কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন গয়েশ্বর

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।

যুবদল নেতা গিয়াস উদ্দিন মামুন প্রথম আলোকে তাঁর মুক্তির তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ সময় দলটির নেতা-কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান।

গত ৩০ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাসায় যাওয়ার পথে হাতিরঝিলের পাশে পুলিশ প্লাজা এলাকা থেকে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে আটক করে পুলিশ। এরপর গুলশান থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে আটক বা গ্রেপ্তারের কোনো তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ। পরে রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে গয়েশ্বর চন্দ্রকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি স্বীকার করা হয়। তবে কী কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তখন কিছু জানানো হয়নি। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

বাসায় ফিরেছেন মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তাঁর উত্তরার বাসায় নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে তাঁকে বাসায় নেওয়া হয়। মির্জা ফখরুলের পারিবারিক সূত্র এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

গত সোমবার সকালে বুকে ব্যথা অনুভব করায় ফখরুলকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর স্বাস্থ্যগত কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে তাঁর এনজিওগ্রাম করা হয়।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে জানিয়েছিল, এনজিওগ্রাম করার পর বড় ধরনের কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।

উনাইটেড হাসপাতালে থাকার সময় গণফোরামের সভাপতি ডা. কামাল হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ২০–দলীয় জোট শরিক বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থসহ অনেকেই তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন।

২০১৫ সালে কারাভোগের সময় বেশ কয়েকবার অসুস্থ হন মির্জা ফখরুল। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরেও নেওয়া হয়।

কারাগারে যেতে পারবেন খালেদার চিকিৎসক

কারাগারে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। মেডিকেল বোর্ডের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ না করায় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে কারাগারে যেতে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা খালেদা জিয়াকে কিছু নতুন ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু খালেদা জিয়া তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ নিতে চাইছেন না। তাই তাঁরা মনে করছেন, খালেদা জিয়াকে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

কারাগার ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষার সুপারিশ করেছে। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন গতকাল মঙ্গলবার কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছেছে। কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি হাসপাতাল থেকে প্রতিবেদনটি নিয়ে যান।

 জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনটি আমরা আজ (মঙ্গলবার) হাতে পেয়েছি। প্রতিবেদনে যে সুপারিশ করা হয়েছে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি যেকোনো একটি ভালো হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে নেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া হয়তো তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসককে কারাগারে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।’

Check Also

‘হাজী’ পরিবারের বিস্ময়কর উত্থান

পিতার দুই সংসারের দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান তিনি। অভাব-অনটনে বেড়ে ওঠা। অর্থভাবে লেখাপড়া করতে পারেননি। কিশোর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin