গয়েশ্বরকে ধরিয়ে দিলেন মির্জা আব্বাস?

বিএনপির নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে কে ধরিয়ে দিয়েছে? বিএনপির অনেক নেতাই অভিযোগ করেছেন, বিএনপির আরেক নেতা মির্জা আব্বাসই তাঁকে ধরিয়ে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিএনপিতে এখন তোলপাড় চলছে। একাধিক বিএনপি নেতা বলছেন, সরকারের ইঙ্গিতেই মির্জা আব্বাস গয়েশ্বরকে ব্যবহার করেছেন।

বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, ৮ ফেব্রুয়ারির আগে বিএনপি বড় ধরনের কোনো সহিংসতায় জড়াবে না। শক্তি ক্ষয় করবে না। কিন্তু ৩০ জানুয়ারি মির্জা আব্বাসের লোকজন পুলিশ ভ্যানে চড়াও হয়ে আসামিদের ছিনিয়ে নেয়। অথচ ওই দিন কর্মীদের জড়ো করার দায়িত্বে ছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গয়েশ্বর কর্মীদের বলেছিলেন, শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিতে।

কিন্তু মির্জা আব্বাসের ইঙ্গিতে কর্মীরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পুরো ঘটনায় গয়েশ্বর নিজেই অবাক হয়ে যান। পরে টেলিফোনে তিনি মির্জা আব্বাসকে বলেন, এটা কী হলো? আমরা এখনই কেন এসবে জড়ালাম। উত্তরে মির্জা আব্বাস বলেন, দায়িত্ব তোমার, লোক তোমার, তুমি আমারে প্রশ্ন কর কেন? মঙ্গলবার রাতেই গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গ্রেপ্তার হন।

বাংলা ইনসাইডার

‘এদের লক্ষ্য রাখুন’

বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলার রায় ৮ ফেব্রুয়ারি। রায় নিয়ে বিএনপির কিছু নেতা উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন। কিন্তু স্থায়ী কমিটির অর্ধেক সদস্যই এ ব্যাপারে নীরব। তাদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বেগম জিয়া নিজেও।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য তরিকুল ইসলাম। তরিকুল ইসলাম এখন গুরুতর রোগে আক্রান্ত। দলের কোনো কর্মসূচিতেও তাঁকে খুব একটা পাওয়া যায় না। কিন্তু বেগম জিয়া আশা করেছিলেন, রায় নিয়ে অন্তত একটা বিবৃতি হলেও বিএনপির এই প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য দেবেন। সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) মাহাবুবুর রহমান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য।

দলের ভেতর তিনি সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত। ওয়ান ইলেভেনে বেগম জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর প্রস্তাব তিনি দিয়েছিলেন। এজন্য কর্মীরা জিয়ার কবরের কাছে তাঁকে ধাওয়া দিয়ে লাঞ্ছিত করেছিল। সাম্প্রতিক বিতর্কে তিনি নীরব। এই মামলার রায়ে বেগম জিয়া দণ্ডিত হলে তাঁর ভূমিকা কী হবে এটা বিএনপির চর্চার বিষয়। পরিচ্ছন্ন রাজনীতির মানুষটি মনে করেন, ‘আদালতের রায় নিয়ে রাজনীতি করা উচিৎ নয়।’

সম্প্রতি বিএনপির গঠণতন্ত্র সংশোধনেও এই সাবেক সেনাপ্রধান সায় দেননি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা। তিনিও অসুস্থ। রায় পরবর্তী রাজনীতি নিয়ে তিনিও মুখ বন্ধ রেখেছেন। ড. আবদুল মঈন খান একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য হলেও রায়ের ব্যাপারে তিনিও নিশ্চুপ।

স্থায়ী কমিটির সদস্য না হলেও বিএনপিতে আছেন শুরু থেকেই। চট্রগ্রাম বিএনপি তাঁর হাতেই গড়া। আবদুল্লাহ আল-নোমান। রায় নিয়ে আজ পর্যন্ত তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া শোনেনি কেউ। প্রতিক্রিয়াহীন জাতীয় পার্টি থেকে এসে ভাইস চেয়ারম্যান হওয়া শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। এক সময় কুৎসিত কথা বার্তা বলায় তাঁর খ্যাতি ছিল।

এখন তিনি নাকি দলবদলের প্রহর গুনছেন। আরেক ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদও রায় বিতর্ক থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েই তাঁর ব্যস্ত সময়। চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফও বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। এখন ভাইস চেয়ারম্যান। এই বিতর্কে তিনিও আড়ালে আছেন। রায়ের পর আন্দোলনের হুমকি ধামকিতে তাঁর সায় নেই।

এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীও সরকার পতনের কোনো হাক ডাকে নেই। বিএনপির মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে- এই গুরুত্বপূর্ণ নেতারা নীরব কেন? বেগম জিয়ার রায় নিয়ে যখন উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ, তখন অনেক নেতাই তাঁদের নিজ নির্বাচনী এলাকায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

এরাই কি তাহলে সেই বিএনপি, যেই বিএনপি বেগম জিয়া দণ্ডিত হবার পরই আত্মপ্রকাশ করবে? এরাই কি সেই বিএনপি যারা আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে? বিএনপিতে এই গুঞ্জনগুলো ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠেছে। বিএনপির নেতা কর্মীরই বলছে এদের লক্ষ্য রাখুন।’

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.