কেলেঙ্কারি ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি সরকার : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার জাতিকে কেলেঙ্কারি ছাড়া আর কিছুই উপহার দিতে পারেনি। রাজকোষ কেলেঙ্কারি, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, বেসিক ব্যাংকসহ সোনালী, রুপালী, জনতা, অগ্রণী, ফার্মার্স ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারীর ধাত্রিমাতা হচ্ছে আওয়ামী সরকার।

আজ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শুধু তাই নয় এই সরকারের সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবে গোটা দেশ যেন কসাইখানায় পরিণত হয়েছে। তবে সরকারের আবারো একদলীয় এবং ভোটারবিহীন নির্বাচনের ষড়যন্ত্র জনগণ সর্বশক্তি দিয়ে রুখে দিতে প্রস্তুত। রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সমালোচনা করে রিজভী এসব বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, সরফত আলী সপু, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মো: মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রোববার দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধেও নানা অশ্লীল ভাষায় কটূক্তি করেছেন। আসলে তিনি ঠিকই বলেছেন, যারা সৃষ্টি করে তাদের দেশের প্রতি মায়া থাকে, কিন্তু বিপদের সময় জনগণকে ফেলে যারা পালিয়ে যায়, যারা শত্রু বাহিনীর নিরাপত্তার মধ্যে নিজ গৃহে বসবাস করে দেশের প্রতি তাদের মায়া থাকে কী না সেটাও প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট করে বলা উচিৎ ছিল।

পরনিন্দায় অন্তহীন মুখর থাকাটাই প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র কাজ, এছাড়া তিনি দেশকে কিছুই দিতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রীর উল্লিখিত বক্তব্য নির্জন এলাকায় বটগাছের নিচ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ভুতের ভয়ে চিৎকার করে আগাম গান গেয়ে ওঠা। তার বক্তব্য নিজেদের বীভৎস অপকর্ম নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার মাধ্যমে অন্যের ঘাড়ে চাপাতে চিৎকার-চেঁচামেচি।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, আপনিও আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন জিয়াউর রহমানের কারণেই। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের বিষয়ে আওয়ামী লীগের ব্যর্থতার কারণেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর এতো ক্ষোভ ও গা জ্বালা।

রিজভী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করে দেশে দ্বিতীয় বাকশাল কায়েম করেছে কে? মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ দখল করে বড় বড় কথা বলা যায়, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে স্থান পাওয়া যায় না।

এখনো কেনো রাজকোষ কেলেঙ্কারির রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি? এর পেছনে কারা জড়িত তা আজ দেশের মানুষের জানতে বাকি নেই। দেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করে মালয়েশিয়া-কানাডায় বেগম পল্লী তৈরি করেছে কারা? ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, হুমায়ুন কবির, পারভেজ, সুমনসহ হাজারো বিএনপি নেতাকর্মী ও যুবকদের গুম করে, বিচারবহির্ভুতভাবে হত্যা করেছে কারা?

ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবে গোটা দেশ এখন কসাইখানায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষক, সাংবাদিক, ছাত্র, কূটনীতিক, ব্যাংকার, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ প্রতিনিয়ত গুম আর খুনের শিকার হচ্ছেন। এসবের জবাব একদিন জনগণের কাছে আপনাকে দিতেই হবে।

সরকারকে কেলেঙ্কারীরির ধাত্রীমাতা আখ্যা দিয়ে রিজভী বলেন, সব শেষে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোণাম হয়েছে-‘দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রশ্নও ফাঁস : বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ’। এটা গোটা জাতির জন্য লজ্জাকর।

এ বিষয়ে কী আওয়ামী সরকার প্রধানসহ মন্ত্রীরা লজ্জিত হন না, তাদের টনক নড়ে না? বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে- এসএসসি, এইচএসসি, জেএসসি, পিএসসি, পিইসি, সকল নিয়োগ পরীক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা এমনকি কোমলমতি শিশুদের বার্ষিক পরীক্ষারও প্রশ্নফাঁসে জড়িত ছাত্রলীগের নেতারা।

ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে যারা আটক হয়েছে তারা সবাই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী। শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাদের নিজেদের প্রশ্নফাঁসের কেলেঙ্কারী অন্যদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার জন্যই মিথ্যাচার করেছেন।

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটের দিন যতো ঘনিয়ে আসছে ততই শাসকদলের সন্ত্রাসীদের হুমকি ধামকি বাড়ছে। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিতে চেষ্টা করা হয়েছিল। এখন বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা যাতে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে না পারে সেজন্য বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও স্থানীয় পুলিশ ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। অন্যদিকে শাসকদল ও তাদের জোটের প্রার্থী ও সমর্থকরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালালেও সেক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসন সম্পূর্ণ নির্বিকার রয়েছে।

রিজভী বলেন, বিজয় দিবসের দিন জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে ফেরার পথে পুলিশ অভিনব কায়দায় বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে বাধা দেয়। মহাসড়কে ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে চালকদের কাছ থেকে চাবি কেড়ে নেয়া হয়। পুলিশের এহেন আচরণ নজীরবিহীন। শুধু বেগম জিয়াকে হয়রানির জন্যই প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করতে পুলিশ ট্রাক দিয়ে বাধা দিয়েছে।

এটি পুলিশের বেআইনী অপরাধমূলক কাজ। আমি তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি। স্মৃতিসৌধে যাওয়ার সময় হেমায়েতপুরে বেগম জিয়াকে অভ্যর্থনা জানানোর সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান সমরের নেতৃত্বে হামলা হয়।

যশোর জেলা বিএনপির বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় হামলা ও পণ্ড এবং সেখান থেকে বিএনপি নেতা পারভেজ, মাসুদসহ চারজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার, মেহেরপুরের গাংনিতেও বিজয় দিবসের সভা চলাকালে বিএনপি কার্যালয় পুড়িয়ে দিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। এসব ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান রিজভী।

তিনি বলেন, গত বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের কোন্দলের জেরে মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের জড়িয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করা হয়। তারপর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। আমি বিএনপির পক্ষে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

এছাড়া আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় কুমিল্লার লাঙ্গলকোট উপজেলার আটটি ইউনিয়নে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য এখন চরমে। বিএনপির প্রার্থীদেরকে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ব্যাপকভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী।

dailynayadiganta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.