hasina-khaleda-ershad

আমাকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যেতে পারবে না : এরশাদ

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ‘আমাকে ছাড়া আওয়ামী লীগের এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ নেই। আগামী নির্বাচন হবে সব দলের অংশগ্রহণে, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। তাই আওয়ামী লীগ যেমন জাতীয় পার্টিকে মহাজোটে রাখতে চায় তেমন আমরাও ২৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার ক্ষমতার অংশীদারিত্ব চাই।

তাই আমার জীবনের এই শেষ ভোটযুদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোট করেই করতে চাই।’ রবিবার রাতে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের ফ্ল্যাটে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদ এ কথা বলেন।

এরশাদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনী আসন ও ক্ষমতা ভাগাভাগির আলোচনা শুরু হয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগেই তা চূড়ান্ত হতে পারে।’ আওয়ামী লীগের কাছে জাতীয় পার্টির জন্য এরশাদ সংসদের ১০০ আসনে মনোনয়ন চাইছেন। ন্যূনতম ৯০টি তাকে দিতে হবে। একইসঙ্গে ক্ষমতায় এলে তাকে সংসদের উপনেতার পদ দিয়ে সম্মানিত করা ও তার পার্টি থেকে ১০ জন নেতাকে মন্ত্রিসভায় রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন।

একইসঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থা ও দূতাবাসে যেসব রাজনৈতিক নিয়োগ হয় তারও অংশীদারিত্ব চান জাপা চেয়ারম্যান। এরশাদ মনে করেন, ক্ষমতা ছাড়ার পর ২৭ বছর ধরে যারা নিবেদিতপ্রাণ হয়ে দল করছেন, এমপি-মন্ত্রী হতে পারছেন না তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে এসব পদে বসানো যায়। তিনি মনে করেন, জোটগতভাবে ক্ষমতায় গেলে শরিক হিসেবে রাজনৈতিক নিয়োগ আওয়ামী লীগ একাই দিতে পারে না প্রধান শরিক হিসেবে জাতীয় পার্টিকেও ভাগ দিতে হবে।

এরশাদ মনে করেন, এগুলো নিয়ে সমঝোতায় কোনো সমস্যা হবে না। আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ ছাড় দিয়েই সমঝোতা করবে। এরশাদ মনে করেন, কেবল আসন ভাগাভাগি ও ক্ষমতার অংশীদারিত্ব দিয়ে জনগণের মন জয় করে রাখা যাবে না। দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করে মানুষের আস্থা ও সমর্থন অর্জন করতে রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনামূলক অঙ্গীকারনামা করতে হবে।

এরশাদ বলেন, এ কথা সত্য, শেখ হাসিনা সরকার সব ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করলেও তাতে জনপ্রিয়তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে সুশাসনের অভাব। গণরায় নিতে হলে উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসনের নিশ্চয়তা মানুষকে দিতে হবে। সুশাসন না থাকলে উন্নয়ন কাজে লাগে না। তার শাসনামল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় ব্যাপক ছাত্র আন্দোলন ও গণ আন্দোলনের মুখেও সীমিত সম্পদে তিনি ব্যাপক উন্নয়ন করেছিলেন। প্রশাসনিক সংস্কার করেছিলেন।

উপজেলাব্যবস্থা চালু করেন। ভূমি সংস্কার করেন। যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেন। কিন্তু উন্নয়ন দিয়ে ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। সুশাসনের অঙ্গীকারে উন্নয়নের নিরাপদ বাংলাদেশের অঙ্গীকারে মহাজোট গঠনের মধ্য দিয়ে মানুষের আস্থা ও জনসমর্থন ফিরিয়ে ভোটে বিজয়ী হওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

আওয়ামী লীগ কেন এককভাবে ক্ষমতায় আসতে পারবে না? এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বলেন, অতীতেও অনেক নির্বাচনে কেউই এককভাবে ক্ষমতায় যেতে পারেনি। হয় জোট করে নয় কোনো দলের সমর্থনে ক্ষমতায় বসতে হয়েছে। এবার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার সুবাদে এবং জনপ্রিয়তা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় আওয়ামী লীগকে গণরায় নিতে জাতীয় পার্টির ওপরই নির্ভর করতে হবে। কারণ, এ নির্বাচনে সব দলই শেষ পর্যন্ত জোটগতভাবে অংশগ্রহণ করবে।

আর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী শরিক হবে জাতীয় পার্টি। এরশাদ বলেন, তার দল দেশের তৃতীয় বৃহত্তম দলই নয়, তার ব্যক্তি ইমেজও রয়েছে মানুষের মধ্যে। মানুষ বরাবর বলছে আরেকবার এরশাদের সরকার। কিন্তু বাস্তবতা তাকে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করতে দেয়নি বলে তিনি সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। আগামী জাতীয় নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে মনে করেন?

এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ বলেন, শুনতে ভালো লাগলেও নির্বাচন একেবারে সুষ্ঠু হবে এমনটি বলা যায় না। অতীতে কখনই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। ভারতেও হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবু মানুষ চাইছে এবারের নির্বাচনটি গ্রহণযোগ্য হোক। তিনি বলেন, সব দলের আন্দোলনের মুখে একটি গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশায় রক্তপাত এড়াতে নব্বই সালে ক্ষমতা ছেড়ে দিলে বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারও সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারেনি।

সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিএনপির মতো ভোটের ময়দানে জাতীয় পার্টিকে সমান সুযোগ দেওয়া হয়নি। জামায়াতকেও দেওয়া হয়েছিল। তাকে কারাগারে আটকিয়েই রাখা হয়নি, টেলিভিশন ভাষণ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। নেতারা হয় পলাতক নয় কারাগারে থেকে ভোট করেছেন। তবু তিনি দুবার ৫টি করে আসনে ও জাপা সংসদে ৩৫টি আসন পেয়েছে।

সেই নির্বাচনগুলোয় যখন যারা পরাজিত হয়েছে তারাই অনিয়ম, কারচুপির অভিযোগ এনেছে। এরশাদ বলেন, সময় ফুরিয়ে গেলেও একেবারে শেষ হয়নি। যারা ব্যাংকের টাকা লুট করেছে, শেয়ারবাজারে ডাকাতি করেছে তাদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করালে সরকারের ইমেজ বাড়ত। যারা দেশের বাইরে টাকা পাচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে মানুষ আশাবাদী হতো।

উৎসঃ   বিডি প্রতিদিন

Check Also

bnp-flag

নতুন সংকটে বিএনপি

দীর্ঘদিন ক্ষমতায় বাইরে থাকার ফলে দলীয় কোন্দল ও উপনির্বাচন-স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভরাড়ুবি এবং সাংগঠনিক দুর্বলতাসহ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin