ershadh_khaleda

খালেদা-এরশাদ বৈঠকের প্রস্তাব: রাজনীতিতে নতুন জল্পনা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকারের বাইরে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করতে চায় বিএনপি। সরকারেরমন্ত্রিসভায় থাকলেও জাতীয় পার্টির সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী বেগম জিয়া।

সংলাপ প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছেন দলের সিনিয়র নেতারা। তবে জাতীয় পার্টি বলেছে, বেগম জিয়া এরশাদ বৈঠক হলেই কেবল এ ধরনের আলোচনায় তারা সাড়া দেবে।

অন্যদিকে বামফ্রন্ট বলেছে, এ ধরনের বৈঠকের আগে বিএনপিকে জামাতের সঙ্গে ত্যাগ করতে হবে। আগামী বছরের শুরুতেই বিএনপি এই আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী। বিএনপি এবং কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে অর্থবহ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের বাইরে সব রাজনৈতিক দলকে এক ছাতার নিচে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি, যেন সবাই অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি অভিন্ন সুরে উচ্চারণ করে। এই লক্ষ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। ইতিমধ্যেই নবগঠিত যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিএনপি জনগণের রায় মেনে নেবে: ফখরুল

আগামী একাদশ নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে জনগণ যে রায় দেবে তা বিএনপি মেনে নেবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার দুপুরে বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জ ফখরুল বলেন, দেশের গণতন্ত্র আজ পুরোপুরি নির্বাসিত। মানুষ অধিকার হরণ করা হয়েছে। দেশে আজ মানুষের কথা বলার অধিকার নেই। সাংবাদিকদের লেখার অধিকার নেই। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নেই। সরকার বেআইনিভাবে দেশ শাসন করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি স্বাধীনতার ঘোষক ও বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনপ্রবর্তক জিয়াউর রহমানকে। শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করছি অসংখ্য অগণিত মুক্তিযোদ্ধাদের, যারা যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছেন এবং আমাদের এনে দিয়েছেন এই স্বাধীনতা। শ্রদ্ধা নিবেদন করছি সকল মুক্তিযোদ্ধাকে, যারা এই দেশের জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছেন।

তিনি বলেন, ৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম গণতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার পেতে। কিন্তু আজকে দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে ৪৭ বছর পরও আমরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি, লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজকে দেশে গণতন্ত্র পুরোপুরি নির্বাসিত। মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছে। মানুষ এখন স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে না। এবং তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও চলে গেছে। কারণ দুর্ভাগ্য জনকভাবে সরকার আমাদের শাসন করছে বেআইনি ও অনেতিকভাবে। তারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে প্রায় সকল ব্যবস্থা পাকাপোক্তও করেছে।

তিনি বলেন, আজকে আমরা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাথে নিয়ে জাতীয় স্মৃতি সৌধে শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পন করেছি। অর্পন করেছি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার সমাধিতেও। এখানে শপথ নিয়েছি আমরা গণতন্ত্রের জন্য যে লড়াই করছি তা অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত রাখবো। তবে শ্রদ্ধা জানানোর পথে পুরোপুরি প্রতিবন্ধকতা ছিল। বার বার খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর আটকে দেয়া হয়েছে যাতে করে আমরা সময় মতো শ্রদ্ধা জানাতে আসতে যেতে না পারি।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক শক্তির পক্ষে যতটুকু লড়াই সংগ্রাম সম্ভব আমরা তারচেয়েও বেশি করছি। আমরা বার বার গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি। খালেদা জিয়া আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেই আমরা গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছিলাম। পরবর্তীতে ১/১১ অবৈধ ও বেআইনি সরকার ক্ষমতায় আসে। তারপরও খালেদা জিয়ার দৃঢ়তায় কিছুটা হলেও গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছিলাম।

কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই ২০০৮ সাল থেকে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ শুরু করে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মী গুম খুন ও হত্যার শিকার হয়েছেন। প্রায় সাত লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৭৪ হাজার মামলা দেয়া হয়েছে। আমরা লক্ষ্যে অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবো।

onlinenews

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.