জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি: ইব্রাহীম

বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের কোন বিচার হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মুহাম্মদ ইব্রাহীম।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর যে সামরিক আদালত গঠন করা হয়েছিল, সেখানে শুধু অভ্যুত্থানের বিচার হয়েছিল।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সেনা অভ্যুত্থানে তিনি নিহত হয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আজ সে হত্যাকাণ্ডের ৩৭ বছর পূর্ণ হয়েছে।

সেই অভ্যুত্থানের পর গঠিত সামরিক আদালতে ১৩ জন সেনা অফিসারকে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল।

যে সামরিক আদালতে কথিত অভ্যুত্থানকারীদের বিচার করা হয়েছিল, তাতে অভিযুক্তদের পক্ষে আইনি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছিলেন তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা এবং বর্তমানে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম দাবি করেছেন যে, তৎকালীন কর্তৃপক্ষ ঐ সেনা আদালতকে যথাযথভাবে কাজ করতে দেয়নি, ফলে অভিযুক্তরা ন্যায় বিচার পাননি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আইনের ৩১ ধারায় সে বিচার হয়েছিল। সেখানে বিদ্রোহের বিচার হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের কোন বিচার হয়নি।

‘অভিযুক্তরা ন্যায় বিচার পায় নি’

সে বিচারে যেসব সেনা কর্মকর্তাদের ফাঁসি হয়েছিল তাদের পরিবারের অনেক সদস্যরা অভিযোগ করেন যে সেখানে ন্যায় বিচার হয়নি।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, সেনা বিদ্রোহের মূল চালিকাশক্তি এবং নেপথ্যের নায়ককে চিহ্নিত না করে কিছু লোককে বাধ্যতামূলক ফাঁসি দেয়া হয়েছে।

তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা ইব্রাহিম সামরিক আদালতে যেহেতু তাদের আইনগত সহায়তা দিয়েছে, সেজন্য তার কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছে যে অভিযুক্তরা ন্যায় বিচার পেয়েছিল কিনা?

ইব্রাহিম বলেন, আমি সাক্ষী দিচ্ছি যে তারা ন্যায় বিচার পায় নাই। ন্যায় বিচার পাওয়ার স্বার্থে যতদিন কোর্ট মার্শাল চলা উচিত ছিল, সেটা চলতে দেয়া হয় নাই। যেসব সাক্ষী-প্রমাণ হাজির করার জন্য আমরা চেয়েছি, সেগুলো হাজির করতে আমাদের দেওয়া হয় নাই।

যদি সব সাক্ষী-প্রমাণ হাজির করা সম্ভব হতো তাহলে আরো অনেক ব্যক্তি খালাস পেতো বলে মনে করেন সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা।

সেনা বিদ্রোহের মূল চালিকাশক্তি এবং নেপথ্যের নায়ককে চিহ্নিত না করে কিছু লোককে বাধ্যতামূলক ফাঁসি দেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সে সামরিক আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি বলে মনে করেন ইব্রাহীম।

যারা সেসময় ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের পরিবার চাইলে এখন কোন প্রতিকার আশা করতে পারেন?

এমন প্রশ্নে ইব্রাহীম বলেন, বাংলাদেশে এমন কোন আইন নেই যার মাধ্যমে কোর্ট মার্শালের রায় রিভিউ বা পুনরায় পর্যালোচনা করা যায়।
জিয়া হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি কেন?

সেনা বিদ্রোহের বিচার হলেও জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের কোন বিচার হয়নি কেন?

ইব্রাহীম বলেন, জিয়াউর হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য ১৯৮১ সালের রাজনৈতিক সরকার কোন চেষ্টা করেনি।

অন্যদিকে বিচারের জন্য জিয়াউর রহমানের পরিবার যথেষ্ট চেষ্টা করেছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত নন সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা।

সূত্র: বিবিসি

Check Also

bnp-flag

গতিশীল হচ্ছে বিএনপি, তারেক রহমান চাইলেই সব সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারছেন না

বিএনপিতে একটা সময় ছিল, যখন স্থায়ী কমিটির বৈঠক কবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, দলের নেতারা পর্যন্ত তা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin