মুক্তিযোদ্ধা দলের কফিন নিয়ে শোভাযাত্রা

তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। বয়স প্রায় ৭০ বছর। গায়ে সাদা ফতুয়া আর মুখে ধবধবে সাদা দাড়ি। আজ মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত শোভাযাত্রায় প্রতীকী কফিন নিয়ে অংশ নিয়েছেন তিনি।

এই মুক্তিযোদ্ধার নাম দেলোয়ার হোসেন। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর এসে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিতে অস্বস্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যেই গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীনতাযুদ্ধ করেছিলাম, সেই গণতন্ত্র আজ কফিনে।’ এর প্রতিবাদ জানাতেই প্রতীকী কফিন নিয়ে স্বাধীনতা দিবসের শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

দেলোয়ার হোসেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান।

নয়াপল্টনের বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে নানা সাজে সজ্জিত হয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। উচ্চকণ্ঠে প্রতিবাদী স্লোগানও দেন তাঁরা। জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের পক্ষ থেকে প্রতীকী কফিনটি নিয়ে আসা হয়। কফিনের গায়ে লেখা ছিল ‘স্বৈরাচারের জাঁতাকলে গণতন্ত্রের অন্তিমযাত্রা, স্বৈরাচারের নিষ্পেষণে গণতন্ত্র এখন কফিনে।’

কফিনের এক অংশ নিজের কাঁধে তুলে নেন দেলোয়ার। এ সময় তাঁর সঙ্গে অন্য কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন। কফিন নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান বলেন, ‘স্বাধীনতার মাসে গণতন্ত্র আজ কফিনে বন্দী। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করাটা অনেকটা কবরের মতো। তাই শোভাযাত্রায় প্রতীকী কফিন আনা হয়েছে।’

রাজধানীতে বিএনপির শোভাযাত্রা

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে স্বাধীনতা শোভাযাত্রা করেছে বিএনপি। পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচি আজ মঙ্গলবার পালন করে দলটি।

বেলা দুইটায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে মালিবাগের শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতৃত্ব দেন।

দুপুর সাড়ে ১২টা থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতা–কর্মীরা নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। বেলা দুইটা নাগাদ নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে সড়কে অবস্থান করেন নেতা–কর্মীরা।

বিএনপির এই শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন এলাকায় সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।

এর আগে বেলা দেড়টার দিকে নয়াপল্টনের সামনে পিকআপ ভ্যানের ওপর নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে আসেন বিএনপি নেতারা। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এরপর শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব বিশ্বাস করি, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাস করি, তাদের খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবার জন্য শপথ নিতে হবে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করার জন্য শপথ নিতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘খুব পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, এ দেশের মানুষ শান্তি চায়, তাদের অধিকার ফিরে পেতে চায়, গণতন্ত্রকে ফিরে পেতে চায়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে। সত্যিকার অর্থে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের জন্য একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘এটাই হোক আজকের দিনে আমাদের শপথ।’

Check Also

khaleda_zia

খালেদা জিয়ার জামিনের অপ্রকাশ্য যত শর্ত

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্তত দু`দিন বলেছেন যে, খালেদা জিয়া এখনও গৃহবন্দি আছেন। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin