khaleda_adalat

আদালতে খালেদা: মধ্যাহ্ন বিরতির পর ফের শুরু হবে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ঢাকার বকিশবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে অসমাপ্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাঝে এখন চলছে মধ্যাহ্ন বিরতি। বিরতির পর ফের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হবে।

খালেদা জিয়ার পক্ষে তৃতীয় দিনের মত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন তার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান। এর আগে ২০ ও ২১ ডিসেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তার আইনজীবীরা। তখন যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন আদালত। অন্যদিকে ১৯ ডিসেম্বর এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন রাষ্ট্রপক্ষ।

এদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন খালেদা জিয়া এবং মামলায় কোনো সাফাই সাক্ষী দেবেন না বলেন তিনি। এরপর আদালত মামলাটির যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য রয়েছে।

এদিকে আদালত চত্বরে আনা হয়েছে এসি প্রিজন ভ্যান। আশপাশের এলাকায় নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মঙ্গলবার সকালে পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আদালত এলাকা ও আশপাশ এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে হাইকোর্ট এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মঙ্গলবার সকালে বিশেষ আদালত এলাকায় পুলিশের ব্যাপক উপস্থিত লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া র‌্যাবের গাড়িও টহল দিচ্ছে। আদালতে প্রবেশের পথে স্থাপন করা হয়েছে আর্চওয়ে। গতদিনের মতো আদালতে প্রবেশের পথে স্থাপন করা হয়েছে আর্চওয়ে। আর্চওয়ের পাশের খুঁটিতে ঝুলানো হয়েছে ডিএমপির লালবাগ জোনের একটি ব্যানার। ওই ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘বিশেষ আদালতে নিরাপত্তার কারণে অনুগ্রহ পূর্বক নিরাপত্তার তল্লাশীতে সাহায্য করুন।’ এর পাশপাশি পুলিশের হাতে আছে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরও।

এদিকে সকাল থেকেই মৎস্যভবন, প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট, শিক্ষাভবন এলাকায় সাঁজোয়া যানসহ পুলিশ সদস্যদের বাড়তি উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।

হাইকোর্টের মাজার গেট এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশে কড়াকড়ি লক্ষ্য করা গেছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারো জড়ো হওয়া এড়াতে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তল্লাশির পর সকলকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি-প্রসিকিউশন) মো. আনিসুর রহমান বলেন, কোর্টের নিরাপত্তা জোরদার করতেই প্রবেশ পথে আর্চওয়ে বসানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে এব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ওইদিনের চেয়ে আজকে নিরাপত্তা একটু বেশি।

এদিকে বিশেষ আদালত চত্বরে অত্যাধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও বুলেট প্রুফ প্রিজন ভ্যান আনা হয়েছে। এর ভেতরে আসামির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে এর ভেতরে আছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাও।

আদালত চত্বরে যে প্রিজন ভ্যানটি আনা হয়েছে সেটির চালক রফিকুল বলেন, ইতালি থেকে তিনটি বুলেটপ্রুফ প্রিজনভ্যান কেনা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি দেয়া হয়েছে ডিএমপিকে। অন্যটি গাজীপুর পুলিশকে দেয়া হয়েছে। এসব প্রিজন ভ্যানে ছয় স্তরের নিরাপত্তা আছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছে, গত জুন মাসে এ ধরনের তিনটি প্রিজন ভ্যান আনা হয়েছে দেশে। মূলত গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের পরিবহনের জন্য এই ভ্যানগুলো ব্যবহার করার কথা আছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে খালেদা জিয়া গুলশানের বাসভবন থেকে আদালতের উদ্দেশে রওনা হন। বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে উপস্থিত হয়ে খালেদা জিয়ার যুক্তি উপস্থাপনের এদিন ধার্য রয়েছে।

জানা গেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আসামি পক্ষের তৃতীয় দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলেই রায়ের পর্যায়ে চলে আসবে। এছাড়া শিগগিরই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হবে।

গত ২১ ডিসেম্বর ঢাকা বকশীবাজার আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে অস্থায়ী বিশেষ জজের বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালত মামলাটি দুটি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ২৬-২৮ ডিসেম্বর এ দিন ধার্য করেন।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।

মামলায় বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী এবং তার তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকে আসামি করা হয়।

এতিমদের জন্য বিদেশি থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে জিয়া অরফানেজ মামলাটি দায়ের করে দুদক। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়। ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট দুদক আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে আসামি করা হয়।

rtnn

Check Also

খালেদা জিয়ার বিরক্তি, অভিমান, অনাগ্রহ

বিএনপি নেতাদের উপর বেগম জিয়া বিরক্ত। ছেলের উপর তার একরাশ অভিমান আর রাজনীতির উপর তার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin