khaleda_05

‘খালেদা জিয়ার উপস্থিত হওয়ার দরকার নেই’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দেয়ার জন্য আগামী বুধবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার দরকার নেই বলে জানিয়েছেন বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। তবে বুধবার ও বৃহস্পতিবার ধার্য দিনে তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলবে।

মঙ্গলবার পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ম্যাডামের আসার দরকার নেই। উনি জামিনে থাকবেন। তবে মামলার অপর আসামি শরফুদ্দিন ও কাজী সলিমুল হকের যুক্তিতর্ক চলবে।

প্রসঙ্গত, আগামী বুধবার বিএনপি প্রধানের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসনের পক্ষে তার আইনজীবীরা তার জামিন আবেদন করলে বিচারক তা নাকচ করে দিয়ে এ কথা বলেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অপর আসামি কাজী সফিমুল হকের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন তার আইনজীবী আহসান উল্লাহ। এর আগে অপর আসামি শরফুদ্দিনের পক্ষেও তিনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এর আগে দুপুর ২টার পর এ যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১ টা ৩৯ মিনিটে তিনি পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে পৌঁছান।

এই আদালতে ওই মামলা দুটির কার্যক্রম চলছে। এদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ নির্ধারণ রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০ টা ৫৫ মিনিটে বিএনপি প্রধান রাজধানীর গুলশানের ‘ফিরোজা’ বাস ভবন থেকে রওনা হয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার।

এদিকে খালেদা জিয়ার হাজিরা ঘিরে আদালত ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া আদালতের প্রধান ফটকে স্ক্যানার বসিয়ে তল্লাশি করে ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৮ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ ২৩, ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি ধার্য করেন আদালত। এদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অপর আসামি শরফুদ্দিনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন তার আইনজীবী আহসান উল্লাহ।

গত বুধবার খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন জানিয়েছিলেন যে, বৃহস্পতিবার ধার্য দিনে আদালতে উপস্থিত হবেন খালেদা জিয়া। তিনি আরো জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়া শুনানির মুলতবি চেয়েছিল। তা মঞ্জুর না করে আদালত খালেদাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে ওই দিনের জন্য অব্যাহতি দেন। তিনি ব্যক্তিগত জামিন চাননি। তাই তিনি বৃহস্পতিবার আদালতে আসবেন।

বুধবার যুক্তি-তর্ক শুনানির বিরতির পর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এ আবেদন জানান। এরপর আসামি শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী আহসানুল্লাহ।

এর আগে মঙ্গলবার ১০ম দিনের মতো জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এর পর আসামি ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী আহসান উল্লাহ। তার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় বুধবার দিন ধার্য করেন আদালত।

এর আগে ১১ জানুয়ারি ৯ম দিনের মতো জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার। পরবর্তী সময় যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ১৬, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালত।

১৯ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। এদিন রাষ্ট্রপক্ষ খালেদা জিয়াসহ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।

এরপর ২০, ২১, ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর এবং ৩ , ৪, ১০, ১১ ও ১৬ জানুয়ারি খালেদার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবীরা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় প্রথম মামলাটি করা হয়।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করে দুদক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.