kader_photo

স্বৈরশাসক এরশাদের পক্ষে কাদেরের সাফাই

সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ক্ষমতা দখলের দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তার দল জাতীয় পার্টির জনসভা করার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ নেতা সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এ দেশে ‘খারাপ লাগার মত’ আরও অনেক বিষয় আছে।

তিনি বলেছেন, “তারাতো নিবন্ধিত বৈধ রাজনৈতিক দল হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ দেশে এ সকল বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাটি করে লাভ নেই।”

জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে সরিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন তখনকার সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পরে তিনি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন।

বিএনপি ও আওয়ামী লীগের যুগপৎ আন্দোলন গণআন্দোলনের রূপ নিলে ১৯৯০ সালে ক্ষমতাচ্যুত হন এরশাদ। পরে দুর্নীতির দায়ে তাকে কারাগারেও যেতে হয়।

জাতীয় পার্টি এখন আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী। সরকার এবং বিরোধী দল- দুই জায়গাতেই এরশাদের দলের নেতারা আছেন।

শনিবার এরশাদের সেই ক্ষমতা দখলের দিনটিতেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করে জাতীয় পার্টি, যেখানে এরশাদ বলেন,আবারও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তার দল এখন ‘প্রস্তুত’।

ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউয়ে রোববার বিআরটিসির নতুন বাস সেবার উদ্বোধন করতে এসে জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

জবাবে তিনি বলেন, “স্বৈরাচার শক্তি হিসাবে আমরা যাকে বলি, স্বৈরাচার পতনের কয়েক মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনে এরশাদ সাহেব পাঁচ সিটে (আসন) বিজয়ী হয়েছিলেন। তারাতো নির্বাচন করে এসেছে, এখন সংসদে বিরোধী দল হিসাবে আছে। বৈধ রাজনৈতিক দল হিসাবে তাদের সভা-সমাবেশ নতুন কিছু নয়। এখন সোহরাওয়ার্দীতে করার পর কেন প্রশ্ন আসবে।”

আওয়ামী লীগ এক সময় এরশাদবিরোধী আন্দোলন করেছিল, সেই দৃষ্টিকোণ থেকে জাতীয় পার্টির শনিবারের সমাবেশ নিয়ে খারাপ লেগেছে কিনা এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, “এ দেশে খারাপ লাগার আরও বিষয় আছে। সেগুলোতো হজম করে যাচ্ছি।”

জার্মান এক গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে স্বৈরশাসনে থাকা দেশের কাতারে ফেলার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটা নিয়ে তার কিছু বলার নেই।

“আমাদের দলের সিনিয়র সদস্য তোফায়েল আহমেদ ও এইচ টি ইমাম সাহেব এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তবে আমি এইটা বুঝি, যেই মুহূর্তে জাতিসংঘ আমাদের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রাথমিক স্বীকৃতি দিল। সেই মুহূর্তে এই রিপোর্ট কেন? এইটা আমার প্রশ্ন।”

‘তারা পাকিস্তানের দোসর’

একাত্তরের কালরাতের স্মরণে ২৫ মার্চ যারা ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে না, তাদের ‘পাকিস্তানের দোসর’ বলেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, “যারা এই দিবস পালন করছে না, করবে না, তারা পাকিস্তানের স্বার্থ রক্ষা করছে।

“এই দেশে কারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে? কারা জঙ্গিবাদে মদদ দিচ্ছে এটা মানুষ জানে। এরা পাকিস্তানের বন্ধু হিসেবেই পরিচিত।”

বাঙালির মুক্তির আন্দোলনের শ্বাসরোধ করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের সেই অভিযানে কালরাতের প্রথম প্রহরে ঢাকায় চালানো হয় গণহত্যা। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান।

এরপর নয় মাসের যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং জাতির অসাধারণ ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।

জাতীয় সংসদের স্বীকৃতির পর ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ উপলক্ষে রোববার রাতে সারা দেশ এক মিনিট ‘ব্ল্যাক-আউট’ কর্মসূচি পালন করা হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “যারা পালন করছে না, তাদের বাংলাদেশের মানুষ কী ভাববে? পাকিস্তানের দোসর। যারা এই গণহত্যার দায় স্বীকার করেনি, দুঃখ প্রকাশ করেনি, অনুতাপ করেনি, পাকিস্তানের সেই বন্ধুরাই গণহত্যা দিবস পালন করে না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.