ershad

বিএনপির মামা বাড়ির আবদার হাস্যকর: এরশাদ

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেছেন, বিএনপিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্ধীনেই নির্বাচন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। বিএনপির মামা বাড়ির আবদার হাস্যকর। তাদের ক্ষমতায় আনা নিশ্চিত করতে কোন নির্বাচন হতে পারে না। এটা জাতীয় পার্টি মেনে নেবে না।

গতকাল মঙ্গলবার এ প্রতিবেদককে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ একথা বলেন। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি আগামী সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে ভালো ফল পাবে। এর নমুনা রংপুরে দেখা গেছে। যেকোনো প্রক্রিয়ায় জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় যাবে। সেটা জোটগতভাবেও হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দুত এইচ এম এরশাদ বলেন, শেখ হাসিনার নেত্বতাধীন বর্তমান জোট সরকার সারা দেশে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছ। জাতীয় পার্টি মনে করে এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। কারন সবার আগে দেশ ও দেশের মানুষের উন্নয়ন। পেটে ভাত না থাকলে শুধু গনতন্ত্র গনতন্ত্র করে লাভ হবে না। ভোট, নির্বাচন যেমন দরকার তেমনি দরকার সাধারন মানুষের জীবন মান উন্নয়ন।

১৯৮১ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত টানা ৯ বছর ক্ষমতায় ছিলেন সাবেক সেনাশাসক এরশাদ। এরপর গত ২৭ বছরই তিনি ছিলেন নির্বাচিত সংসদ সদস্য। একাধিকবার জেলে থেকে ৫টি করে নির্বাচনে জিতেছেন তিনি।

আগামী সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনেই প্রার্থী মনোয়ন দেয়ার চিন্তা জাতীয় পার্টির। সে পরিকল্পনা নিয়ে ইতিমধে্ কাজ শুরু করেছে জাতীয় পার্টি। এ ব্যাপারে এইচ এম এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে কাজ করার সব ধরনের প্রস্ততি নিতে শুরু করেছে।

‘আমাকে তো দম নিতে দিচ্ছে না’

জিয়া অরফানেজ মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষ হলো মঙ্গলবার। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে বেগম জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সমাপ্তি ঘটে। যুক্তিতর্ক শেষ হবার পর বেগম জিয়ার পক্ষে আইনজীবী বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের কাছে একটি দরখাস্ত উপস্থাপন করেন।

দরখাস্তে, পরবর্তী দুই দিন, অর্থাৎ ১৭ এবং ১৮ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে আদালতে উপস্থিতি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়। এর পক্ষে বেগম জিয়ার আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। কাজেই আগামী দুই দিন তাঁর আদালতে আসার প্রয়োজন নেই।’

কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন কাজল বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী আসামির উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। তিনি এটাকে সময়ক্ষেপণের আরেকটি কৌশল বলে মন্তব্য করেন। এরপর বিচারক আবেদনটি নাকচ করে দেন। ফলে, বুধবার এবং বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে আসতে হবে। এই দুইদিন অন্য আসামিদের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন।

আদালত থেকে বেরুতে বেরুতে ক্ষুব্ধ বেগম জিয়া অনেকটা রাগান্বিত হয়েই বলেন, ‘আমাকে তো দম নিতে দিচ্ছে না। শেখ হাসিনা কি চায়?’। এসময় বিএনপির একজন আইনজীবী বলেন, ‘ম্যাডাম, চিন্তা করবেন না, আমাদেরও দিন আসবে।’ ওই আইনজীবীর বক্তব্যও বেগম জিয়াকে এতটুকুও আনন্দ দিলো না বরং আরও বিরক্তি উৎপাদন করল।

বেগম জিয়া বললেন, ‘আমি মরলে দিন আসবে? কোর্টে যাওয়া আসা করতে করতেই তো সব শেষ হয়ে গেলো। তোমরা তো কিছুই করতে পারছো না। আমি আর পারছি না।’কোর্ট থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠতে উঠতে বলেন, ‘ন্যায় বিচারও হবে না, আমি জানি।’ এরপর তিনি গাড়িতে উঠৈ পড়েন।

গত কয়েকদিন আদালতে উৎফুল্ল এবং উজ্জীবিত বেগম জিয়া মঙ্গলবার ছিলেন ম্লান, বিষণ্ণ, উত্তেজিত। দুদক আইনজীবী যখন তাঁর অনুপস্থিতির প্রতিবাদ করছিলেন, তখন বেগম জিয়া ধমক দিয়ে বলেন ‘চুপ বেয়াদব’। বিরতির সময় আইনজীবীদের বলেছিলেন, ‘ও তো একটা আস্ত বেয়াদব। ওর কথা শুনলে মাথা ধরে।‘ একজন তাঁকে আওয়ামী লীগের কর্মী বলে মন্তব্য করলে, বেগম জিয়া বলেন ‘হাসিনা ক্যাডার দিয়ে কোর্ট চালাচ্ছে।’ বিচারক সম্পর্কেও বেগম জিয়া খোঁজ খবর নিয়েছেন আইনজীবীদের কাছে।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.