bnp-flag

বামে ঘেঁষল বিএনপি?

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বাম দলগুলো হরতাল ডেকেছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল। আর এই হরতালে হঠাৎ করেই সমর্থন দিয়ছে বিএনপি। এই নিয়েই জনমনে প্রশ্ন, তবে কী বিএনপি বামে ঘেঁষল। একই সঙ্গে আতঙ্ক, বিএনপি যুক্ত হলে হরতাল কেমন হবে?

গত সপ্তাহে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর ৩০ নভেম্বর সারাদেশে আধাবেলা হরতাল ডাকে সিপিবি, বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা। জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে হরতাল। তাই বাম দলগুলো সাধারণের জনসমর্থন আশা করেছিল। তবে কর্মসূচির মাত্র একদিন আগে হরতাল সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিএনপির মনোভাবের কথা জানায়। এমন ঘোষণার জনগণের দাবির স্থলে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যই দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।

স্মরণকালের ইতিহাসে জনস্বার্থের কোনো আন্দোলনে বিএনপির সংশ্লিষ্টতা নেই। রোহিঙ্গা সংকট এলো। শুরুতে সরকারের সমলোচনা করলেও রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে গঠনমূলক কোনো কিছুর ধারে কাছে ছিল না বিএনপি। দেশে দ্রব্যমূল্য সংকট এলো-গেলো। সেখানেও নীরব দেশের অন্যতম বৃহৎ বলে নিজেদের দাবি করা দলটি। আর বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির পর এক সপ্তাহ কেটে গেল কোনো উচ্চবাচ্য নেই। সব গলাবাজির বিষয়বস্তু নির্বাচনকেন্দ্রিক। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বামদের আন্দোলনে নিজেদের সমর্থন দিয়ে সংবাদমাধ্যমে জায়গা করে নেওয়া। আসলেই কি এই সমর্থন জনস্বার্থে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বামদের হরতালের বিএনপির সমর্থনের ঘোষণা মানেই এই নয় জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতি বিএনপি সমর্থন জানাচ্ছে। বরং শেষ মুহূর্তে বামদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে জনসংশ্লিষ্টতার তকমা লাগালো বিএনপি। আর বিএনপি কোনোভাবেই এই ঘোষণার মধ্যে দিয়ে বামে ঘেঁষেনি। বরং বামদের আন্দোলনের ‘ক্রেডিট’ নিল মাত্র।

আরেকটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, বিএনপির সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে জনগণ থেকে কী আরও দূরে গেল বামরা? বাম দলগুলোর হরতাল একটি বিশেষ ঘরানার বলেই দেশে পরিচিত। এখানে প্রতিবাদ বিক্ষোভ থাকলেও কোনো সহিংসতা থাকে না। তবে বিএনপি হঠাৎ সমর্থনে এখন জনমনে ভীতি কাজ করছে। অনেকের আশঙ্কা, তবে কী আবার চার বছর আগের দৃশ্য ফিরে আসবে?

অবশ্য কারও কারও মতে, বামদের আন্দোলনে সমর্থন ঘোষণা করলেও কজন বিএনপি সমর্থককে মাঠে দেখা যাবে তা নিয়ে যথেষ্ঠ প্রশ্ন আছে। তাদের (বিএনপি) কোনো আন্দোলনের সক্ষমতা থাকলে তার নিদর্শন অনেক আগেই দেখা যেত। অবশ্য আাগামী কালই বোঝা যাবে হরতালে বিএনপির সমর্থন মানে কী?

বাংলা ইনসাইডার

Check Also

fakhrulll

সরকারের পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে : ফখরুল

‘সরকারের পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে বলেই তারা দলীয় সন্ত্রাস ও দুষ্কৃতকারীদের ওপর ভর করেছে’ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Share
Pin