khaleda_04

‘অতীতে এমনটি আমরা দেখিনি’

খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘ দিন তাকে জেলে রাখতে চায়। যেহেতু ইতোমধ্যে নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা হবে এটা সরকারও জানে। ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন হবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এখন আমরা চাচ্ছি ন্যায়নীতির মাধ্যমে আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে বের করে আনবো।

আজ বৃহস্পতিবার কুমিল্লার দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আদেশে দেয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের সভাপতির কক্ষের সামনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জয়নুল আবেদীন বলেন, অতীতে এমনটি আমরা দেখিনি। হাইকোর্ট মেরিটে বেইল কনসিডার করলেও সুপ্রিমকোর্ট এটা ইন্টারটেইন করেছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলা চলতে পারে না। আমরা যেহেতু ওয়ারেন্ট হয়েছে সেহেতু আমরা আবেদন করেছি। আদালত আমাদের বেইল দিয়েছে। আমরা সেই বেইলটা বহাল রাখার জন্য বলেছি।

কুমিল্লার দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত আপিল আবেদন (সিপি ফাইল) করতে বলেছেন আদালত। একই সাথে আগামী ২৪ জুন এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিনও ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। ফলে ঈদের আগে মুক্তি মিলছে না খালেদা জিয়ার।

রাষ্ট্র ও আসামী উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও ‍বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

খালেদা জিয়ার এই আইনজীবী বলেন, আর সরকার চাচ্ছে যে কোন উপায়ে বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রাখতে হবে, কারাবন্দি রাখতে হবে। যে মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে সে মামলায় আমরা জামিন পেয়েছি। অথচ রাজনৈতিক মামলায় যেখানে খালেদা জিয়া বন্দি ছিল গুলশান অফিসে। তাকে সম্পৃক্ত করে আসামি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই দেশের আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা আছে। আমরা আদালতে বলেছিলাম অতীতে এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাননীয় অ্যাটর্নি জেনারেল ডিসক্রিমিনালী ওয়েতে খালেদা জিয়ার আপিলটি নিয়ে এসেছেন।

২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হায়দার পুলের চৌদ্দগ্রামে একটি কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও আশপাশের বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়। মামলাটি বর্তমানে কুমিল্লার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১এ চলমান। ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর এ মামলায় অভিযোগ আমলে নেন আদালত। গত ২৩ এপ্রিল এ মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত আবেদনটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য রাখেন। এ অবস্থায় শুনানি না করে এ মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আপিল আবেদন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এরপর থেকে খালেদা জিয়া ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। ওই রায়ের পর জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন বেগম খালেদা জিয়া। শুনানি শেষে গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন। পরে অর্থাৎ গত ১৬ মে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন। কিন্তু আরো কয়েকটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোয় তিনি কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না।

Check Also

খালেদা জিয়ার বিরক্তি, অভিমান, অনাগ্রহ

বিএনপি নেতাদের উপর বেগম জিয়া বিরক্ত। ছেলের উপর তার একরাশ অভিমান আর রাজনীতির উপর তার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin