জিয়াউর রহমানের ৮২ তম জন্মদিন আজ

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮২ তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলীর ছায়াসুনিবিড় নিভৃত জনপদ বাগবাড়ীর এক বনেদি মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।

তার বাবা রসায়নবিদ মনসুর রহমান ও মা জাহানারা খাতুন রানী। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় জিয়াউর রহমানের ডাক নাম কমল। বগুড়া ও কলকাতায় শৈশব ও কৈশোর অতিবাহিত করার পর জিয়াউর রহমান বাবার সাথে তার কর্মস্থল করাচিতে যান। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৫৫ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন।

জিয়াউর রহমান শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৫৩ সালে যোগ দেন সেসময়ের পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ বাঙালি জাতির সংকট মুহূর্তে চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তার কণ্ঠে ভেসে আসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা। একাত্তরের রণাঙ্গনে জিয়াউর রহমান ছিলেন অসম সাহসী।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার হিসেবে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জিয়াউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধে তার নামে গড়ে ওঠা একটি স্বতন্ত্র সেক্টর জেড ফোর্সের নেতৃত্ব দিয়ে রণাঙ্গনে দুঃসাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন তিনি। সেক্টর কমান্ডার হিসেবে মেজর জিয়া নিজেও ছিলেন সম্মুখসমরে। দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, অসাধারণ দেশপ্রেমিক, অসম সাহসী ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের প্রতীক হিসেবে জিয়াউর রহমান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ‘সিপাহী জনতার বিপ্লবের’ মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অধিষ্ঠিত হন জিয়াউর রহমান। তিনি ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। বিএনপি তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল। ১৯৮১ সালের ৩০মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর একটি অংশের অভ্যুত্থানে শহীদ হন জিয়াউর রহমান।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাহসী ভূমিকায় ইতিবাচকভাবে পাল্টে যেতে থাকে দেশের অর্থনীতি। অবকাঠামো উন্নয়ন, খাল খনন, খাদ্য উৎপাদন, গণশিক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম, গ্রাম সরকার প্রবর্তনসহ তার নেওয়া ১৯ দফা কর্মসূচি দৃষ্টি কাড়ে মানুষের। প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। তার গড়া সেই রাজনৈতিক দল তাঁর সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আজ দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃত।

দলের প্রতিষ্ঠাতার জন্মদিন উপলক্ষ্যে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে মির্জা ফখরুল বলেন,‘দেশের এক চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপের আলোয় উদ্ভাসিত হন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য নেতৃত্বহীন জাতির দিশারি হয়ে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেন।

স্বাধীনতা-উত্তর দুঃসহ স্বৈরাচারী দুঃশাসনে চরম হতাশায় দেশ যখন নিপতিত, জাতি হিসেবে আমাদের এগিয়ে যাওয়া যখন বাধাগ্রস্ত ঠিক তখনই জিয়াউর রহমান জনগণের নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন। ক্ষমতায় এসেই মানুষের হারানো অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। নিশ্চিত করেন মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা’।

এক বাণীতে দলটির মহাসচিব বলেন, ‘শহীদ জিয়ার জন্মদিনে তার প্রদর্শিত পথেই বর্তমানের অগণতান্ত্রিক শক্তি ও আধিপত্যবাদের ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে জনগণের ঘাড়ে চেপে বসা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাভূত করতে হবে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমি এই মহান রাষ্ট্রনায়কের জন্মবার্ষিকীতে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা; গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনা এবং মানুষের হারানো মৌলিক ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধার করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই।’

দিবসটি উপলক্ষে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করবে। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চিকিৎসা সেবা দেবেন। পাশাপশি বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হবে বলে জানান ড্যাবের মহাসচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।

তার জন্মদিন পালন উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, শেরেবাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফাতিহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া আলোচনা সভা আলোকচিত্র প্রদর্শনী, পোস্টার, লিফলেট ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.