khaleda_zia

‘ম্যাডাম আগামী তারিখ পর্যন্ত জামিনে থাকবেন’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে এ দুই মামলায় খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিন চান তার আইনজীবীরা।

শুনানি শেষে বিচারক স্থায়ী জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে বলেন, ‘ম্যাডাম আগামী তারিখ পর্যন্ত জামিনে থাকবেন।’ একইসঙ্গে এই দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আগামী ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মত খালেদার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবীরা। যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

এদিন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেছেন আদালত। লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করে আদালত তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি সাফাই সাক্ষী দেবেন কি না?’

আদলতকে বিএনপি চেয়ারপারসন জানান, তিনি সাফাই সাক্ষী দেবেন না। এরপর আদালত মামলাটির যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি দুটি মামলারই যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ওই দিনগুলো দিন ধার্য করেন আদালত।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় একটি মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

এছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় আরও একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর সাবেক নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

jagonews24

Check Also

bnp-flag

গতিশীল হচ্ছে বিএনপি, তারেক রহমান চাইলেই সব সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারছেন না

বিএনপিতে একটা সময় ছিল, যখন স্থায়ী কমিটির বৈঠক কবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, দলের নেতারা পর্যন্ত তা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin