খালেদার রাজনৈতিক জীবনে কালিমালেপনের চেষ্টা সফল হবে না

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার যে রাজনৈতিক জীবন সেখানে কালিমালেপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা একটা অপপ্রয়াস। যা কোনোদিন সফল হবে না।

বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামানের আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তার আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান।

আব্দুর রেজ্জাক খান বলেন, এ মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে বাইরে যত কোলাহলই থাক না কেন, এ কোলাহল প্রবেশ নিষেধ বিচারালয়ে। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়েছে। মামলা প্রমাণিত হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন। আমি আদালতকে বলেছি, যেখানে সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে প্রসিকিউশনকে সেখানে সর্বোচ্চভাবে কমপ্লায়েন্স আইনের প্রয়োজন আছে।

তিনি বলেন, ফৌজদারি আইনের বিচারে ৪০৯ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এটাতে ইনকাসডমেন্ট অর্পণ করা, টাকা গচ্ছিত করা হয়েছে- এরকম কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ কেউ দিতে পারেনি খালেদা জিয়াকে। যে চার্জ গঠন করা হয়েছে তা ডিফেকটিভ। মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আজকে আমি এজাহার দেখিয়েছি। এজাহার নিয়ে বলেছি, বাদীর এজাহারের মধ্যে কোথাও এতিম তহবিল পূর্বে ছিল বা পরে এসেছে এটা ছাড়া ওয়ান টাইম, এরকম বক্তব্য নেই।

এই আইনজীবী বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যে অর্গানোগ্রাম, সেই অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী সাক্ষীর বরাদ্দে বলেছি, সেখানে বহু সচিব চাকরি করতেন। অনেক ডাইরেক্টর পদমর্যাদার লোক চাকরি করতেন। তারা কেউ এ মামলায় সাক্ষী নয়। এই মামলায় খালেদা জিয়া কোনো আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত বিষয়ে অ্যাকাউন্ট অপারেট করেছেন বা অপারেট করার জন্য কাউকে নির্দেশ বা অনুমোদন দিয়েছেন নোটশিটে এরকম কোনো শিট দিতে প্রসিকিউশন ব্যর্থ হয়েছে। এ মামলায় যত কাগজপত্র, ডকুমেন্ট এসেছে সবই ঘষামাজা এবং ওভার রাইটিং।

আজকে যেসব সাক্ষীর সাক্ষ্যের আলোকে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে তারা কেউ জানে না এ ঘষামাজা কে করেছে। এ নিয়ে কোনো তদন্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে কোনো অভিযোগও দায়ের করা হয়নি এসব ডকুমেন্টের ভিত্তিতে। তারা বলেছে, এগুলো তারা করেনি। তাদের কোনো স্বাক্ষরও নেই। ঘষামাজা, ঘষামাজা আর ঘষামাজা দিয়েই মামলাটা আছে। খালেদা জিয়া যে রাজনৈতিক জীবন, সেখানে

একটি কালিমালেপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা অপপ্রয়াস মাত্র। যা কোনোদিন সফল হবে না।

তিনি বলেন, চার্জগঠন সঠিক হয়নি। যে অভিযোগ এসেছে তা ঢালাও অভিযোগ। একসঙ্গে অনেক আসামির সঙ্গে একই উদ্দেশ্যে চার্জগঠন করা হয়। এজাহারে ঘটনার তারিখ একটা আর চার্জশিটে আরেকটা। ঘটনাস্থল সোনালী ব্যাংক নয় সেখানে দেখানো হয়েছে প্রাইম ব্যাংক। এটা একটা অসংগতিপূর্ণ চার্জ। চার্জের সঙ্গে মামলার বিষয়বস্তুর কোনো সম্পর্ক নেই।

এর আগে এদিন দুই মামলায় হাজিরা দিতে খালেদা জিয়া বেলা ১১টা ৭ মিনিটে এজলাসে প্রবেশ করেন। ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে বিচারক এজলাসে প্রবেশ করলে অনুমতি নিয়ে খালেদা জিয়া নির্ধারিত আসন গ্রহণ করেন। এরপরই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থান কার্যক্রম শুরু হয়। দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে এদিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থান শেষ হয়। এরপর জিয়া চ্যারিটেল ট্রাস্ট মামলায় আদালতে দুটি আবেদন দাখিল করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। একটি হল সাফাই সাক্ষী উত্তোলন করা ও অপরটি লিখিত আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য না দিয়ে তা মৌখিকভাবে উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া। আদালত শুনানি শেষে দুই আবেদনই নাকচ করেন। এরপর দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে বিচারক এজলাস ত্যাগ করলে এরপর খালেদা জিয়াও আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

এর আগে মঙ্গলবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াসহ সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে দুদক প্রসিকিউশন।

এদিকে খালেদা জিয়ার হাজিরা উপলক্ষে আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রুহুল কবির রিজভী, মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মঈন খান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আফরোজা আব্বাস, আহমদ আযম খান, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

এছাড়া খালেদা জিয়ার আইনজীবীর মধ্যে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ, মো. জিয়াউদ্দিন জিয়া, হান্নান ভূঁইয়াসহ শতাধিক আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।

রাইজিংবিডি

‘ভোট কারচুপির চেষ্টা করলে রংপুর অচল করে দেওয়া হবে’

জাপা’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক রোকন উদ্দিন বাবুল বলেছেন, রসিক নির্বাচনে ভোট ডাকাতি বা কারচুপি’র চেষ্টা করলে রংপুর অচল করে দেওয়া হবে। কেউ যদি এমন কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে তা ভুলে যান।

বুধবার দুপুরে জাপা প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নির্বাচনী কার্যালয়ে রংপুর মহানগর জাতীয় ছাত্রসমাজ আয়োজিত নির্বাচন পূর্ববর্তী কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রোকন উদ্দিন বাবুল আরো বলেন, রংপুরের মানুষ এরশাদকে ভালবাসে। তাই তারা মোস্তাফা ভাইকে ভোট দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনবে।

রংপুর মহানগর ছাত্রসমাজের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত আসিফের সভাপতিত্বে এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন- মহানগর ছাত্রসমাজের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আকাশ খান সুমন, কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রসমাজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজ্জাকুর ইসলাম রাজ্জাক প্রমূখ ।

উৎসঃ   purboposhchim

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.