খালেদা জিয়ার মুক্তির পরই ২০ দলীয় জোটের আসন বণ্টন

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক২০ দলীয় জোটনেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির পরই নির্বাচনি আসন বণ্টন নিয়ে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে আসন বণ্টন নিয়ে কথা ওঠার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে শরিক দলগুলোর অভিমত জানতে চান।

শরিক দলগুলোর নেতারা নির্বাচনের আগে জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শ দেন। বিষয়টি নিয়ে শনিবার (২৪ মার্চ) রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শরিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শরিক দলগুলোর নেতারা বাংলা ট্রিবিউনকে এমন তথ্য জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে জোটের একটি শরিক দলের চেয়ারম্যান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির আগে আসনের বণ্টনের ব্যাপারে এই সময়ে কোনও আলোচনা করা যাবে না। বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, যারা নির্বাচন নিয়ে কাজ করতে চান, তারা কেবল নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে প্রস্তুতি নেবেন। যদি সত্যিকার অর্থে নির্বাচন হয়, তাহলে আসন বণ্টন সমন্বয় করা হবে।’

জোটের শরিক দল বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি, এরপর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সাপেক্ষে আসন বণ্টনের বিষয়ে আলোচনা হবে। এ বিষয়ে জোটের সবাই একমত হয়েছেন।’

বৈঠকে অংশ নেওয়া জোটের একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, বৈঠকের শুরুতেই আন্দালিভ রহমান পার্থ সম্প্রতি গণমাধ্যমে আসন বণ্টন বিষয়ে প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানতে চান, ‘আসলেই এ ধরনের কোনও তৎপরতা আছে কিনা।’ পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আগে বিএনপির চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে হবে। এরপরই নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা শুরু করা যেতে পারে।’ তার এই বক্তব্যে জোটের উপস্থিত শরিক দলগুলোর নেতারা ঐকমত্য পোষণ করেন। এর আগে এলডিপি ও জাগপার গণমাধ্যমে বিবৃতির বিষয়টি নজরে আনা হলে দল দু’টির প্রতিনিধিরা বিষয়টি তাদের জানা নেই বলে জানান। এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ ধরনের বিবৃতিতে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের প্রথম এজেন্ডা জোটনেত্রীর মুক্তি, এরপরই নির্বাচনের পরিবেশ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হলে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু করা হবে।’

জোটের একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এখনই নির্বাচনের আসন নিয়ে আলোচনা করার কোনও সুযোগ বিএনপি বা জোটের শরিকদের সামনে নেই। এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিকল্পনা থাকলেও বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও নীতি-নির্ধারকরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই আসন বণ্টন বিষয়ে আলোচনা সামনে আনবে বিএনপি।

বৈঠকে অংশ নেওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসন বণ্টনের কিছুই নেই। তারা বলেছেন, চিন্তার কোনও কারণ নেই, এখন নেত্রীর মুক্তি, গণতন্ত্রের মুক্তি ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনাই সবার চিন্তা। আসনের কোনও ইস্যু নেই। যখন নির্বাচনি পরিবেশ সৃষ্টি হবে, তখন ২০ দলীয় জোট থেকে যাকে যেভাবে দেওয়া হবে, সেভাবেই তারা নির্বাচন করবেন।’

এ বিষয়ে জোটের সিনিয়র নেতা খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসনের কথা একেবারে বাদ। আসনের ব্যাপারে কোনও আলোচনা এই সময়ে করা যাবে না। এক নম্বর হলো, নেত্রীকে মুক্ত করা।’

খেলাফত মজলিসের আমির আরও বলেন, ‘নির্বাচনের বিষয়ে কোনও প্রার্থীর নাম আগেই ঘোষণা করা বা এসব নিয়ে কথা বলার সুযোগ নেই। যদি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ আসে, তাহলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আসন বণ্টন করা হবে। আগে থেকেই কিছু বলার নেই।’

এদিকে, বিজেপি সভাপতি আন্দালিভ রহমান পার্থ জানান, ‘জোটের বৈঠকে জেলা সফর, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রচারপত্র বিলি করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে কবে নাগাদ এ কর্মসূচিগুলো পালন করা হবে, তা শিগগিরই বসে ঠিক করা হবে।’

জোটের বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে জোটের নতুন সমন্বয়ক নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়া জার্মানির সমীক্ষা নিয়ে জোটের বৈঠকে আলোচনা হয়। এই গবেষণাটি ২০ দলীয় জোটের অভিযোগকেই প্রমাণিত করেছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচির বিষয়ে ২০ দলীয় জোট থেকেও কর্মসূচি দেওয়ার আলোচনা হয়। শিগগিরই জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মসূচি ঠিক করা হবে নতুন সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খানের সমন্বয়ে।

বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধি মাওলানা আবদুল হালিমও জোর দিয়েছেন জোটগত কর্মসূচির বিষয়ে। তিনি বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন করতে জোটগতভাবেই কর্মসূচি পালন করা হোক।’

শনিবার সন্ধ্যা সাতটায় গুলশানের জোটের বৈঠক শুরু হয়। রাত সাড়ে নয়টার দিকে বৈঠক শেষ হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় পার্টির (জেপি) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহদাত হোসেন সেলিম, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লৎফুর রহমান, ইসলামী ঐক্যেজোট (একাংশ) অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব প্রমুখ।

বিএনপির নেতাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও উপস্থিত আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।বাংলা ট্রিবিউন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.