bnp_jamat

জামায়াত ও খেলাফত মজলিশ ছাড় দেবে না বিএনপিকে

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসন বণ্টনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সিলেট জেলার দ্বন্দ্ব ও বিরোধের রেশ ছড়িয়ে পড়তে পারে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে। জোটের শরিক জামায়াত ও খেলাফত মজলিশ সিলেটের দুটি আসনে আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে কোনোভাবেই ছাড় দবে না বলে জানিয়েছেন সংগঠন দুটির নেতারা। তবে আগামীতে জোটের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে তাদের মনোনয়ন।

এদিকে বিশেষ করে জেলার দুটি আসনকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী শরিক জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিশের সঙ্গে বিএনপির আঞ্চলিক ও কেন্দ্রের সম্পর্কের উষ্ণতা বা শীতলতার বিষয়টি নির্ভর করছে। এ কারণে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, বিরোধের মাত্রা তত প্রকাশ্যে আসবে বলেও ধারণা পাওয়া গেছে সরেজমিনে। সিলেট জেলা ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সিলেট-৬ আসনে জেলা (দক্ষিণ) জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান ও সিলেট-২ আসনে খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলীর প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি দলীয়ভাবে চূড়ান্ত হয়েছে। দল দুটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুটি আসনে প্রার্থিতার বিষয়ে তারা কোনো ছাড় দেবেন না।

এক্ষেত্রে জোটগত নির্বাচনের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে ওপেন প্রার্থী দেয়ার আলোচনা হতে পারে জোটে। যদিও এখনই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার পক্ষে নয় বিএনপির কেন্দ্র। সিলেট বিএনপি ও কেন্দ্রের সিলেট বিভাগীয় দায়িত্বশীল নেতারা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে প্রতিবেদককে একই কথা জানিয়েছেন, কোনোভাবেই সিলেট-২ ও সিলেট-৬ আসনটি তারা ছাড়তে রাজি নন।

যুক্তি হিসেবে সিলেট জেলার নেতারা বলছেন, সিলেট-২ আসনটি বিএনপির নিখোঁজ সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীর আসন। এই আসন থেকে তার স্ত্রী ও দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহমিনা রশীদ লুনার প্রার্থিতাই চূড়ান্ত। ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর থেকে আসনটিকে কেন্দ্র করে সারাদেশেই নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও আবেগের হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ফলে, দাঁড়াইলেই জয় বলে অনেক নেতার দাবি। জোটের শরিকদলগুলোর তরফে বলা হচ্ছে, ইলিয়াস আলীকে কেন্দ্র করে আবেগ থাকলেও বাস্তবতা এই যে, খেলাফত মজলিসের সারাদেশে কয়েকটি জায়গায় অবস্থান শক্ত- এর মধ্যে অন্যতম সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসামানীনগর ও বালাগঞ্জ আংশিক) আসনটি। এই আসনে দলীয় প্রার্থী মুনতাসির আলীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ। বিশেষ করে চারদলীয় জোট গঠিত হওয়ার পর রাজপথে ছাত্র মজলিশের সভাপতি হিসেবে হাবিবুন নবী সোহেল, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আমির নুরুল ইসলাম বুলবুলদের সঙ্গে একসঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। গ্রেফতার-রিমান্ডের শিকার হয়েছেন মুনতাসির আলী।

মুনতাসির আলীর ঘনিষ্ঠরা বলছেন, জোট থেকে মনোনয়ন না দিলেও ভোট করবেন তিনি। এক্ষেত্রে জোটের তরফে আসনটিকে ওপেন রাখতে হবে। খেলাফত মজলিশের স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, এই আসন নিয়ে জোটের শীর্ষপর্যায়ে না বসলে কেন্দ্রীয়ভাবেও বিরোধ ছড়িয়ে পড়বে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, এর রেশ তত বাড়বে বলেও সতর্ক করেন সিলেট জেলা মজলিশে সিনিয়র এক নেতা। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লুনা ও মুনতাসিরকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

অনেকে মুনতাসির আলীকে প্রার্থী হিসেবে দেখলেও বিএনপির সমর্থন প্রয়োজন হবে জানান। তবে খেলাফত মজলিশে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক মনে করেন, তিনি জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে এই জটিলতার সমাধান করবেন। তারও ভাষ্য, ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহমিনা রশীদ লুনার প্রতি দেশে-বিদেশে নেতাকর্মীদের আবেগ আছে। তাকে সবাই সংসদে দেখতে চায়। মাওলানা ইসহাক সিলেট-২ আসনের জটিলতা ভেঙে দেয়ার কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি চাই লুনাকে শুধু এমপি না, মন্ত্রীও করা হোক। আবার আমি মুনতাসির আলীকেও এমপি চাই। এক্ষেত্রে তিনি সমাধান করবেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে। মাওলানা ইসহাক বলেন, আমি ম্যাডামকে বলব, লুনাকে সংরক্ষিত আসন থেকে এমপি করে মন্ত্রিত্ব দেয়া হোক। তাকে সমাজকল্যাণ বিভাগের মন্ত্রী করা হোক। এরশাদ সরকারের সময় রাজিয়া ফয়েজ সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন। তার সঙ্গে ভাইবোনের সম্পর্ক ছিল আমার। এই মন্ত্রণালয়ে লুনাও ভালো করবে।

জোটের এই শীর্ষ নেতা জোর দিয়ে বলেন, আমি এই আসনের সমস্যা কাটিয়ে দিতে পারব আশা করি।

অন্যদিকে সিলেট-৬ আসনটিতে প্রার্থী হতে চান জেলা শাখা দক্ষিণের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান। ১৪ ডিসেম্বর সিলেট নগরীতে নিজের কার্যালয়ে বসে এ প্রতিবেদককে জানান, তাকে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী চায় দল। এ জন্য কাজও করছেন তিনি। বিয়ানীবাজার উপজেলা ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী, জেলা সভাপতি আবদুল কাহের শামীম, ট্রাভেলস ব্যবসায়ী আবদুর রশীদ মোল্লাহ।

সিলেট ২০ দলীয় জোটের সূত্রগুলো জানায়, জেলার ৬ নম্বর আসটিকে কেন্দ্র করে জটিলতা হবে জামায়াতের সঙ্গে। দলটির জেলার দক্ষিণ শাখার আমির হাবিবুর রহমান এই আসন থেকে একবার নির্বাচন করে হেরেছেন। পাশাপাশি সিলেট সদর আসন থেকে ইনাম আহমেদ চৌধুরী মনোনয়ন না পেলে ৬ আসন থেকে পেতে পারেন। আর জেলা বিএনপি সভাপতি আবদুল কাহের শামীমও এই আসন থেকে প্রার্থী হতে চান। যদিও তার অভিব্যক্তি, জোটই এই আসন থেকে প্রার্থী ঠিক করবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিলেট বিভাগীয় দায়িত্বশীল নেতারা এখনই কোনো মন্তব্য করতে নারাজ।

তাদের ভাষ্য, জটিলতাপূর্ণ আসনগুলো নিয়ে জোটের শীর্ষপর্যায় থেকে আলোচনা হবে। একই মন্তব্য করলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন। তিনি বলেন, নির্বাচনের এখনো এক বছর বাকি। এখনই চূড়ান্ত কথা জানানোর সময় হয়নি। তবে যেখানে ছোটখাটো ভুলভ্রান্তি আছে, সেগুলো আলোচনা করলেই সেরে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মাদ সাইফুদ্দিন খালেদ দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। দীর্ঘদিন যাবত তিনি পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের নির্দেশে এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করে সুদূঢ় করছেন। তার তৎপরতার কারণে অতীতের চেয়ে সেখানে জাপার সাংগঠনিক কার্যক্রম দিন দিন বৃদ্ধি হচ্ছে। একইসঙ্গে সামাজিক উন্নয়নে তার রয়েছে নানা অবদান। এমনটি জানিয়েছে স্থানীয় জাপার সব মহলের নেতাকর্মী। তারা বলেন, সাইফুদ্দিন খালেদ সিলেট বিভাগীয় শহরে রয়েছে তার অসংখ্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান।

বর্তমানে তিনি সিলেট সিকিউরিটিজ লিমিটেড, সিলেট গ্রামার স্কুলের চেয়ারম্যান ও দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইনান্স লিমিটেডসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা। অপরদিকে জাপা যদি একক নির্বাচনে অংশ নেন সেক্ষেত্রে সেই তার বিকল্প দলের আর কোনো যোগ্য প্রার্থী নেই। আর মহাজোট হয়ে যদি জাপা আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন সে ক্ষেত্রেও তার বিকল্প প্রার্থী কেউ নেই বলে জানান স্থানীয় জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতারা।

মানবকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.