bnp-flag

আজ দেশজুড়ে বিএনপি’র লিফলেট বিতরণ

জিয়া অরফানেজ মামলায় কারাগারে থাকা দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকাসহ সারা দেশে আজ বৃহস্পতিবার লিফলেট বিতরণ করবে বিএনপি।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এই লিফলেট বিতরণের জন্য এরই মধ্যে কেন্দ্র থেকে পৌঁছে গেছে জেলায় জেলায়।

এর আগে গত মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রয়ারি) বিকেলে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিএনপি’র বক্তব্য সম্বলিত লিফলেট স্থানীয় নেতাদের নেতৃত্বে প্রতিটি জেলায় এ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, গত কয়েক দিন আগে গণমাধ্যমে জানতে পারলাম-আবারো গ্যাস ও জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারনে মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। তার ওপর চালের মূল্য বর্তমানে আবারো ৫০ থেকে ৭০ টাকা। বর্তমানে সাধারণ মানুষ কোনমতে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছে। গরিব মানুষরা পেট ভরে ভাত খেতে পায় না। বিদ্যুতের অভাবে এই সেচ মৌসুমে কৃষি কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তার ওপর সরকার গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির যে উদ্যোগ নিচ্ছে তা শুধু ধ্বংসাত্মক নয়, গরিব মানুষকে পথে বসিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান এ মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তারেক রহমানসহ বাকিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর ওই দিনই কড়া নিরাপত্তায় খালেদা জিয়াকে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই বন্দি আছেন।

এ মামলায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দিনের শুনানি শেষে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আদেশে জানান, বিচারিক আদালতের নথি পেলেই খালেদা জিয়ার মামলার আদেশ দেয়া হবে।

ড. কামালকে প্রস্তাব দেয়ার কথা নাকচ করেছে বিএনপি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার আইনজীবী হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন ড. কামাল হোসেন- গণমাধ্যমের এমন খবর ‘বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই কথা জানিয়েছেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আপিল আবেদনে আইনজীবী হতে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনের প্রত্যাখ্যান সংক্রান্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর সত্যের অপলাপ।

বিবৃতিতে রুহুল কবির রিজভী বলেন, কতিপয় গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে যে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণফোরাম সভাপতি ও দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নিকট যে উদ্দেশ্য নিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন সেটি ড. কামাল হোসেন প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ ধরনের সংবাদ সম্পূর্ণভাবে সত্যের অপলাপ। প্রকৃত সংবাদটি হচ্ছে- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে পরামর্শ করতে গিয়েছিলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে অনুরোধ করছি।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আইনি পরামর্শের জন্য সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আজ সাক্ষাৎ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর মতিঝিলের টয়োটা টাওয়ারে তারা বৈঠক করেন।

বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রেজাক খান ও আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে ড. কামাল হোসেন ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন,‘আমরা মামলার ব্যাপারে পরামর্শের জন্য ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে গিয়ে ছিলাম। তিনি মামলার খোঁজ-খবর নিয়ে খালেদা জিয়ার প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন এবং আইনগত পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আমাদের বলেছেন, ‘এ মামলার নথি দেখে তো মনে হয়েছে; খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অভিযোগ নেই; এ মামলায় জামিন হয়ে যাওয়ার কথা।’ তিনি আমাদের এই মামলার একটি ফাইলও রেখেছেন।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদনে ড. কামাল হোসেনকে আইনজীবী হিসেবে পেতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন,‘এটা আমি বলতে পারব না, বিএনপির মহাসচিব বলতে পারবেন।’

অপরদিকে সাক্ষাতের সময় উপস্থিত থাকা গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন,‘বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন এসেছিলেন স্যারের কাছে (ড. কামাল হোসেন)। স্যার জানিয়েছেন, তিনি এখন ক্রিমিনাল কেস (ফৌজদারি মামলা) করেন না। তবে খালেদা জিয়ার প্রতি তাঁর সিমপ্যাথি (সহানুভূতি) থাকবে।’

ড. কামাল হোসেনকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী হতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়ে বিএনপির অনুরোধ ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। উল্টো তিনিসহ (ড. কামাল হোসেন) সুশীল সমাজের সব প্রতিনিধি বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

রায় ঘোষণার পর থেকেই কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পুরান ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে সেখানে রাখা হয়েছে খালেদা জিয়াকে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দায়ের করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। ২২ ফেব্রুয়ারি আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। সেই সঙ্গে স্থগিত করেন খালেদা জিয়ার অর্থদণ্ড। একই সঙ্গে জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেন। ওই দিন শুনানি শেষে নিম্ন আদালত থেকে নথি আসার পর জামিনের বিষয়ে আদেশ দেবেন বলে জানান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের বেঞ্চ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.