joynul_abedin

‘রুদ্ধদ্বার’ সেই বৈঠক নিয়ে যা বললেন জয়নুল

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একটি মামলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কারাগারে আদালত বসানোর মধ্যেই বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাকক্ষে সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে ‘রুদ্ধদ্বার’ এক বৈঠকে বসেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৈঠক প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘সংবিধানে আছে জোর করে কাউকে আনা (আদালতে) যাবে না, বিশেষ করে অসুস্থ মানুষকে। অথচ খালেদা জিয়াকে জোর করে নিয়ে আসা হয়েছে। এ সমস্ত বিষয় নিয়েই আমরা আলোচনা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘দলের মহাসচিব এসেছিলেন এনিয়ে আমাদের মতামত নেয়ার জন্য। এখানে অন্য কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। খালেদা জিয়ার জন্য যে আদালত গঠন করা হয়েছে তা আইনগত কিনা, সে বিষয় নিয়েই আমরা বৈঠকে বসেছিলাম।’

সিনিয়র এই আইনজীবী বলেন, ‘আমরা আলোচনা করেছি। আমরা বলেছি, এই যে আদালত করা হয়েছে এটা বেআইনি আদালত। তাই এটার পরবর্তী কী পদক্ষেপ হবে সেটা আমরা আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে জোর করে আদালতে হাজির করা হয়েছে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া এতো অসুস্থ যে তিনি আসতে পারেননি। তবুও তাকে হুইল চেয়ারে করে জোর করে নিয়ে আসা হয়। সরকার দেশের আইন-কানুন না মেনে বেআইনিভাবে গেজেট নোটিফিকেশন করেছে।’

জয়নুল আবেদীন বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) হঠাৎ করে অন্ধকার কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিচারের জন্য একটি আদালত গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অতীতে আমরা তা কখনো দেখিনি এবং বাংলাদেশে কেন পাকিস্তানের ইতিহাসেও নেই যে সাংবিধানিকভাবে কারাগারে কোনো আদালত হতে পারে। যদি দেশে সামরিক শাসন হয় সেক্ষেত্রে যা ইচ্ছা তা করতে পারে। কিন্তু সংবিধান মোতাবেক কারাগারে কোনো আদালত স্থাপন করা যায় না।’

কারণ হিসেবে খালেদা জিয়ার এই আইনজীবী বলেন, ‘সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- বিচার হতে হবে প্রকাশ্যে এবং জনগণের উপস্থিতিতে। অর্থাৎ যেখানে জনগণের উপস্থিতি থাকবে না সেখানে বিচার করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিনিধি সেখানে (কারাগারের আদালত কক্ষ) গেছে। সেখানে গিয়ে দেখেছে একটি অন্ধকার কূপ, একটি গুহা। চব্বিশ ফুট বাই ছাব্বিশ ফুট দৈর্ঘ্য-প্রস্থের আদালত কক্ষ। এই অবস্থার মধ্যে একটি আদালত বসানো হয়েছে।’

এখানে সংবিধান লঙ্ঘনের কিছুই ঘটেনি- আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘তাহলে কি দেশে এখন সামরিক শাসন চলছে? এটা আইনমন্ত্রী জবাব দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘কর্নেল তাহেরের যখন বিচার হয়েছে তখন দেশে সামরিক আইন ছিল। সেখানে কোনো সাংবিধানিক আইন ছিল না। আইনমন্ত্রী যদি দেশের আইন না মানেন তাহলে সে দেশে বিচার ব্যবস্থা কিভাবে চলবে?’

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী, সানাউল্লাহ মিয়া, এএম মাহবুব উদ্দিন, কায়সার কামালসহ বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ   পরিবর্তন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.