পর্দার আড়ালে কি হচ্ছে? কেন মুক্তি পেলেন? দেখুন বিস্তারিত

দেশে যখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণে টানা ১০ দিনের ছুটির মধ্যে হঠাৎ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতার কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার পরে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যে পর্দার আড়ালে কি হচ্ছে? খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি একটি আচমকা দমকা হাওয়ার মতো এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে যে, রাজনীতিতে কি নতুন কিছু ঘটতে যাচ্ছে?এসময় খালেদা জিয়ার মুক্তি কেন?

সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের সঙ্গে আলাপ করেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। কিন্তু হঠাৎ করে খালেদা জিয়ার মুক্তি বেশকিছু বিষয়ের ইঙ্গিত করছে বলে জানা গেছে। প্রথমত, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের দেন-দরবার চলছিল।

খালেদা জিয়ার পরিবার তার মুক্তির জন্য সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদনও করেছিল। এর মধ্যে বিএনপি-খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের জন্য সবকিছুই স্থবির হয়ে থেমে গিয়েছিল।

বিএনপির পক্ষ থেকেও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে তেমন কোনো আন্দোলন বা কর্মসূচি ছিল না, তেমন কোনো চাপও ছিল না। প্রশ্ন উঠলো, তাহলে এখন কেন মুক্তি?

সরকারের বিভিন্ন সূত্র বলছে, যেহেতু করোনাভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে, জনজীবনে উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে রেখে ঝুঁকি নিতে চায়নি সরকার। কারণ যদি কোনো কারণে খালেদা জিয়ার করোনাভাইরাস সংক্রমণ হয় বা অন্য কোনো সমস্যা হয়, তাহলে সরকার বর্তমান সংকটের মধ্যে আরেকটা নতুন সংকটে পড়তে বাধ্য। এই বিবেচনা থেকেই খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জন্য বিশেষ জামিন দেওয়া হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

তবে অন্য একটি সূত্র বলছে যে, সরকার করোনাভাইরাসের কারণে দেশে যে সংকট এবং জনমনে যে অস্বস্তি সেটাকে লাঘব করার জন্য একটা জাতীয় ঐক্যমতের চিন্তাভাবনা করছে, যেন রাজনৈতিক দল-মত নির্বশেষে সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে এই জনস্বাস্থ্যজনিত সংকট মোকাবেলা করতে পারে। এ কারণেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে একটি রাজনৈতিক ঐক্যের আবহ তৈরি করা হলো।

অন্য একটি সূত্র মনে করছে যে, সাম্প্রতিক সময় করোনা ভাইরাসের কারণে একদিকে যেমন জনস্বাস্থের সংকট দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে সৃষ্টি হতে যাচ্ছে অর্থনৈতিক মন্দা। এই সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে কোন রাজনৈতিক মহল যেন ফায়দা লুটতে না পারে সেজন্য খালেদা জিয়ার মুক্তি দেওয়া হলো। যেন রাজনৈতিক আবহের মধ্যে কোন বিরোধ বা অসন্তোষ তৈরী না হয়।

তবে বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার মুক্তিটি সরকারের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের একটি আপোসরফারই ফসল। পর্দার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে বেগম জিয়ার পরিবার, বিশেষ করে শামীম ইস্কান্দার এবং সেলিনা ইসলামের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন মহলের এনিয়ে দেনদরবার এবং বৈঠক চলছিল। যদিও বলা হচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়ার এই মুক্তিতে ছয় মাসের জন্য তার সাজা স্থগিত হয়েছে, তিনি এই সময়ের মধ্যে বিদেশে যেতে পারবেন না।

কিন্তু বিভিন্ন সূত্র ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, আপাতত বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হলেন। আস্তে আস্তে তার বিদেশ যাওয়ারও পটভূমি তৈরী হবে।সামনের দিনগুলোতে সরকারকে অনেকগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। সেজন্য খালেদা জিয়ার ঝামেলাটি কাঁধ থেকে নামিয়ে নেওয়ার জন্যই এই আপোস সমঝোতা হলো বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.