manna_nagorik_okko

‘গুম হওয়াদের ফিরে না দিলে রোবট সুফিয়াকে দায়িত্ব দেয়া উচিত’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, আপনি দয়া করে এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ান। তাদের কান্না শোনার চেষ্টা করুন। আপনি যদি এদের দুঃখ মেটাতে না পারেন তাহলে সুফিয়ার মতো রোবটকেই এই দায়িত্ব দিয়ে দেয়া উচিত।

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা এর আয়োজন করে।

তিনি বলেন, দেশে গুম-খুন বন্ধ হচ্ছে না। এজন্য সরকারই দায়ী। আরেকটি কারণ হচ্ছে বিচার বিভাগের নিস্ক্রিয়তা।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনিও স্বজনদের হারিয়েছেন। তাই স্বজন হারাদের কষ্ট আপনারই সবচেয়ে ভালো বোঝার কথা। কিন্তু আপনি কেন তাদের কান্না শুনতে পাচ্ছেন না? মানবতার নেত্রী হিসেবে আপনি পরিচিতি পাচ্ছেন। তাই এ স্বজনহারা মানুষগুলোর কষ্ট লাঘবে আপনাকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

ফরহাদ মজহারের অপহরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফরহাদ মজহার ভাগ্যবান যে তিনি ফিরে আসতে পেরেছেন। পুলিশ-র‌্যাব সক্রিয় ছিল বলেই তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তারা যদি সক্রিয় না থাকতো তাহলে হয়তো আজ মজহারের লাশ মিলতো, নয়তো তাকেও পাশের কোনও দেশে পাওয়া যেত।

সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজদের স্বজনরা জানান, ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ আটজনকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে গুম করা হয়। দীর্ঘ চার বছর পরও তাদের সন্ধান মেলেনি। তাই নিখোঁজদের পরিবার ‘মায়ের ডাক’ ব্যানারে প্রতি বছরই এই সংবাদ সম্মেলন করে আসছে।

নিখোঁজ বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বড় বোন মারুফ ইসলাম ফেরদৌসী বলেন, আমাদের স্বজন হারানোর দায় কি কেউ নেবে না। কেউ কি তাদের খোঁজ দেবে না। চার বছরে অন্তত ২০ বার ভাইকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। আমরা আর পারছি না, আপনারা আমাদের পাশে দাঁড়ান।

সুমনের আরেক বোন সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, ‘ভাইয়ের সন্ধানে যখন প্রশাসনের কাছে গেলাম তখন তারা প্রশ্ন করেছিল আপনার ভাই কি রাজনীতিতে জড়িত ছিল। প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়ে তারা কীভাবে এই প্রশ্ন করেন তা আমার বোধগম্য নয়। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আর ফেরার উপায় নেই। প্রতি মুহূর্তে ভয়ে থাকি আমার ভাই কোন টর্চার সেলে আছে। তাকে না জানি কত টর্চার করা হচ্ছে। এটা কোনও মগের মুল্লুক না যে যখন যাকে ইচ্ছা ধরে নেয়া হবে, পরে লাশ মিলবে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদে এখন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

নিখোঁজ সূত্রাপুর থানা ছাত্রদলের সভাপতি সেলিম রেজা পিন্টুর বোন রেহানা বানু মুন্নি বলেন, আমরা পুলিশের কাছে গিয়েছি কিন্তু ভাইয়ের কোনও সন্ধান পাইনি। মামলাটি এখন সিআইডিতে আছে, তারাও কোনও কূল কিনারা করতে পারেনি। এখন শুধু প্রধানমন্ত্রীই পারেন আমাদের সাহায্য করতে। তাই তাকে বলতে চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি মাদার অব হিউম্যানিটি, আমাদের কান্না দেখুন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, আইনজীবী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ নিখোঁজ ১৪ জনের পরিবারের সদস্যরা।

উৎসঃ   আরটিএনএন

Check Also

‘হাজী’ পরিবারের বিস্ময়কর উত্থান

পিতার দুই সংসারের দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান তিনি। অভাব-অনটনে বেড়ে ওঠা। অর্থভাবে লেখাপড়া করতে পারেননি। কিশোর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin