‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো কিছু প্রমাণ হয়নি’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালাস চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপিলের শুনানিতে গতকাল আইনজীবী আবদুর রেজাক খান বলেছেন, দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ইমেজ, পলিটিক্যাল ক্যারিয়ার, পলিটিক্যাল লাইফ ধ্বংস করতে কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তাকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তার সারা জীবনকে পর্যুদস্ত করতেই এই মামলা করা হয়েছে। আর এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের একমাত্র সাক্ষী ও বাদি ও তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ। তিনি ছাড়া অন্য কোনো সাক্ষী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কিছু বলেনি।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর অফিস বা সোনালী ব্যাংক থেকেও কোনো তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে কোনো কিছু নেই। মামলার প্রথম সাক্ষী ছাড়া কোনো সাক্ষী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি বাক্যও উচ্চারণ করেননি। এ মামলার অন্য অ্যাভিডেন্স মেলালে দেখা যাবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো কিছু প্রমাণ হয়নি।

গতকাল বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো: মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে খালেদা জিয়ার আপিলের শুনানিকালে আইনজীবী আলী আবদুর রেজাক খান এসব কথা বলেন।

গতকাল মামলার বাদি ও প্রথম সাক্ষী, হারুন অর রশিদ, মামলার ৩২তম সাক্ষী ও প্রথম অনুসন্ধান কর্মকর্তা নুর আহমেদ এবং ১২ ও ১৩ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্য এ দিন আদালতের উপস্থাপন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান ও এ জে মোহাম্মদ আলী। তাদের সহায়তা করেন ব্যারিস্টা নওশাদ জমির। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খালেদা জিয়ার আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়েছে।

শুনানিতে এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার প্রথম অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নুর আহমেদ তার অনুসন্ধান প্রতিবেদনে খালেদা জিয়াকে সম্পৃক্ত করেননি। অথচ তার মাত্র চার দিনের মধ্যে একটি নতুন তদন্ত শেষ করে অন্য একজন তদন্ত কর্মকর্তা অর্থাৎ হারুন অর রশিদ এ মামলায় খালেদা জিয়াকে সম্পৃক্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছেন।

শুনানির একপর্যায়ে আবদুর রেজাক খান বলেন, আমি বেনিফিট অব ডাউটের কথা বলছি না, আমি বলছি- বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলা প্রমাণ হয়নি।
শুনানির সময় আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, জয়নুল আবেদীন, আমিনুল ইসলাম, কায়সার কামাল, রাগীব রউফ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, মো: ফারুক হোসেন, আনিছুর রহমান খান, আইয়ুব আলী আশ্রাফী, মির্জা আল মাহমুদ, সালমা সুলতানা সোমা প্রমুখ।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ গত ৮ ফেব্রুয়ারি রায় দেন। রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে গত ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল আবেদন (১৬৭৬/২০১৮) দাখিল করেন খালেদা জিয়া। এ আপিল গত ২২ ফেব্রুয়ারি গ্রহণ করেন হাইকোর্ট।

নিম্ন আদালতের দেয়া জরিমানার রায় স্থগিত করেন। পরে গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। এ জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ। এ আবেদনে গত ১৬ মে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেন। তবে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার আপিল নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

এ মামলার আসামি কাজী সলিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমদের করা আপিলের ওপরেও একই সাথে শুনানির আদেশ দেন আদালত। নিম্ন আদালত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কাজী সলিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন ২৪ জুলাই পর্যন্ত : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আগামী ২৪ জুলাই পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছেন আদালত। গতকাল এ মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির ওই তারিখ পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। রাজধানীর বকশিবাজারে স্থাপিত ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত জামিনের সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

গতকাল আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী সানা উল্লাহ মিয়া আদালতে বলেন, এ মামলায় খালেদা জিয়া জামিনে রয়েছেন। তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন জানাচ্ছি। এরপর আদালত খালেদা জিয়ার জামিন ২৪ জুলাই পর্যন্ত বৃদ্ধি করে আদেশ দেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় গত ১ ফেব্রুয়ারি আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দায়ের করে দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ বিচারক বাসুদেব রায় এ মামলায় অভিযোগ গঠন করেন।

Check Also

khaleda_tareq-45645

পরিবারেই বিএনপির নেতৃত্ব চান খালেদা জিয়া

রাজনীতিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আর তাই বিএনপি চেয়ারপারসন পদে তিনি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin