যে কারণে চাঙ্গা বিএনপি

১২ বছর ক্ষমতার বাইরে বিএনপি। বিভিন্ন সময় ভুল রাজনীতি এবং ভুল নির্দেশনায় প্রায় বিপর্যস্ত পর্যদুস্ত দলটি। কিন্তু সেই দলটিই গত এক থেক দেড় মাস বেশ চাঙ্গা। এই সময়ের মধ্যে বিএনপি থেকে শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু তার আচড় লাগেনি মাঠে। বরং নেতাকর্মীদের মধ্যে ফিসফাস আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, এখনই সময় আন্দোলন গড়ে তোলা।

গোপনে প্রকাশ্যে বিএনপি প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্য। সম্প্রতি এক সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জই ছুড়ে দিয়েছেন, এরপর সমাবেশ করতে সরকারের অনুমতি নেবে না। অন্যদিকে আজ সুপ্রীম কোর্টের সামনে অবস্থান ধর্মঘটে মারমুখি বিএনপির আচরণ দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে বিএনপি কি এখন আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে? হঠাৎ করে দলটি চাঙ্গা হলো কেন?

বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এবং সাধারণ মানুষের মনোভাব যাচাই বাছাই করে বাংলা ইনসাইডার এর ছয়টি কারণ বের করেছে।

১. দ্রব্যমূল্য নিয়ে জনঅসন্তোষ:

গত ১১ বছরের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে সরকার। এই অস্বস্তির প্রধান কারণ হল, দ্রব্যমূল্য নিয়ে জনগণের অসন্তোষ। বিশেষ করে পেঁয়াজের লাগামহীন উর্ধ্বগতি এবং পেঁয়াজের সাথে তাল মিলিয়ে অন্যান্য পণ্যের উর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে অস্বস্তি এবং অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। বিএনপি এই অস্বস্তি এবং অসন্তোষ কাজে লাগাতে চাচ্ছে। তারা মনে করছে, এখন জনমনে সরকারের সম্পর্কে অন্য যেকোন সময়ের থেকে বেশি নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। তাই এই সময়টাকে তারা কাজে লাগাতে চাচ্ছে।

২. মন্ত্রীদের দায়িত্ব জ্ঞানহীন কথাবার্তা:

বিভিন্ন মন্ত্রীরা পেঁয়াজ সমস্যা এবং বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে লাগামহীন এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা বলছে। এটা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানারকম টেপাটিপ্পনি চলছে। এটাতে বিএনপির অনেক নেতাই মনে করছে যে, সরকারের আগের জনপ্রিয়তা এখন আর নেই। আর তাই সরকারের জনপ্রিয়তায় যখন ভাটার টান সেই সুযোগটা নিতে চাচ্ছে বিএনপি। বিএনপি মনে করছে, এখন যদি রাজপথে আন্দোলন করা যায় তাহলে সহজেই সরকারকে চাপে ফেলা যাবে।

৩. আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের নিষ্ক্রিয়তা:

আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতারা বহুদিন যাবত নির্লিপ্ত। পেঁয়াজ হোক, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি কিংবা অন্য কোন বিষয় নিয়েই আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতা যেমন- তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ সেলিম তাদের খুব একটা কথাবার্তা বা মাথাব্যথা নেই। আর বিএনপি মনে করছে, সিনিয়র নেতাদের সাধারণ মানুষের কাছে যেমন একটা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, এখন যারা মন্ত্রী বা প্রভাবশালী নেতা আছে তাদের সেই জনপ্রিয়তা নেই। তাই এখন যদি সরকার বিরোধী আন্দোলন করা যায় তাহলে তা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

৪. আওয়ামী লীগ জোটের সমস্যা:

নিরবেই আওয়ামী লীগ একা হয়ে গেছে। ৭ জানুয়ারি গঠিত মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগ তাদের শরিকদের বাদ দিয়েছে। শরিকরা প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবাদ না করলেও কান পাতলে তাদের দীর্ঘশ্বাস শোনা যায়। আর এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইছে বিএনপি ও জামাত। বিশেষ করে এখন যেহেতু ১৪ দলীয় জোট থেকেও না থাকার মতো। বিএনপি মনে করেছ একা আওয়ামী লীগকে আক্রমণ করা সবচেয়ে সহজ।

৫. শুদ্ধি অভিযান নিয়ে আওয়ামী লীগের গুটিয়ে যাওয়া:

আওয়ামী লীগের যারা মাঠের কর্মী তাদের একটি বড় অংশই নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়েছে। শুদ্ধি অভিযানের পর আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ জেলে অথবা আত্মগোপনে। তারা দলের জন্য ভালো সংগঠক বলে মনে করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের অনুপস্থিতির জন্য মাঠে লড়াই করার শক্তি আওয়ামী লীগ হারিয়ে ফেলেছে বলে মনে করে বিএনপি। আর সেজন্যই তারা মনে করছে, এখন যদি সরকার বিরোধী একটি আন্দোলন করা যায় তাহলে সহজেই সরকারকে বেকায়দায় ফেলা যাবে।

৬.ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক:

বিএনপির অনেক নেতারা মনে করছে ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কের উষ্ণতা কমতে শুরু করেছে আর তাই এখন যদি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায় তাহলে হয়তো ভারত বা আন্তর্জাতিক মহল আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নেবে না। সেটা বিএনপির জন্য একটা বড় স্বস্তির কারণ বলে মনে করছে বিএনপি।

আর এই সবকিছুর প্রেক্ষাপটেই বিএনপি মনে করছে যে সরকার বিরোধী একটা আন্দোলন গড়ে তোলার এখনই সময়।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.