ershad

দিল্লির কাছে এরশাদের গুরুত্ব কতটুকু?

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ ভারত সরকারের আমন্ত্রণে দিল্লি সফরে এসে গুরুত্বপূর্ণ নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করছেন।

দিল্লি সফররত জাতীয় পার্টির নেতারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও গণতন্ত্র বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাদের দলের যে ভূমিকা এই সফরে ভারত কার্যত তারই স্বীকৃতি দিচ্ছে।

দিল্লিতে পর্যবেক্ষকরাও মনে করছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা তৃতীয় শক্তি হিসেবে জাতীয় পার্টির যে জায়গাটা আছে সেটাকে আরও ভালভাবে বুঝতেই জেনারেল এরশাদকে ভারত আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশে ভোটের বছরে এরশাদের এই দিল্লি সফরের তাৎপর্য কী?

আসলে গত দু-তিনমাসে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি- বাংলাদেশের এই প্রধান দুই দলের নেতারাই ভারতের রাজধানীতে সফর করে গেছেন।

এখন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির যে দলটি দিল্লিতে রয়েছে, ভারত সরকারের হয়ে নিজে গিয়ে তাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে এসেছিলেন ঢাকায় ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু জানাচ্ছেন, ‘অন্য দলের কথা বলতে পারব না, তবে আমরা এসেছি খোদ ভারত সরকারের আমন্ত্রণে আর দিল্লিতেও এখন অবস্থান করছি তাদের আতিথ্যেই।’

‘আসার পর প্রথম দিনেই আমাদের বৈঠক হয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপির সাবেক সভাপতি রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে। পরদিন আমরা বৈঠকে বসি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে।’

তিনি বিবিসিকে আরও বলেছেন, দিল্লিতে তাদের বৈঠক হয়েছে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গেও।

কিন্তু ভারতের এই নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে এরশাদ ও তার সঙ্গীরা ঠিক কী নিয়ে কথাবার্তা বললেন?

‘দেখুন ভারত হল বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। আর ওদিকে বাংলাদেশেও সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখতে জাতীয় পার্টি লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত নির্বাচনে আমরা শুধু এই কারণে অংশ নিয়েছিলাম যাতে বাংলাদেশে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকে।’

‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখনও বিকাশশীল – আমাদের হয়তো অনেক সীমাবদ্ধতাও আছে। কিন্তু যে কোনও অবস্থাতেই আমরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে চাই, আর এ ব্যাপারে ভারতও আমাদের সাথে পুরোপুরি একমত। মূলত এই বিষয়েই দু’পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছে’, বলছিলেন জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।

দিল্লির থিঙ্কট্যাঙ্ক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো জয়িতা ভট্টাচার্য আবার বলছেন, ভারত এখন জামায়াত ছাড়া বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গেই একটা সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী – জাতীয় পার্টিকে আমন্ত্রণ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ।

তার কথায়, ‘তা ছাড়া সে দেশে তারা গুরুত্বপূর্ণ একটি তৃতীয় শক্তি, এবং আপনি চান বা না-চান তারা পার্লামেন্টে প্রধান বিরোধী দলও বটে। এর ওপরে মি. এরশাদ নিজে একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান, কাজেই কেন নয়?’

২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের মতো না-হলেও এবারের নির্বাচনেও জাতীয় পার্টির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, ভারত এই ফ্যাক্টরটাও মাথায় রাখছে বলে বলছিলেন মিস ভট্টাচার্য।

‘প্রথমত বিএনপি এখনও পরিষ্কার করে বলেনি তারা নির্বাচনে যাবে কি না। তবে তারপরও গণতন্ত্রে একটা তৃতীয় শক্তির সব সময়ই কিন্তু বড় ভূমিকা থাকে।’

‘আসলে আমরা এখনও পর্যন্ত জানি না নির্বাচনী চিত্রটা শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াবে। কিন্তু কে বলতে পারে, জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে একটা বড় ভূমিকা নেবে না?’, বলছিলেন জয়িতা ভট্টাচার্য।

কিন্তু এই দিল্লি সফরে ভারতীয় নেতৃত্বর কাছ থেকেই বা জাতীয় পার্টি ঠিক কী প্রত্যাশা করছে?

জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর কথায়, ‘আমাদের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে ভারত কিন্তু বরাবরই আমাদের সমর্থন জুগিয়ে এসেছে। গতবারও তারা ঠিক সেটাই করেছে।’

‘আসলে ভারতের সাহায্য বলতে কি, ভারতে গণতন্ত্র কিন্তু একটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়ে গেছে এবং তাদের থেকে আমরা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারি, অনেক কিছু শিখতে পারি। কোনও দিনই ভারতে সামরিক শাসন আসেনি, তাদের গণতন্ত্র অনেক দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত – এগুলো নিয়ে আমাদের অনেক কথাবার্তা হল!’, জানাচ্ছেন তিনি।

চারদিনের সফর শেষে কাল বুধবারই ঢাকায় ফিরছেন জেনারেল এরশাদ ও তার সঙ্গীরা।

আর তারা এই বার্তা নিয়েই ফিরছেন, যে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কোনও সঙ্কটে জাতীয় পার্টি ইতিবাচক ভূমিকা নিলে ভারতও তাদের পাশেই থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.