খালেদা জিয়ার জেল নিয়ে রাঙ্গার বক্তব্যে তোলপাড় – দেখুন বিস্তারিত

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ১৫ দিনের মধ্যে জেলে যেতে হবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গার এমন বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।বিএনপি রাঙ্গার এই বক্তব্যকে আদালত অবমাননার শামিল দাবি করে বলছে, একটিবিচারাধীন মামলার রায় নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এমন বক্তব্য স্বাধীন বিচার বিভাগের ওপর আঘাত।বিচারের আগেই প্রতিমন্ত্রী যদি বলে দেন খালেদা জিয়ার জেল হবে তাহলে কি ধরনের বিচার হচ্ছে তা বুঝা যায়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়ায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে উপজেলা ও পৌরসভা শাখার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান বলেন, অপেক্ষা করুণ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হবে। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে অন্যায়ভাবে জেলে নিয়ে যে নির্যাতন করেছেন, তাকেও তার ফল ভোগ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গার এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে.(অব.)মাহাবুবুর রহমান পূর্বপশ্চিমকে বলেন, এই ধরনের বক্তব্য আইনবর্হিভূত। এটা বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল। তিনি বলেন,খালেদা জিয়ার বিচার নিয়ে মানুষের মধ্যে যে অবিশ্বাস সন্দেহ রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গার বক্তব্যের পর তা আরো পরিস্কার হয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেন, আমাদের ধারণা সত্যি প্রমাণিত হয়েছে।ক্ষমতাসীনরা বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে নিয়ে আবারো একটি নীলনকশার নির্বাচন মঞ্চস্ত করতে চায়। কিন্তু দেশের মানুষ তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে দেবে না। খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়ার চেষ্টা হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে।

purboposhchim

সকল সিটি নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেবার সিদ্ধান্ত জামায়াতের

রাজনৈকিত দলের নিবন্ধন অথবা নির্বাচনের প্রতীক না থাকলেও ভোটের রাজনীতিতে ফিরতে মরিয়া জামায়াতে ইসলামী। ২০ দলীয় জোটে শরিক হলেও আগামীতে সকল সিটি নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এ নিয়ে দলে তৈরি হয়েছে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর পর অনেকটা গোপন সংগঠনে পরিণত হয় জামায়াত। তারপর থেকে বিভিন্ন সময় চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয় তারা। এবার টিকে থাকতে ভোটের রাজনীতিতে ফিরতে চাইছে দলটি।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিশদলীয় জোটের শরীক হলেও জামায়াত এখন শুধু নিজেদের নিয়ে ভাবছে। এরই অংশ হিসেবে সব সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিবন্ধন হারানো দলটি। পাশাপাশি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত পঞ্চাশটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছে তারা।

এরই মধ্যে, ঢাকা উত্তর সিটিতে সেলিম উদ্দিন, সিলেটে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও রাজশাহীতে সিদ্দিক হোসাইনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত। কুমিল্লা, বরিশাল ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনেও প্রার্থী ঘোষণা প্রক্রিয়াধীন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, জামায়েত দল জানান দিতে চায় যে তাদেরও প্রার্থী আছে। জামায়েত জানান দিচ্ছে যে তাদেরও হিসেবে নিতে হবে। অন্য কোনো ইসলামী দলের সাথে তুলনা করলে চলবে না। দর কষাকষির ক্ষমতা বাড়াতেই এ কৌশল নিয়েছে জামায়াত, এমনটিই মনে করছেন তিনি।

আগামী নির্বাচনে জামায়েতকে কম করে হলেও ১০টি সিট দিতে হবে। হয়তো জামায়াতকে সেই সুযোগ দেবে। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, তখন বুঝা যাবে। তবে, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি জোট ছাড়তে সরকার জামায়াতকে টোপ দিতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

১৯৯১ থেকে সমঝোতার মধ্য দিয়ে নির্বাচন করে আসছে জামায়াত-বিএনপি। মাঝখানে ১৯৯৬ সালে আলাদা নির্বাচন করায়, ভোটে টান পড়েছিল দু’দলেরই। এরপর আর আলাদা হয়নি তারা।

সূত্র : ডিবিসি নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.