dudu

রাস্তায় দুইদিন অবস্থান নিলেই গণঅভুত্থ্যান হয়ে যাবে: দুদু

‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্যই বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন’ বলে মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু। রবিবার রাজধানীতে এক আলোচনায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান দুদু এ মন্তব্য করেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন পালনে এই আলোচনার আয়োজন করে বিএনপিপন্থী সংগঠন জিয়া পরিষদ।

তিনি বলেন, ‘৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ইউনেস্কো স্বীকৃতি দেয়ায় তা উদযাপনের কোনো কারণ নেই। কোন কালে কে বক্তৃতা করেছিল, তা নিয়ে এতো মাতামাতি!’ এ বক্তব্যে স্বাধীনতার কিছু ছিল না।

এ সময় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ নিয়ে কথা বলেন। ওই ভাষণে বঙ্গবন্ধু ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলে যে ডাক দিয়েছিলেন তা স্বাধীনতা অর্জনের পথে অতীব গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়। ৪৬ বছর পর এই ভাষণকে ইউনেস্কো বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতির পর নানা কর্মসূচি পালন করেছে আওয়ামী লীগ ও তার সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা। সর্বশেষ শনিবার দেশজুড়ে আনন্দ শোভাযাত্রা এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনের সমালোচনা করে দুদু বলেন, ‘কবে কোন কালে কে বক্তৃতা করেছিল, তা নিয়ে কি মাতামাতি? সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাস্তায় নামিয়ে নৃত্য করতে বাধ্য করা হলো। এর ফল ভালো হবে না।’

বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে দুদুর দাবি, ওই ভাষণে এমন কিছু ছিল না। তিনি বলেন, ‘৭ মার্চের ওই ভাষণ ছিল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য, স্বাধীনতার জন্য নয়। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিল জিয়াউর রহমান।’

২৭ মার্চ জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করার আগে তাকে কেউ চিনত না বলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বক্তব্যেরও জবাব দেন দুদু। তিনি বলেন, ‘তোফায়েল আহমেদ বলেন তিনি নাকি জিয়াকে চেনেন না, না চিনলে সেটা আপনার ব্যর্থতা।’

আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে করারও দাবি জানিয়ে দুদু বলেন, যেন তেন নির্বাচনে বিএনপি যাবে না। আর যে পরিবেশ দরকার তার ব্যবস্থা করেই তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন। এই সরকারকে ধাক্কা দেয়ার জন্য নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘রাস্তায় নামলেই গণঅভ্যুত্থান হয়ে যাবে। দেশে যে ভয়ঙ্কর নির্যাতন চলেছে, রাস্তায় দুইদিন অবস্থান নিলেই গণঅভুত্থ্যান হয়ে যাবে।’

উৎসঃ   আরটিএনএন

গণতন্ত্র গভীর খাদের কিনারে : খালেদা জিয়া

গণতন্ত্র আবারও গভীর খাদের কিনারে গিয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারও গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় দুঃশাসনের করাল গ্রাস গিলে ফেলেছে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথচলা। গণতন্ত্রের শত্রুরা গণতন্ত্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ফেলেছে।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে সোমবার সকাল ৭-৩০টায় বাংলাদেশ বিএনপি এবং ৯০’র ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের উদ্যোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্ত্বরে শহীদ ডা: শামসুল আলম মিলন এর কবর এবং টিএসসি মোড়ে মিলন চত্তরে সকাল ৮-০০টায় পুস্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। পুস্পার্ঘ্য অর্পণ অনুষ্ঠানে বিএনপি এবং ৯০’র ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

শহীদ ডাঃ মিলন দিবস উপলক্ষে রোববার দেয়া বাণীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা অপহরণ করা হয়েছে। মানুষের জীবন এখন দুর্বিষহ। মানুষের কথা বলা ও ভোটের অধিকার হরণ করে অতীতের বাকশাল এখন নবসংস্করণে ভয়াল রুপ ধারণ করেছে। গণতন্ত্র ধ্বংসকারী অপশক্তিগুলোর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিতে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গণতন্ত্রকে মজবুত ভীতের ওপর দাঁড় করাতে হবে। আর তাহলেই ডাঃ মিলনের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, শহীদ ডাঃ শামসুল আলম খান মিলন সামরিক শাসন বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় নাম। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের লেলিয়ে দেয়া পেটোয়া বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন তিনি। গণতন্ত্রের জন্য তার এই সর্বোচ্চ আত্মদান এদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সকল কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরাচারী গণতন্ত্র বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে ডা: মিলন আমাদের অবিরাম প্রেরণার উৎস।

শহীদ ডাঃ মিলন দিবস উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনুরুপ বাণী দিয়েছেন।

আস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.