moududh_ahmedh

সরকার ও নির্বাচন কমিশন একই পথের যাত্রী: মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, মেয়র পদে উপনির্বাচন নিয়ে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে রাষ্ট্রপক্ষের নীরবতাই প্রমাণ করে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশে এই নির্বাচন স্থগিত হয়েছে। আমার বলতে হবে, তারা একই পথের যাত্রী এই ব্যাপারে। তারা হেরে যাবেন বলেই এ কাজগুলো করেছেন। আগামী নির্বাচনে কী হতে যাচ্ছে তা এখনই বোঝা যাচ্ছে।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, সরকার যদি সত্যিই নির্বাচন চাইত, তাহলে হাই কোর্টের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে যেত।

মওদুদ আহমদ বলেন, এখন তারা হাত-পা গুটিয়ে ফেলেছেন। এমন একটা ভাব, যে এই স্থগিতাদেশ একটা স্থায়ী বিষয়ে, এর বিরুদ্ধে যেন আপিল করা যায় না।

বিএনপির এ নেতা আরো বলেন, আওয়ামী লীগ আমাদের বন্দি করে রেখেছে। আমরা সভা-সমাবেশ করতে পারি না। একটা ঘরোয়া অনুষ্ঠানও আমাদের করতে দেওয়া হয় না।

বিএনপি সেদিনই অভিযোগ তোলে, ঢাকার সিটি নির্বাচন স্থগিত হয়েছে ‘সরকারের ইঙ্গিতে’। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, আদালতের আদেশের পেছনে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই।

হাই কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না- সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি নির্বাচন কমিশন। ইসির আইনজীবী শুধু বলেছেন, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মওদুদ।

সংগঠনের সভাপতি সাইফুল আলমের সভাপতিত্বে জাগপা সভানেত্রী অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, সহসভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান আসাদ আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন।

নিশ্চিত পরাজয় জেনে সরকার যোগসাজশ করে নির্বাচন স্থগিত করেছে: ফখরুল

আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সরকার যোগসাজশ করে নির্বাচন ভণ্ডুল করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর শের-ই-বাংলানগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

এসময় ফখরুল বলেন, নিশ্চিত পরাজয় জেনে সরকার যোগসাজশ করে ডিএনসিসি নির্বাচন স্থগিত করেছে। সব দলকে সমান সুযোগ না দিয়ে নির্বাচন করলে সেই নির্বাচন হবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা। নতুন ইউনিয়নগুলোকে সিটিতে আনা হয়েছে, তার সীমানা নির্ধারণ করা হয়নি, ভোটার তালিকা নিশ্চিত করা হয়নি। এতেই প্রমাণিত হয়, নির্বাচন কমিশন যোগ্য নয়।

বিএনপির নেতার কারণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত হয়েছে- আওয়ামী লীগের এ বক্তব্যের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা মূল তাদের অপরাধ এড়িয়ে যাওয়ার বক্তব্য। কে করেছে, এটা তো বড় কথা নয়। মামলা কেনো হয়েছে এবং নির্বাচন কেনো স্থগিত হলো। কারণ ঢাকা সিটি করপোরেশনে নতুন যে ইউনিয়নগুলো নিয়ে আসা হয়েছে, সেগুলোর সীমানা নির্ধারণ করা হয়নি। ভোটার তালিকা নিশ্চিত করা হয়নি। যার ফলে ডিএনসিসি নির্বাচন স্থগিত হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আলোচনা, সমঝোতা না করলে, নির্বাচনকালে যদি একটা সমান্তরাল মাঠ তৈরি করা না যায় এবং খালেদা জিয়াকে মুক্ত রেখে সকল দলকে সমান সুযোগ না দিলে এখানে নির্বাচন হবে না বলে আমরা মনে করি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, যে গণতন্ত্র শহীদ জিয়াউর রহমান ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, সেই গণতন্ত্র আজকে আওয়ামী লীগ হরণ করে নিয়ে গেছে। সেই গণতন্ত্রকে আজকে তারা (আওয়ামী লীগ) ছিন্ন-ভিন্ন করেছে। ফলে দেশের মানুষ আবারও বদ্ধ হয়ে গেছে। তাই আজকে আবারও আমরা এখানে শপথ নিবো বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে আসবো। দেশে মানুষ অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করবো। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে সবাইকে এগিয়ে যাবার আহবান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮২ তম জন্মদিন উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী’র উদ্বোধনকালে তিনি এই আহবান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.