মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে নিহত ১০, আহত অর্ধশতাধিক

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পায়ের চাপে পিষ্ট হয়ে ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অন্তত অর্ধশতাধিক। চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার দুপুর ১ টার দিকে নগরীর জামালখান রোডের রিমা কনভেনশন সেন্টারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে দুপুর ১টার পর প্রচণ্ড ভিড় তৈরি হয়। খাবার নেওয়াকে কেন্দ্র করে হুড়োহুড়ির একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

নিহতদের মধ্যে নয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- উত্তর কাট্টলীর মাছ ব্যবসায়ী রামমোহন দাসের ছেলে কৃষ্ণপদ দাস (৩৫), ফিরিঙ্গিবাজারের লালমোহন দাসের ছেলে জেলে সুধীর দাস (৫০), কালীবাড়ির ফতেয়াবাদের মনোরঞ্জন তালুকদারের ছেলে কনস্ট্রাকশন ফার্মের কর্মী প্রদীপ তালুকদার (৫৫), পাথরঘাটার বিনত বিহারীর ছেলে ঝন্টু (৪৫), মধুসুদনের ছেলে টিটু (৩২), চকরিয়ার রাহুল দাসেন ছেলে দীপঙ্কর (২৭), ধনাশীল (৪৫), ছোট কুমিরার অলক ভৌমিক (৩৬) ও লিটন (৫০)।

আজ ১৩টি কমিউনিটি সেন্টারসহ মোট ১৪টি স্থানে মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানির আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রীমা কমিউনিটি সেন্টারে হিন্দু-বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীসহ অমুসলিমের জন্য মেজবানের ব্যবস্থা করা হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. আলাউদ্দিন জানান, এখন পর্যন্ত ৯ জনের লাশ হাসপাতালে এসেছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে গেছেন মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী মহিবুল হাসান নওফেল।

মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নগরীর মুসাফিরখানা মসজিদে রবিবার আসরের পর দোয়া এবং মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন দিন নগরীর প্রতি ওয়ার্ডে আলোচনাসভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে সকাল থেকে মোট ১৪টি স্থানে একযোগে খতমে কোরআন ও মিলাদ মাহফিল চলছে।

উল্লেখ্য গত বৃহস্পতিবার দিবাগত ভোররাতে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বন্দরনগরীর এই প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনবার নির্বাচিত এই মেয়রের মৃত্যুতে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সব স্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

কীভাবে মানুষ মনে রাখবে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে – মরহুম আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী একেবারে তৃণমূল থেকে উঠে এসে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবং আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এ কারণেই তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করতে সফল হয়েছিলেন বলে বলছিলেন তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা।

চৌধুরীর জানাজায় শুক্রবার হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। কিডনিসহ বিভিন্ন জটিলতায় দীর্ঘদিন ভোগার পর শুক্রবার ভোররাতে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন।

ষাটের দশকে চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ছাত্র থাকাকালীন সক্রিয় রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন মহিউদ্দিন চৌধুরী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির মধ্যে দিয়ে যুক্ত হন ছাত্রলীগের সাথে।

তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। সেসময় তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে একবার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। শেষপর্যন্ত সেখান থেকে পালিয়ে ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।

তার ঘনিষ্ঠজন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জামাল হোসেন বলেন তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এপর্যায়ে এসেছেন।

‘তিনি শ্রমজীবি মানুষের সাথে রাজনীতি করেছেন। তিনি সিটি কলেজের ছাত্র থাকার সময় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। শ্রমিক সংগঠন ও ছাত্র সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মেয়র থাকাকালীন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার বেডরুম পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল। ৯৬-এ তিনি একবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। মুহুর্তের মধ্যে সারা চট্টগ্রামের মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েছিল। প্রশাসন ভেঙে পড়েছিল।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.