসপাতাল থেকেই সঙ্গী হন দলীয় নেতাকর্মীরা। তারা গোটা রাস্তা স্লোগান দিতে থাকেন। পথে কারওয়ান বাজারে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের ওপর মৃদু লাঠিচার্জও করে। তবে সেখানে তেমন একটা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.