alig_bnp

শর্ত দিয়ে দুই দলের মীমাংসা হবে না

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে যে বিরোধ চলছে তা রাজনীতির জন্য অশনি সংকেত। তাদের মধ্যে সমঝোতার লক্ষণ দেখছি না। গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দুই দলের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে সংলাপ প্রয়োজন।

তবে উভয় দলের সদিচ্ছা থাকলে এটি সম্ভব। শর্ত জুড়ে দিয়ে মীমাংসার কথা বললে হবে না। এতে তর্ক সৃষ্টি হবে। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। হায়দার আকবর খান রনো বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপি আওয়ামী লীগের সঙ্গে মীমাংসায় পৌঁছতে চায় বলে মনে হচ্ছে।

তবে এ ব্যাপারে বিএনপির আন্তরিকতা কতটুকু আছে সেটিই বিষয়। অপরদিকে আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা আপাতত চাইছে না। মনে হচ্ছে এ বিষয়ে বিশ্বাস-অবিশ্বাস কাজ করছে।

তিনি বলেন, সুশাসন আর গণতন্ত্র যেটিই বলি এ দুটির বিষয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপি উদাসীন। প্রতিটি নির্বাচনের আগে ও পরে মারামারি-কাটাকাটির ঘটনা ঘটছে। আন্দোলনের নামে নৃশংসতা চলছে। দুই দলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের সম্পদ নষ্ট হয়েছে। নিরীহ মানুষ প্রাণ দিয়েছে। কারাগারে যেতে হয়েছে অনেককে।

এখন সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন বিকল্প বাম গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিপিবি-বাসদসহ সমমনা বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে একটি নির্বাচনী জোট গঠন করা হবে বলে তিনি জানান। এই জোটে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এবং গণতন্ত্রের প্রতি আস্থাশীল অন্যান্য দল যোগ দিতে পারবে।

রনো বলেন, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচনকালীন সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশন এককভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। নির্বাচন কমিশন সরকারের নির্দেশে কাজ করলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা করেও লাভ হবে না। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন করতে হলে নির্বাচনকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আন্তরিকতা থাকতে হবে।

পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোরও আন্তরিকতা থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে তাদের কাজ দিয়ে প্রমাণ করতে হবে কমিশন নিরপেক্ষ। তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আইনের শাসন দরকার। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রয়োজন। দলগুলোর মধ্যে প্রতিজ্ঞা থাকতে হবে অংশগ্রহণমূলক এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তা তারা মেনে নেবে।

হানাহানির রাজনীতি পরিহার করে নীতি ও আদর্শের রাজনীতির চর্চা করতে হবে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে রাজনীতি থেকে নীতি ও আদর্শ নির্বাসিত হয়েছে। এখন রাজনৈতিক কর্মসূচি মানে এক দল আরেক দলের বিরুদ্ধে সমালোচনা করা। সমাবেশে লোক ভাড়া করে আনা। কার কত ক্ষমতা সেটি প্রমাণ করা। টেলিভিশন খুললেই দেখি একদল আরেক দলের সমালোচনা করছে।

এ সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সিপিবি প্রেসিডিয়াম সদস্য রনো আরও বলেন, রাজনীতিকরা সৎ না হলে দেশের উন্নয়ন, সমাজে শান্তি, সুশাসন-গণতন্ত্র কোনোটিই হবে না।

উৎসঃ   বিডি-প্রতিদিন

Check Also

fakhrulll

সরকারের পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে : ফখরুল

‘সরকারের পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে বলেই তারা দলীয় সন্ত্রাস ও দুষ্কৃতকারীদের ওপর ভর করেছে’ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin