তুরস্কে রানওয়ে থেকে ছিটকে সাগরে ঝুলে পড়ল বিমান

তুরস্কের কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী শহর ত্রাবজোনের বিমান বন্দরে অবতরণের পর যাত্রীবাহী একটি বিমান রানওয়ে ছাড়িয়ে রাস্তা পেরিয়ে সাগরের খাড়া পাড়ের উপরে গিয়ে ঝুলে পড়ে।

ছবিতে দেখা গেছে, বিমানটি সাগরের খাড়া কর্দমাক্ত তীরের ওপর পড়ে আছে, আর এর সম্মুখভাগ সাগরের পানির মাত্র কয়েক মিটার ওপরে। খবর বিবিসির

তুরস্কের সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদলু ফাতিমা গরদু নামে এক যাত্রীকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, ‘আমরা সবাই বিমানটির একপাশে গিয়ে পড়েছিলাম। প্রচণ্ড ভীতি তৈরি হয়েছিল। সবাই চিৎকার করছিলো।’

তবে পেগাসাস এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমানের ১৬৮ জন যাত্রী এবং ক্রু অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন।

স্থানীয় গভর্নর ইউসেল ইয়াভুজ জানিয়েছেন, কেই আহতও হননি। কেন এ ধরণের দুর্ঘটনা হলো তা তদন্ত করা হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টার জন্য বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়া হয়।

সিরিয়া ইস্যুতে মার্কিন চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সকে তলব করল তুরস্ক
সিরিয়ার কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গেরিলা গোষ্ঠী ওয়াইপিজি-কে অস্ত্র সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ দেয়ার ঘটনায় আঙ্কারায় মার্কিন চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে তুর্কি সরকার।

তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শীর্ষ পর্যায়ের মার্কিন কূটনীতিক ফিলিপ কোসনেটকে তলব করে কুর্দি গেরিলাদের প্রতি আমরিকার সমর্থনের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রও কূটনীতিক তলবের কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে তুর্কি সরকার মার্কিন চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সকে কী বলেছে ওই মুখপাত্র তা জানাতে অস্বীকার করেছেন।

মার্কিন সেনারা সিরিয়ায় তৎপর ৪০০ কুর্দি গেরিলাকে প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজ শুরু করেছে বলে খবর বের হওয়ার পর আমেরিকার কূটনীতিককে তলব করল তুর্কি সরকার।

তুরস্ক সীমান্তে ওয়াইপিজি’র গেরিলাদের উপস্থিতিতে আঙ্কারা কিছুটা উদ্বিগ্ন। তুরস্ক মনে করে, এসব গেরিলার সঙ্গে কুর্দিস্তান পিপলস ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে গেরিলাদের সম্পর্ক রয়েছে। পিকেকে গেরিলারা কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাকে তুরস্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছে।

আগামী বছরের নির্বাচনে এরদোগানকে সমর্থন দিল বিরোধী এমএইচপি পার্টি
২০১৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানকে আবারো প্রেসিডেন্ট পদে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে তুরস্কের ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি (এমএইচপি)।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিশ্রুতি দেন এমএইচপি’র প্রধান দেবলেত বাহসেলি।

গত বছরের সাংবিধানিক গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বিজয়ী এরদোগানের পক্ষে তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দেন তিনি।

তুর্কি পার্লামেন্টের ক্ষুদ্রতম চারটি সংসদীয় দলের একটি হচ্ছে এমএইচপি। দলটি এরদোগানকে নির্বাহী ক্ষমতা প্রদানের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটেও তাকে সমর্থন প্রদান করেছিল।

সংবাদ সম্মেলনে দেবলেত বাহসেলি বলেন, ‘এমএইচপি এরদোগানের সমর্থনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী দেবে না।’

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোগানকে সমর্থন করার বিষয়ে এমএইচপি সিদ্ধান্ত নেবে।’

২০১৯ সালে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট ও সংসদ উভয় নির্বাচনেই তুর্কি নাগরিকরা ভোট প্রদান করবেন।

পার্লামেন্টে প্রবেশের জন্য কোনো দলের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ১০ শতাংশ ভোট পাওয়ার বাধ্যবাধকতা বাতিল চান তিনি। গত দুই দশক ধরে তিনি এমএইচপিকে মূলধারার দলে পরিনত করার চেষ্টা করছেন।

আসন্ন নির্বাচনে দলটিকে দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী নেতা মেরাল আকসেনারের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হতে পারে। এমএইচপি থেকে বেড়িয়ে গিয়ে মেরাল আকসেনার তার নিজের পার্টি প্রতিষ্ঠা করেছেন।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে যে, আকসেনারের দল এমএইচপি’র ১ শতাংশ ভোট নিজেদের দখলে নিতে পারে এবং ১০ শতাংশ ভোট অর্জনের সীমাকে ধূলিসাৎ করতে পারে।

বাহসেলি বলেন, তার দল এরদোগানের জাস্টিজ এন্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টির সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করবে। তবে এ বিষয়ে অবশ্যই একে পার্টি থেকে অনুরোধ আসতে হবে।

১৯৯৯ সালের সংসদীয় নির্বাচনে এমএইচপি ১৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন কিন্তু ২০০২ সালে ৯.৫ শতাংশ ভোট পান। ফলে দলটি পার্লামেন্ট থেকে ছিটকে যায়। এরপর থেকে দলটি নির্বাচনে ১০ শতাংশ ভোটের বাধ্যবাধকতা কাটিয়ে ওঠতে সক্ষম হয় এবং ২০১৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত ভোটে ১১.৯ শতাংশ ভোট পান।
১৯৬০ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত সাবেক একজন কর্নেল দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিল। এমএইচপি তুর্কি মিশ্র জাতীয়তাবাদের সমর্থক এবং পশ্চিমাদের প্রতি দলটির ব্যাপক সংশয়বাদ রয়েছে। দলটি তুরস্কের কুর্দি সংখ্যালঘুদের অবাধ স্বায়ত্তশাসনেরও ঘোর বিরোধী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.