bnp

নেতাদের জিজ্ঞাসা>>খালেদা না থাকলে দল চালাবে কে?

বিএনপির বর্তমান কমিটির প্রথম জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা বসছে কিছুক্ষণ পর। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে সামনে রেখে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠক থেকে আগামী দিনের আন্দোলন কর্মসূচি, রায় বিপক্ষে গেলে দল চালাকে কে এসব কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা হবে বলে নির্বাহী কমিটির নেতারা জানিয়েছেন। সারাদেশ থেকে আসা কমিটির সদস্যদের পরামর্শের আলোকে দলের নীতিনির্ধারকরা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিবে এমনটাই আশা তাদের।

কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। শনিবার রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিএপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক।

নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘গঠনমূলক কর্মসূচির পাশাপাশি আগামীতে নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে কথা বলবেন শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। যে কারণে কিভাবে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামা যায় যাতে ভোটের অধিকার ফিরে পাবো সেটাই প্রত্যাশা। এর পাশাপাশি চেয়ারপারসনের বিপক্ষে রায় গেলে আগামী দিনে দল কিভাবে চলবে তারও সুষ্পষ্ট নির্দেশনা জানতে চাইবো। এছাড়া যোগ্য, বিচক্ষণ ও ত্যাগী নেতাদের দায়িত্ব দেয়ার দাবি জানাব।’

নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি চেয়ারপারসন আজকে আমাদের সবার পরামর্শ শুনবেন। পরামর্শের আলোকে আগামী দিনে দল পরিচালনা, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলন কর্মসূচি, নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ঢাকাটাইমসকে বলেন, অনেক কষ্টের মধ্য করে নির্বাহী কমিটির বৈঠক করতে হচ্ছে আমাদের। এটা নিন্দনীয়।

তিনি বলেন, বৈঠকে অংশ নিতে আসা সদস্যরা চলমান রাজনৈতিক নানা বিষয়ে চেয়ারপারসনের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তিনিও নেতাদের সঙ্গে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, আগামী নির্বাচন ও মামলার রায় নিয়ে কথা বলবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আগামীদিনের জন্য পথচলার নির্দেশনা দেবেন চেয়ারপারসন।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল যখন প্রয়োজন তখন নির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করে। দেশের এই রাজনৈতিক সংকটকালীন মুহূর্তে নির্বাহী পরিষদের সভা গুরুত্ব বহন করে। আগামী দিনের কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা হবে সভায়।

নির্বাহীর কমিটির সভা উপলক্ষে সকাল থেকেই সদস্যরা আসছেন লা মেরিডিয়ান হোটেলে। এখনো বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আসেননি। তিনি এসে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখবেন।

(ঢাকাটাইমস

খালেদা কেঁদে উঠতেই শ্লোগান, আমার নেত্রী আমার মা জেলে যেতে দেবোনা

ছেলেদের কথা স্বরণ করে আবেগী হয়ে পড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এসময় কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে তিনি দুই ছেলের স্বৃতিচারণ করেন।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় স্বাগত বক্তব্যে দেয়ার সময় দুই ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমানের কথা স্বরণ করতেই কেঁদে দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

এসময় তাকে সাত্বনা দিয়ে নেতাকর্মীরা শ্লোগান দেন ‘আমার নেত্রী আমার মা, জেলে যেতে দেবো না’। ‘মা তুমি এগিয়ে চলো আমরা আছি তোমার সাথে।’

এ সময় খালেদা জিয়া তারেক রহমান ও কোকোর ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আমার এক ছেলে (আরাফাত রহমান কোকো) মারা গেছে। আরেক ছেলে (তারেক রহমান) অসুস্থ। শত ইচ্ছা করলেও তাদের আমি কাছে রাখতে পারছি না। মা হয়ে এর চেয়ে কষ্টের আর কি আছে?’

নিজেকে সামলে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্তানদের মতই আমার দলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন এই সরকারের জুলুম-নির্যাতনের শিকার। সারাদেশের মানুষেরই ওপর দুঃশাসন, অত্যাচার, খুন, গুম, জেল-জুলুম জেঁকে বসেছে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ এসব থেকে মুক্তি চায়। সেজন্য তারা পরিবর্তন চাইছে। এটা অন্য কোনো পথে নয়, জনগণের ভোটের মাধ্যমেই হতে হবে।’

খালেদা জিয়া বলেন, দেশে এখনো ১/১১’র ভূত রয়েছে। বলা চলে তারা আরো বেশি করে চেপে বসে আছে। বিএনপির অনেকের ওপরও এই ভূত ভর করেছে।

তবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তার দল বিএনপি শত জুলুম-নির্যাতনের মধ্যেও এক এবং ঐক্যবদ্ধ আছে।

খালেদা জিয়ার এ বক্তব্যের সময় উপস্থিত নেতারা ‘আমাদের নেত্রী আমাদের মা। জেলে যেতে দেব না; বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.