mirja_bnp

ডিএমপিকে ফখরুলের ধন্যবাদ

সমাবেশের একদিন আগে অনুমতি দেয়ায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে (ডিএমপি) ধন্যবাদ জানিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে প্রশাসন এবং সরকারি দলের সহযোগিতা চেয়েছে বিএনপি।

শনিবার বেলা ১২টার পরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, অতীতে ১২ ঘণ্টা আগেও সমাবেশের অনুমতি দিয়েছিল ডিএমপি। এবার তারা আমাদের আগেই অনুমতি দিয়েছে। এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।

দীর্ঘ উনিশ মাস পর রাজধানীতে জনসভার আয়োজন করতে যাচ্ছে বিএনপি। এ সমাবেশের মাধ্যমে মাঠের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে চায় দলটি। সে লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতিও নিয়েছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে।

সবশেষ ২০১৬ সালের ১ মে শ্রমিক দিবস উপলক্ষে শ্রমিক সমাবেশ করে বিএনপি। এর আগে ওই বছরের ৫ জানুয়ারি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার সুযোগ পায় দলটি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের দুই বছর পূর্তিতে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে সেই সমাবেশ করে বিএনপি।

বিএনপিকে শর্ত দিয়ে অনুমতি দেয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দেয়া এক বক্তব্যের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘তিনি (ওবায়দুল কাদের) বলেছেন বিএনপি যেহেতু সব সমাবেশে নিজেদের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি করে সেহেতু শর্ত দেয়া হয়। এটা পুরোপুরি মিথ্যা, ভিত্তিহীন। আমাদের সমাবেশে কখনো বিশৃঙ্খলা হয়নি।। বরং তাদের সমাবেশে নিজেদের মধ্যে কোন্দল হচ্ছে, গোলমাল হচ্ছে এমনকি হত্যা পর্যন্ত করছে।’

তিনি ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে অনুরোধ করবো অনুগ্রহপূর্বক ভিত্তিহীন কথা না বলে আমরা যে গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে যাওয়ার জন্য যে চেষ্টা করছি, উদ্যোগ গ্রহণ করছি সেই প্রক্রিয়ায় সরকারি দলকে আনার জন্য চেষ্টা করছি সেই প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে পজিটিভ কথা বলুন। নেতিবাচক-উস্কানিমূলক কথা বলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দয়া করে ব্যাহত করবেন না।’

৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এ সমাবেশ করছে বিএনপি। প্রথমে তারা ৮ নভেম্বর করার কথা বললেও পরে ১০ নভেম্বর শরিবার করার জন্য অনুমতি চায়। পরবর্তিতে নিজেরাই আবার একদিন পিছিয়ে রবিবার করার সিদ্ধান্ত নেয়।

অনুমতির প্রেক্ষিতে ডিএমপির পক্ষ থেকে ২৩টি শর্তে অনুমতি পেল বিএনপি।

সমাবেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনই মূল লক্ষ্য নয় , সেই সঙ্গে চলমান যে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে যে চলমান আন্দোলন সেই আন্দোলনকে আরও সুসংহত করার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার ম্যাসেজ বা বাণী তা জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে শুধু আমরা নই, সচেতন মানুষ মনে করে।

প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সবসময় একটি গণসমাবেশ অনুষ্ঠানে প্রস্তুত থাকে। ইতোপূর্বে দেখছেন আমাদের ১২ ঘণ্টা আগে এমনকি আগের দিন রাতেও অনুমতি দিয়েছে। তারপরও আমরা সফল সমাবেশ করেছি। এবার পুলিশ আমাদের আগের দিন অনুমতি দেয়ায় তাদের ধন্যবাদ জানাই।

তিনি পুলিশ প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের একটি মাত্র অনুরোধ সমাবেশকে শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে বাধাগ্রস্ত করবেন না, গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করবেন না। আপনারাই উস্কানি দিয়ে সমস্যা তৈরি করে কোনো সমস্যার সৃষ্টি করবেন না। কারণ ইতোমধ্যে গত কয়েকদিনে যে ঘটনাগুলো ঘটিয়েছেন তা কিন্তু একটা ভিন্ন অর্থ বহন করে। কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পরই নেতাকর্মীদের ছোঁ মেরে নিয়ে যায়। নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফখরুল সরকারের উদ্দেশে বলেন, গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করবেন না। একটি সুষ্ঠু ও অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে যাওয়ার লক্ষে আমরা যে প্রক্রিয়া শুরু করেছি তা বাধাগ্রস্ত করবেন না। একটি ইনক্লুসিভ ইলেকশন না হলে দায়দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চরম উস্কানির মূলেও ধৈর্য ‌ধারণ করে সমাবেশ সফল করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন।

সমাবেশের শর্ত মানবেন কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আগামী কালকে আমরা সমাবেশ করবো। যে কোনো শর্তেই হোক আর শর্ত ছাড়াই হোক।

দীর্ঘদিন পর সমাবেশ করার অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সমাবেশ করতে চাই। কেন সরকার অনুমতি দিয়েছে সেটা তারা জানেন। তবে একটা কথা সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে তাদের কোনো বিকল্প নেই। গণতান্ত্রিক পরিবেশ তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। নির্বাচনের লক্ষ্যে তাদের একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। জনগণের আশা আকাঙ্খা তাদের পূরণ করতে হবে না হলে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।’

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘নো কমেন্টস। এ ব্যাপারে আমি কিছু আজকে কিছু বলবো না।’

সমাবেশে লোক সমাগম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা এটাকে শোডাউন বলতে চাই না। তবে জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে কাল।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল্লাহ আল নোমান, আহমদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন, হারুন অর রশীদ, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, শরাফত আলী সফু, ফজলুল হক মিলন, শরীফুল আলম ও আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

সূত্র: (ঢাকাটাইমস)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.