bnp_new_photo

‘শান্তিপূর্ণ’ সমাবেশে অস্তিত্ব জানান দিল বিএনপি

১৯ মাস পর ‘শান্তিপূর্ণ’ সমাবেশ করে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিল বিএনপি। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রোববার এ সমাবেশ অনুষ্ঠত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এ সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি।

এর আগে শ্রমিক দিবস উপলক্ষে ২০১৬ সালের ১ মে সর্বশেষ সমাবেশের অনুমতি পেয়েছিল বিএনপি। এর পর কেটে গেছে ১৯ মাস।

নিরাপত্তার অজুহাতে উন্মক্ত জায়গায় আর কোনো সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করে বিএনপি।

শনিবার অনেক জল্পনা কল্পনা শেষে ২৩ শর্তে সমাবেশ করার অনুমতি দেয় ঢাকা মহানগর মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

সমাবেশটি সফল ও শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন করেছে বিএনপি।

বেগম জিয়া তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন সমাবেশে আসতে দলের নেতাদের বাধা দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, সমাবেশে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

এর জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করবে। আশা করি, সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

সোহরাওয়ার্দীর সমাবেশস্থলে সরেজমিনে দেখা যায়, নিয়ম ভেঙে মিছিল নিয়ে সমাবেশে আসলেও, দলের নেতা-কর্মীরা শান্তই ছিল। তাদের মধ্যে ক্লান্তি ভাব ছিল না, ছিল উৎফুল্ল মেজাজ।

সমাবেশে আসার সময় গুলশানে রাস্তা আটকে দেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এজন্য সরকারকে দায়ী করে তিনি বলেন, এতো ছোট মন নিয়ে রাজনীতি করা যায় না। সমাবেশ সফল যেন না হয় এজন্য অনেক বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি আমিও যাতে আপনাদের সামনে পৌঁছাতে না পারি এজন্য গুলশানে বাস দিয়ে রাস্তা আটকে রাখা হয়। বাস আছে কিন্তু এতে কোনো চালক ছিল না।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই গণপরিবহন শূন্য হয়ে পড়ে রাজধানী। ফলে অফিসগামী মানুষদের পড়তে হয় সীমাহীন দুর্ভোগে। এছাড়া ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকেও ঢাকামুখী সব গণপরিবহন বন্ধ থাকার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার ও সোনারগাঁও থেকেও ঢাকামুখী কোনো গণপরিবহন চলেনি। দুয়েকটি বাস চললেও তা পরে বন্ধ হয়ে যায় বলে পরিবর্তন ডটকমের জেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

এদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের ৭ নেতাকর্মীকে আটক করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এছাড়া গাজীপুর থেকে আরও ৪৮ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।

উল্লেখ্য, রোববার দুপুর ১ টা ৪৪ মিনিটে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে বিএনপি। বিকেল সোয়া ৩ টায় বেগম জিয়া উপস্থিত হন। বক্তব্য শুরু করেন ৪ টা ১০ মিনিটে, যা শেষ হয় ৫ টা ১০ মিনিতে।

এতে খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান অবস্থা, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, দ্রব্য মুল্যের ঊর্ধগতি, প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ, দেশের বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন।

সূত্র: poriborton

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.