প্যারোলে সিঙ্গাপুর যাবেন বেগম জিয়া?

বেগম খালেদা জিয়ার নিকটাত্মীয়রা এখন সিঙ্গাপুরে। লন্ডন থেকে উড়ে এসেছেন কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান। খালেদা জিয়ার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী এবং আরও ক’জন নিকটাত্মীয় এখন সিঙ্গাপুরে। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নয়, এরা এসেছেন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে সিঙ্গাপুরের দু’টি চিকিৎসাকেন্দ্রে খোঁজ খবর নিতে

আজ সোমবার তাঁরা মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। দুপুরে যান সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে। সেখানেও তারা বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যদের এই সিঙ্গাপুর সফর নিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে। পরিবারের কোনো সদস্যই মুখ খুলছেন না।

তবে, একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, সরকার বেগম জিয়াকে লন্ডন ছাড়া অন্য দেশে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি দিতে পারে। এরকম আশ্বাসের কারণেই বেগম জিয়ার আত্মীয়রা সিঙ্গাপুরে এসেছেন। সিঙ্গাপুরে রেখে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার পদ্ধতি এবং করণীয় সম্পর্কে খোঁজ খবর নিচ্ছেন।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বেগম জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশে চিকিৎসার আবেদন করা হচ্ছিল। প্রথমে সরকার তাঁকে প্যারোলে লন্ডনে চিকিৎসার অনুমতি দিতে চেয়েছিল। কিন্তু পরে বেগম জিয়াই প্যারোলের ইচ্ছা থেকে সরে আসেন।

বিএনপির একাধিক নেতা দাবি করেছেন, রাজনীতি করা যাবে না; প্যারোলে এমন শর্ত থাকায় বেগম জিয়া প্যারোলে যেতে অস্বীকৃতি জানান। তবে, দ্বিতীয় দফায় বেগম জিয়ার প্যারোল এবং বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে খুবই গোপনে। এমনকি, বিএনপির নেতৃবৃন্দকেও এই সমঝোতা উদ্যোগ থেকে দূরে রাখা হয়েছে।

একটি সূত্র বলেছে, সিঙ্গাপুরের দু’টি হাসপাতাল বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যগত অতীত রিপোর্ট এবং সম্প্রতি ডা. এফ. এম. সিদ্দিকির নেতৃত্বে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট দেখে, তার দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দিয়েছেন।

এই দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা সিঙ্গাপুরে করা উচিত বলেও তারা প্রত্যয়ন দিয়েছেন। বেগম জিয়ার আত্মীয়রা এই প্রত্যয়ন নিয়ে সরকারের কাছে প্যারোলের আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে পারেন।

তবে, কোন শর্তে বেগম জিয়া প্যারোল পাবেন, সে সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এখনো জানা যায় নি। অবশ্য বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, বেগম জিয়ার চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরই সর্বোত্তম জায়গা। এখানে রাজনৈতিক কোলাহলের সুযোগ যেমন কম, তেমনি সুচিকিৎসাও সম্ভব।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এতিমখানার টাকা আত্মসাতের দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাভোগ করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.