খালেদার ফেরার পথে বিক্ষোভ-আগুনে উত্তাল বঙ্গবাজার এলাকা

রাজধানীর হাইকোর্ট ক্রসিংয়ের সামনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুর্নীতির দুই মামলায় আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হাজিরাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। বিএনপির নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে বাধা দেয় পুলিশ, এরপরই শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

পুলিশের ওপর ইট-পাটকেলও নিক্ষেপ করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। পরে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বঙ্গবাজারের সামনে ভাঙচুর ও যানবাহনে (মোটরসাইকেল) আগুন দেন বিএনপি সমর্থকরা। ঘটনাস্থল থেকে ৭ বিএনপি নেতাকর্মীকে আটকও করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার জাগো নিউজকে বলেন, খালেদা জিয়ার আদালত থেকে ফেরার সময় সচল রাস্তা অচল করে অবস্থান নেয় ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। রাস্তা থেকে অবস্থান সরিয়ে নেয়ার কথা বললে তারা পুলিশের উপর ইটপাটকেল মারতে শুরু করে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ছোড়া হয়। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তারা বঙ্গবাজারের দিকে চলে যায়।

শাগবাগ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস জাগো নিউজকে জানান, পুলিশের ওপর হামলা, ভাংচুর ও রাস্তা অবরোধ করে যানচলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির অপরাধে ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।

জাগোনিউজের ফটো সাংবাদিক বিপ্লব দীক্ষিত জানান, বঙ্গবাজারের সামনের সড়কে যানবাহনে ভাংচুর ও বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। সেখানে তারা একটি মোটরসাইকেল আগুন দেন। পরে খবর পেয়ে সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। সেখানেও বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

আদালতে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি : খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের অসমাপ্ত বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। সেইসঙ্গে আদালতে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। বিচারককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমি এই মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি এবং আপনার আদালতে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।’

আজ (মঙ্গলবার) বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে শেষ দিনের বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন তিনি।

খালেদার বক্তব্য শেষে আদালত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ১৯, ২০ ও ২১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। অপরদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাফাই সাক্ষীর জন্য একই দিন ধার্য করেন এবং খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত বক্তব্য জমা দেয়ার জন্যও একই দিন ধার্য করেন।

বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, ‘মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন অর রশীদ নিরপেক্ষতার বিধান লঙ্ঘন করে কোনো রুপ দালিলিক প্রমাণ ছাড়া ১৫ দিনের মাথায় আমার বিরুদ্ধে একটি হয়রানিমূলক ও মিথ্যা রিপোর্ট দাখিল করেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি নিরপেক্ষ থাকলে এ রুপ অনুমান নির্ভর সাক্ষ্য দেয়ার সুযোগ থাকতো না।

তিনি বলেন, ‘আমাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার অপপ্রয়াস হিসেবে অনুমান নির্ভর ও কাল্পনিক অভিযোগে এই মামলায় মিথ্যা বর্ণনায় আমাকে জড়ানো হয়েছে। আমাকে, জিয়া পরিবার ও বিএনপিকে হয়রানি করার প্রয়াস হিসাবে এ মামলাটি করা হয়েছে। জিয়া অরফানেজের সঙ্গে আমি কোনোভাবে জড়িত নই।’

আজ (মঙ্গলবার) বেলা সোয়া ১১টার দিকে জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালত খালেদার জামিন এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যুক্তি উপস্থাপন উত্তোলনপূর্বক আত্মপক্ষ সমর্থনের আবেদন মঞ্জুর করেন।

তবে আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবীরা আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য দিতে আবেদন করলে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বিরোধিতা করেন। আদালতে তিনি আবেদন করেন, ‘সাত-সাতদিন তিনি (খালেদা জিয়া) বক্তব্য দিয়েছেন, আর কত? তার লিখিত বক্তব্য নেয়া হোক।’

আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে বলেন, ‘আজকেই তাকে (খালেদা জিয়া) শেষ সুযোগ দেয়া হচ্ছে। আজকেই (মঙ্গলবার) তাকে বক্তব্য শেষ করতে হবে। শেষ করতে না পারলে লিখিত আকারে দিতে হবে।’ পরে আদালতে খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দেয়া শুরু করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর সাবেক নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

এছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

jagonews24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.