AL_BNP_IMAGE

রাজনৈতিক সমঝোতা হবেই

সংবিধানের মধ্যে থেকেও নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞসহ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলের নেতাদের নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা যায়।

সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে বিএনপিকেও এই সরকারে রাখা সম্ভব। টেকনোক্র্যাট কোটা বা উপনির্বাচনের মাধ্যমে ওই দলের প্রতিনিধিদের বিজয়ী করে আনলেই নির্বাচনকালীন সরকারে রাখা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে নমনীয় হতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি থাকবে না। ভোটের সময় ঘনিয়ে এলেই অবস্থা পাল্টে যাবে। বিশেষ করে বিএনপি নির্বাচনের মাঠে নেমে এলেই রাতারাতি অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন ঘটবে। সরকারি দলের বর্তমান অবস্থানও থাকবে না। তাদের মতে, খুব ধীরে হলেও পরিস্থিতি সেদিকেই এগোচ্ছে। বড় দল দুটি সংকটের পথ পরিহার করে সমঝোতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

পর্দার আড়ালে এসব নিয়ে অনেক কিছু হচ্ছে বলে নানা কথা শোনা যাচ্ছে। দুই দলের নেতাদের বক্তব্যে তা ক্রমেই স্পষ্টও হয়ে উঠছে। নিবন্ধিত সব দল নির্বাচনে অংশ নেবে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনেই ভোট হবে। এরপর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এখনই তারা সংলাপের প্রয়োজন দেখছেন না। সে ধরনের সংকট দেখা দিলে পরিস্থিতিই তা ঠিক করে দেবে। অর্থাৎ বিএনপির প্রস্তাব তিনি নাকচ করেননি। প্রয়োজনে সংলাপ হতে পারে এমন আশ্বাস তিনিই দিয়েছেন। অর্থাৎ সমঝোতার সুযোগ যে আছে তার এ বক্তব্যে তেমন আভাসই পাওয়া যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের আগেই রাজনৈতিক সমঝোতা হবেই।

শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষদিকে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা আমাদের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ঘোষণার পরপরই আলোচনায় উঠে আসে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিষয়টি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাসহ সংবিধান বিশেষজ্ঞরা এ ইস্যুতে নানা মত দিচ্ছেন। কেউ বলছেন, সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকারের কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। তবে দু’পক্ষের মতেই বর্তমান সংবিধানের আলোকেই সমাধান সম্ভব। এক্ষেত্রে সংবিধানের ৫৬ এবং ১১৯ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করা যেতে পারে। এই দুই অনুচ্ছেদেই সমাধানের পথ দেখানো আছে।

সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘সরকার পক্ষের লোকজন নিজেরাই বলছেন, যে সরকার আছে সেই সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। যিনি প্রধানমন্ত্রী আছেন তিনিই নির্বাচনকালীন সরকারপ্রধান হবেন। এ বিষয়টির ব্যাখ্যা করতে হবে। যে সরকার আছে, সেই সরকার নির্বাচনকালীন সরকার নাকি ভিন্ন কিছু হবে- এর ব্যাখ্যা দিতে হবে।

আমার পরামর্শ হচ্ছে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য করতে চাইলে নিরপেক্ষ সরকার অপরিহার্য। সরকার এবং নির্বাচন কমিশন উভয়কে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য যা যা করা দরকার তা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংবিধানের আলোকেই সমাধান খোঁজা যেতে পারে। সে পথ সংবিধানে দেয়া আছে। কোথাও কোনো অস্পষ্টতা থাকলে তা পরিষ্কার করা যেতে পারে। এ জন্য প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধনও করা যেতে পারে। ড. কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচন একটি প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান। কোনো প্রতিযোগিতার মধ্যে যারা দায়িত্বে থাকবেন তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক এ প্রসঙ্গে রোববার যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার বলে সংবিধানে কিছু নেই। কিন্তু নির্বাচনকালীন সরকার সবাই চাইছে। আমার মনে হয়, প্রধানমন্ত্রীর কথাটা তারই একটা ইঙ্গিত বহন করছে বলে ধরে নেয়া যেতে পারে। তার এই বক্তব্যকে সামনে রেখেই আলাপ-আলোচনার পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে সংবিধানের ৫৬ এবং ১১৯ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করা যেতে পারে।

সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘(১) একজন প্রধানমন্ত্রী থাকিবেন এবং প্রধানমন্ত্রী যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী থাকিবেন। (২) প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদিগকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগদান করিবেন : তবে শর্ত থাকে যে, তাঁহাদের সংখ্যার অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ-সদস্যগণের মধ্য হইতে নিযুক্ত হইবেন এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে মনোনীত হইতে পারিবেন।

(৩) যে সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন। (৪) সংসদ ভাংগিয়া যাওয়া এবং সংসদ-সদস্যদের অব্যবহিত পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্যবর্তীকালে এই অনুচ্ছেদের (২) বা (৩) দফার অধীন নিয়োগদানের প্রয়োজন দেখা দিলে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার অব্যবহিত পূর্বে যাঁহারা সংসদ-সদস্য ছিলেন, এই দফার উদ্দেশ্যসাধনকল্পে তাঁহারা সদস্যরূপে বহাল রহিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।’

ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘ওয়েস্টমিনস্টার মডেল গ্রহণের সময় সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করার বিষয়টি চিন্তায় ছিল না। আর এ কারণেই নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়ার প্রসঙ্গ আসে।’ তিনি বলেন, সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের উল্লিখিত ২ দফায় প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রী নিয়োগ এবং ৩ দফায় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠের আস্থাভাজন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের কথা বলা আছে। সে কারণে আগামী নির্বাচনের আগে সংবিধানের আওতায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন বা সর্বদলীয় সরকার হতে পারে।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে নির্বাচনকালীন সরকারে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু বিএনপি এতে সাড়া না নিয়ে উল্টো নির্বাচন বর্জনের পথ বেছে নেয়।

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নবম জাতীয় সংসদে বিএনপি ছিল, দশম সংসদে নেই। সরকার চাইলে তাদের ২-৩ জনকে টেকনোক্র্যাট বা উপনির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী করে এনেও নির্বাচনকালীন সরকারে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিতে পারে। যারা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারে থাকবেন। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার হিসেবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে। তাদের মতে, এ পদ্ধতিতে গেলে বিএনপির দাবি পূরণ করে সংবিধানের মধ্যে থেকেই নির্বাচন করা সম্ভব হবে।

কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকার এক্ষেত্রে কতটা ছাড় দেবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, সহায়ক সরকারের চেয়ে ইসির স্বাধীনতাবিষয়ক সংবিধানের ১১৮ (৪) অনুচ্ছেদটি হুবহু নিশ্চিতের আন্দোলন করলে বিএনপির জন্য ভালো হতো। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবে এবং কেবল এই সংবিধান ও আইনের অধীন হইবে।’ এক্ষেত্রে তারা সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোববার যুগান্তরকে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সংসদ বহাল রেখে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তা অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। কারণ সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচনকালীন সরকারও হবে বিদ্যমান সরকারেরই অনুরূপ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, সংবিধানে নিরপেক্ষ সরকার বলে যেমন কিছু নেই, তেমনি নির্বাচনকালীন সরকার বলেও কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী আসলে কি বোঝাতে চাইছেন তা তাকে আরও স্পষ্ট করে বলতে হবে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। তিনি সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের কথা বলেছেন। বিষয়টি সংবিধানেও স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভা কেমন হবে, কারা থাকবেন, মন্ত্রিসভার কাজ কী হবে এটি স্পষ্ট নয়।

সাবেক আইনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ রোববার যুগান্তরকে বলেন, সংবিধানের ৫৬ এবং ১১৯ অনুচ্ছেদেই সমাধান দেয়া আছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সময় একটি সরকার থাকবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই এই সরকারের প্রধান থাকবেন। সংসদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে এই সরকার গঠিত হতে পারে। যে সরকার সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে সব রকম সহায়তা করবে। আর রাষ্ট্রের দৈনন্দিন কার্যাদি সম্পাদন করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার বলে কিছু নেই। তবে এ বিষয়টি না থাকলেও বর্তমান সংবিধানের মধ্য থেকেই বিএনপিসহ সব দলকে নিয়ে নির্বাচন করা সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী চাইলে সংবিধান সংশোধন না করেই নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব থাকার সুযোগ করে দিতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘এজন্য বিএনপিকেও নমনীয় হতে হবে। সরকারি দলকেও কিছুটা ছাড় দিতে হবে। যেহেতু বিএনপি সংসদে নেই, সেক্ষেত্রে ৩ থেকে ৪টি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেই উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়ে এমপি হিসেবে মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে পারেন। সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনাই প্রধানমন্ত্রী থাকবেন।’

সংবিধানের উদ্ধৃতি দিয়ে ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, সংবিধানে বলা আছে- নির্বাচনকালে সরকার নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা করবে। তফসিল ঘোষণার পর সরকার কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ না করে বদলি পদায়নসহ কোনো কাজ করতে পারবে না। ওই সময় নির্বাচনের স্বার্থে কমিশন যা চাইবে, তা দিতে বাধ্য থাকবে সরকার, যা ভারত, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে রয়েছে।

এসব বিষয় কিতাবে লিপিবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়নের জন্য কাজ করা উচিত বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর। সংবিধানে দেয়া নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে সহায়ক সরকার ছাড়াও সাংবিধানিক সুবিধা আপনা-আপনিই ঘরে আসবে বিএনপির। তাতে আওয়ামী লীগের ওপরই উল্টো চাপ সৃষ্টি হতে পারে। যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.